ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট

High_Court_Wheat_530827092

চট্টগ্রাম অফিস: ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম খাবারের যােগ্য কি-না তা পরীক্ষা করে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এর আগে ব্রাজিল থেকে আমদানি করা পচা ও নিম্নমানের গম আমদানিতে অনিয়ম-দুর্নীতি দুদকের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে রবিবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন একজন আইনজীবী পাভেল মিয়া ।

রিটে বিবাদী করা হয়েছে, খাদ্য সচিব, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ স্টান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানকে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

আগামী ৫ জুলাই আবেদনটি আবার হাইকোর্টের কার্যতালিকায় আসবে।

রিট আবেদনে গম নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করা হয়।

পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গমের মান নিয়ে খাদ্য অধিদফতর থেকে আপত্তি তোলা হয়েছিল। ব্রাজিলের কৃষি মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনো বিভাগ এর মান নিয়ে কোনো সনদ দেয়নি। বন্দরে অবস্থানকারী খাদ্য অধিদফতরের রসায়নবিদেরা এই গমের বেশ কয়েকটি চালানকে ‘বি’ ক্যাটাগরির বা মাঝারি থেকে নিম্নমানের হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন’।

‘এসব জেনেও খাদ্য অধিদফতরের তৎকালীন মহাপরিচালক সারোয়ার খান চট্টগ্রাম বন্দরে আসা ওই গমের ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশ দেন। অধিদফতরের আমদানি সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত, চিঠি ও পর্যালোচনা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে’।

‘এই গম আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রেশন হিসেবে সরবরাহের পর এর মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পুলিশের সব বিভাগীয় কার্যালয় এই গমকে নিম্নমানের এবং খাওয়ার অযোগ্য হিসেবে বর্ণনা করে একাধিকবার চিঠি দেয়। তার পরও খাদ্য মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই বারবার বলছে, এই গম অখাদ্য নয়। খাদ্যমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যেও তাই বলেছেন। গত বুধবার খাদ্য মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে একই কথা বলেছে।’

‘ব্রাজিল থেকে গম নিয়ে ‘এমভি স্যাম উলভ’ নামের একটি জাহাজ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরে এলে বন্দর কর্তৃপক্ষ চুক্তি অনুযায়ী অনুমতিপত্র ও নথি দেখতে চায়। তৎকালীন মহাপরিচালক ওই গম খালাসের জন্য অনুমতি দিতে বললে খাদ্য অধিদফতরের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক লিখিতভাবে বলেন, ‘ব্রাজিলের কৃষি মন্ত্রণালয় ও বণিক সমিতি রফতানিকৃত গমের নিশ্চয়তাপত্র দেয় না। তাই এই গম খালাস করার সুযোগ না দেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি’।