নগরীতে শিশু খুনের ঘটনায় দুইজন গ্রেফতার

imagesচট্টগ্রাম: নগরীর পাঁচলাইশ থানার মোহাম্মদপুরে নৃশংসভাবে দশ বছরের শিশু আসাদুলকে খুনের ঘটনায় বুধবার নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যটেলিয়ান (র‌্যাব)।

গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন হলেন বাবু (২৪) ও সায়েম (২২)।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পুলিশ সুপার সোহেল মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে মোহাম্মদপুরে মোবারক আলী সড়কের টুনু মুন্সীর বাড়ির সামনে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে মোমবাতি কিনতে রাস্তায় বের হয়ে নৃশংস মৃত্যুর শিকার হয় আসাদুল মিয়া। দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিষ্পাপ এ শিশুর মাথার খুলি উড়ে যায়। মগজ বেরিয়ে লেপ্টে থাকে রাস্তায়-ভবনের দেয়ালে।

খুনের শিকার শিশু আসাদুল ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার সর‍াইল উপজেলার দামুড়া গ্রামের প্রয়াত মোক্তার মিয়ার ছেলে। নগরীর মোহাম্মদপুরের মোবারক আলী সড়কে টুনু মুন্সীর বাড়ির সামনে বাবর কলোনিতে তার চাচার মো. সুমনের বাসা। একই এলাকায় সুমনের একটি চা দোকান আছে।

সুমন জানান, চারদিন আগে আসাদুলকে বাড়ি থেকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন সুমন। তার ইচ্ছা ছিল আসাদুলকে আগামী বছর স্থানীয় স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করে দেবেন।

পুলিশ সূত্র ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার লোকজন জানান, চান্দগাঁও থানার খতিবের হাট এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন প্রকাশ টেম্পু আগে ওই এলাকায় চাঁদাবাজি করত। ২০১৪ সালের ১১ এপ্রিল পুলিশের সঙ্গে টেম্পুর বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে টেম্পু গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার হয়।

টেম্পুর অবর্তমানে তার বাহিনীর হাল ধরে ভাই সোহাগ। দোকানদার দেলোয়ার শেখের সঙ্গে সোহাগের শত্রুতা ছিল। গত বছর শবে মেরাজের দিন সোহাগের ক্যাডারেরা দেলোয়ার শেখের দোকানের পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকে রেখে চাঁদা দাবি করে।

দেলোয়ার শেখ বিষয়টি স্থানীয় সূর্যোদয় ক্লাবকে অবহিত করে। সেদিন এলাকায় খাজা বাবার ওরশ মাহফিল ছিল। ওই ক্লাবের সদস্যরা সোহাগের ক্যাডার বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে ইউনিলিভার সোসাইটির সামনে এক দফা গোলাগুলি হয়। এ নিয়ে সোহাগের ক্যাডারেরা দেলোয়ার শেখের উপর ক্ষিপ্ত হয়।

সপ্তাহখানেক আগেও সোহাগের ক্যাডারেরা দেলোয়ার শেখের কাছ থেকে চাঁদা নেয়। চাঁদা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তারা দেলোয়ার শেখকে খুন করতে এসেছিল এবং মিস ফায়ারে শিশু আসাদুল খুন হয় বলে এলাকার লোকজন ও পুলিশের ধারণা।

এদিকে হত্যাকান্ডের ঘটনায় আসাদুলের চাচা সুমন মিয়া বাদি হয়ে বুধবার (৩ জুন) পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।