পৃথিবী বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে, আর মানুষই সবচেয়ে ঝুঁকিতে

112268_1

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবী বিলুপ্তির প্রায় দ্বারপ্রান্তে আর এই মহাবিপর্যয়ের প্রথম ও সবচেয়ে বেশি শিকার হবে মেরুদণ্ডী প্রাণী। আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে স্তন্যপায়ী প্রাণীরা।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে প্রিন্সটন এবং বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয় এক বলা হয়েছে, স্বাভাবিকের তুলনায় মেরুদন্ডী প্রাণীরা ১১৪ গুণ দ্রুত হারে অদৃশ্য হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, পৃথিবী যে পথে হাঁটছে, তাতে বিপদঘণ্টা প্রায় আসন্ন। মার্কিন গবেষকদের দাবি, পৃথিবী আরেকটি গণবিলুপ্তির দিকে এগোচ্ছে।

তাদের এই গবেষণা প্রকাশ করেছে বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স এ্যাডভান্সেস। গবেষণা বলছে, এক সময়ের দাপুটে প্রাণী ডাইনোসর যেভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, এ রকম বিলুপ্তির প্রথম শিকার হবে পৃথিবীর সব মানুষ।

গবেষক দলের প্রধান স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী গেরার্ডো সেবালোস বলেছেন, ‘যদি এ রকম চলতে থাকে, তাহলে জীবন স্থিতি হতে লাখ লাখ বছর লেগে যাবে। আর যথাসম্ভব আমাদের প্রজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে প্রথমেই।’

পৃথিবীতে এ রকম গণবিলুপ্তির ঘটনা সর্বশেষ ঘটেছিল সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে। বিশাল এক উল্কা আঘাত হেনেছিল পৃথিবীকে। আর তাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল ডাইনোসররা ।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল আরলিক বলেছেন, ‘বিশ্বব্যাপী অনেক প্রজাতিই ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে।’

প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংঘ আইইউসিএন এক পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, প্রতি বছর ৫০ প্রাণী বিপন্ন হচ্ছে। ঝুঁকিতে প্রকৃকির মেরুদণ্ড শীর্ষক এক প্রতিবেদনে আইইউসিএন বলেছে, প্রায় ৪১ শতাংশ উভচর প্রাণী ও ২৫ ভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণী বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

গবেষণা প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯০ সালের পর থেকে চার শতাধিক মেরুদণ্ডী প্রাণী নিশ্চিহ্ন হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের সময় প্রতি ১০ হাজার বছরে একবার আসে।

সায়েন্স এ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রবন্ধে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ ও বন উজাড় করার কারণে এই গণবিলুপ্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন, এ রকমটা চলতে থাকলে আগামী তিন প্রজন্মের মধ্যে মৌমাছির পরাগায়ন নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে।
নতুন গবেষণা প্রবন্ধের লেখকরা অবশ্য বিপদ এড়ানোর একটা উপায় বাতলে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘জীববৈচিত্র্যের নাটকীয় অবক্ষয়’ এড়াতে হলে সেভাবে প্রকৃতি সংরক্ষণে এখনই উদ্যোগী হতে হবে।