চট্টগ্রামে হাটহাজারী উপজেলায় আ’লীগ নেতার মৃত্যু, তিন নেতাকে দূষছে পরিবার

AL_lider_ctg_456059595

চটগ্রাম অফিস:
চট্টগ্রামে হাটহাজারী উপজেলায় এম এ রহিম নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার উপর হামলা এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুর ঘটনায় একই দলের তিন নেতাকে দায়ী করেছে তার পরিবার। তবে অভিযুক্ত নেতাদের পক্ষ থেকে রহিম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। উত্তর জেলার এক নেতার ইন্ধনে হাটহাজারী উপজেলা আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ তোল‍া হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
২৮ জুলাই মঙ্গলবার রহিমের ভাই অ্যাডভোকেট মো.তসলিম উদ্দিন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিন নেতাকে দায়ী করেন। অভিযুক্ত তিন নেতা হলেন, হাটহাজারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন নোমান, নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক মো.সেলিম উদ্দিন এবং নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.এনামুল হক।

প্রয়াত এম এ রহিম নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।
হাটহাজারীর রাজনীতিতে তিনি উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিডিএ’র বোর্ড সদস্য ইউনূস গণি’র অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অভিযুক্ত নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.এনামুল হকসহ অন্যরা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালামের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

হামলার ঘটনায় এম এ রহিম নিজেই হাটহাজারী থানায় হাজির হয়ে একটি মামলা করেছিলেন যাতে এনামুল হকসহ নয়জনকে আসামি করা হয়। মামলা নম্বর ৫ (০৭) ২০১৫।

গত ৩ জুলাই নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন এম এ রহিম। তার উপস্থিতির পর সেখানে গন্ডগোল সৃষ্টি হলে থানা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসি গিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করেন। এতে ইফতার মাহফিল পন্ড হয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে তসলিম অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের ইফতার মাহফিল পন্ড হওয়ার পর রহিম বাড়িতে এসে ইফতার করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি নগরীর বাসায় সিএনজি অটোরিক্সাযোগে ফেরার পথে সরকারহাট বাজারে সেলিম-নোমান ও এনামের গুন্ডাবাহিনী তার উপর আক্রমণ করে। এসময় রহিমের পিঠে ও বুকে আঘাত করা হয়।

তসলিম বলেন, ‘শরীরে আঘাতের কারণে তিনি মানসিকভাবে খুবই কষ্ট পান। নিজের দলের লোকজন তার উপর আঘাত করতে পারেন এটা তিনি কখনও ভাবেননি। শারীরিক আঘাত এবং সীমাহীন মনোকষ্ট নিয়ে ১৫ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে রহিম পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। ’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র মানসিক আঘাতের কারণে রহিম মারা গেছেন এমন নন। হামলায় আঘাতের কারণে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে বলেছিলেন। কিন্তু এর আগেই তিনি মারা গেছেন। ’

তবে হামলায় রহিম আহত হয়েছেন বলে দাবি করলেও রহিম নিজেই আবার হাটহাজারী থানায় গিয়ে মামলা দায়েরের বিষয়টি বাংলানিউজের কাছে স্বীকার করেছেন তসলিম।

সংবাদ সম্মেলনে তসলিম অভিযুক্ত তিন নেতাকে দল থেকে বহিস্কারের দাবি জানান।

তবে অভিযুক্ত তিন নেতার মধ্যে সেলিম উদ্দিন উত্তর জেলা আওয়‍ামী লীগ নেতা ইউনূস গণি’র ইন্ধনে তাদের বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেছেন।

সেলিম বলেন, রহিম এবং এনামুলের মধ্যে গ্রুপিং আছে। ঘটনার দিন সরকারহাটে প্রথমে এনামুলের লোকজনের উপর রহিমের লোকজন হামলা করে। পরে দু’পক্ষে মারামারি হয়েছে। কিন্তু রহিম আহত হবার মত কোন ঘটনা ঘটেনি। আর রহিম যদি আহত হতেন তাহলে তিনি থানায় গিয়ে মামলা করলেন কিভাবে? ঘটনার পর তিনি থানা থেকে শহরে গেছেন। পরে আবার এলাকায় এসে তার যে বেকারি আছে সেখানে বসে দিব্যি ব্যবসা করেছেন।

তিনি বলেন, ঘটনার ১৩দিন পর ইউনূস গণি একজন সুস্থ মানুষকে নিয়ে ক্লিনিকে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন। সেখানে মাননীয় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সাহেব তাকে দেখতে যান।
মন্ত্রী দেখে যাওয়ার পর তিনি আবার হাসপাতাল ছেড়ে চলে আসেন। শবে কদরের নামাজও আদায় করেছেন তিনি। পরদিন বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ক্লিনিকে নেয়া হয়। চিকিৎসক বলেছেন, তিনি বাসাতেই মারা গেছেন। এখন প্রচার করা হচ্ছে তিনি নাকি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

সেলিমের দাবি, এম এ রহিম হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিপুল হুন্ডির টাকা হারিয়ে তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। সেই মানসিক যন্ত্রণা থেকেই তিনি এপ্রিল মাসেও একবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা হুন্ডি ব্যবসায়ী, স্বর্ণ চোরাচালানিদের মাধ্যমে হাটহাজারীর পরিচ্ছন্ন নেতাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপরাজনীতি শুরু করেছেন বলে দাবি সেলিমের।

তসলিমও জানিয়েছেন, গত এপ্রিলে একবার রহিম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাকে ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছিল। চিকিৎসক তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলেছিলেন।

‘যদি আমার ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত হতেন, তাহলে কি সঙ্গে সঙ্গে মারা যেতেন? দু’তিন ঘণ্টা সময় তো আমরা পেতাম। ’ সেলিমের বক্তব্যের জবাবে বলেন তসলিম।

এর আগে রহিমের মৃত্যুর পর হাটহাজারী থানার ওসি মো.ইসমাইল জানিয়েছিলেন, রহিম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নাকি হামলায় আহত হয়ে মারা গেছেন সেটি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ ।