২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বন্ধুকে বন্ধুর বউদান !

Wednesday, 30/09/2015 @ 11:11 pm

বন্ধুকে বন্ধুর বউদান !

বন্ধুকে বন্ধুর বউদান !

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: বন্ধুত্বের সর্ম্পকটা বড়ই মধুর। যে সর্ম্পকের মধ্যে কোন-বাধা ধরার নিয়মনীতি নেই। বন্ধুর সুখে সুখী, বন্ধুর দুঃখে দুঃখী-এই তো বন্ধুত্বের নিয়ম। বন্ধুর জন্য বন্ধুকে এই জগতে অনেক কিছুই করতে হয়। বন্ধুর বিপদে আপদে-বন্ধুই সবার আগে এগিয়ে আসে। একে-অপরকে এই জগতে কতকিছুই না দান করে। বাড়ি-গাড়ি, ধন-সম্পদ আরো কতকিছু। রক্তের সম্পর্কের স্বজনদের মধ্যে এসব দান করা হয় হরহামেশাই। খুব কাছের কোনো বন্ধুকে এমন দান করাটা কদাচিৎ হয়তো দেখা যায়। কিন্তু তাই বলে বন্ধুর কষ্ট মোচনে নিজের বিয়ে করা বউকে দান করে দেয়ার ঘটনা এই জগতে তেমন একটা দেখা বা শোনা যায়নি। যদি কোন কখনো এই ধরনের ঘটনা কাকতালীয় ভাবে ঘটনাও যায় তাহলে রীতিমত অবাক হওয়ারই বিষয়। আর সেই কাকতালীয় এবং অবাক করার বিষয়টি ঘটেছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা কাজী অফিসে।
বন্ধুর দুঃখে দুঃখী হয়ে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ফরমান আলী ওরফে বৈজ্ঞানিক (৫২) নামে এক ব্যক্তি নিজের বউকে বন্ধুর হাতে তুলে দিয়েছেন। ২০ হাজার টাকা কাবিননামা সাব্যস্ত করে চারজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ওই বিয়ে পড়ানো হয়।
ফরমান আলীর উপস্থতিতে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নূরেতুন বেগম (৩২) গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কাজী অফিসে স্বামীর বন্ধু মাসুক মিয়াকে (৩৭) স্বামী হিসেবে বরণ করে নেন। রাতেই মাসুক মিয়া তার নতুন বউকে নিয়ে জয়পাশায় তার নিজ বাড়িতে ওঠেন।
ফরমান আলী কর্মধা ইউনিয়নের মনছড়া বস্তির বাসিন্দা ও তিনি স্থানীয় একটি নার্সারীর মালিক। আর মাসুক মিয়া হবিগঞ্জের মনতলার বাসিন্দা। তিনি রিক্সা চালক। তিনি কুলাউড়া পৌরসভার জয়পাশা এলাকায় বসবাস করেন।
স্থানীয়রা হোটেল ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, মাসুক মিয়ার সঙ্গে ফরমান আলীর দীর্ঘদিনের গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। কিছুদিন আগে মাসুক মিয়ার স্ত্রী তিন মেয়ে আর এক ছেলে রেখে পরকীয়া প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে চলে যায়। ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বন্ধুর কষ্টে একা করে বউয়ের চলে যাওয়া ফরমান আলীর মনে দাগ কাটে। তার ঘরে দুই বউ থাকায় তিনি পরিকল্পনা করেন বন্ধুকে উপহার স্বরূপ তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে দিয়ে দেবেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ। তার পরিকল্পনার কথাটি বন্ধু মাসুক মিয়াকে জানালে তিনি খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠেন।
দিনক্ষণ ঠিক করে পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ফরমান আলী তার দ্বিতীয় স্ত্রী নূরেতুন বেগমকে নিয়ে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজারে কাজী অফিসে গিয়ে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি নূরেতুনকে তালাক দেন। একই সময়ে চারজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ২০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে বন্ধু মাসুক মিয়ার সঙ্গে নূরেতুন বেগমের বিয়ে দিয়ে দেন। নতুন বউকে নিয়ে মাসুক মিয়া রাতেই তার বাড়ি গিয়ে ওঠেন।
পৃথিমপাশা ইউনিয়নের কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, দুইজনের সম্মতিতে বিয়ে হয়েছে।
বিষয়টি পুরো এলাকা জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। সবার মুখে মুখে ফিরছে এই আলোচিত ঘটনাটি।