নগরীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কারখানাসহ বাসায় গ্যাসের তীব্র সংকট

নগরীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কারখানাসহ বাসায় গ্যাসের তীব্র সংকট
নগরীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কারখানাসহ বাসায় গ্যাসের তীব্র সংকট

এ,এইচ,এম সুমন চৌধুরী:
নগরীতে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। এছাড়া গ্যাসের চাপও অনেক কম।জ্বলছেনা রান্নার চুলা। গ্যাসের অভাবে বন্ধ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সংকটে পড়েছে কয়েক’শ শিল্প কারখানা।এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে রোববার থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে আবাসিক গ্রাহকরা পড়েছেন দূর্ভোগে।
গ্যাস সংকটে রড-সিমেন্ট তৈরির মতো বড় কারখানার পাশাপাশি ছোট ছোট ১৬৩টি বিদ্যু‍ৎ কেন্দ্রের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিদের বিভিন্ন সংগঠন গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্তত একশ ভারী ও মাঝারি শিল্প কারাখানা সংকটে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল স্টিল এবং রি-রোলিং মিল, তৈরি পোষাক এবং কাঁচ শিল্পে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন। গ্যাসের অভাবে রাউজান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোন রকমে চললেও শিকলবাহা ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।
তবে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার এ সংকট দেখা দিয়েছে ।

কেজিডিসিএল’র হিসাব মতে, চট্টগ্রামে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৪৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে ২৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২৪২ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ কমে যাওয়ার এ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ
করছে। এছাড়া গ্যাসের চাপও অনেক কম।

নগরীতে শিল্পকারখানার মালিকদের নিজস্ব উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ছোট ছোট ১৬৩ টি ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট, ৬২টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭০৩ আবাসিক গ্রাহক রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড’র মহাব্যবস্থাপক(ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস) খন্দকার মতিউর রহমান বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে কেজিডিসিএল গ্যাস পেয়েছে মাত্র ২৪২ মিলিয়ন ঘনফুট।

আশকার দিঘীর পাড় এলাকার গৃহিনী সেলিনা আক্তার বলেন,‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চুলা জ্বালানো যাচ্ছে না। গ্যাস না থাকায় হোটেল থেকে খাবার কিনে এনে খেতে হচ্ছে।’

গ্যাসের চাপ না থাকায় সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন সিএনজি চালিত গাড়ির চালকরা।

প্রাইভেট কার চালক জামাল উদ্দীন বলেন,‘এমনিতে দিনে ছয়ঘণ্টা বন্ধ থাকে। কয়েক ঘণ্টা সিএনজি স্টেশনগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও সিএনজি না নিয়ে ফিরে আসতে
হয়েছে। এখন তেল দিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।’