নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন র‌্যাবের আরো ৩ জন

 

N-Gonj_002_5নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ওই কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া র‌্যাব-১১ এর তিনজন সদস্য।
শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জে র‌্যাবের ওই তিন সদস্য পৃথকভাবে জবানবন্দি প্রদান করেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদনী রূপমের আদালতে র‌্যাবের হাবিলদার এমদাদুল হক, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ারা বেগমের আদালতে সিপাহী আবু তৈয়ব ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কেএম মহিউদ্দিনের আদালতে ল্যান্সনায়েক হীরা মিয়ার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শনিবার তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
এদিকে শুক্রবার গ্রেফতার হওয়া র‌্যাব-১১’র আরো এক সদস্য কনস্টেবল সিহাবউদ্দিনকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাবের নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে ৫ জনকে গ্রেফতারের পর বুধবার সকালে ৫ জনকে ৮ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এ পাঁচজন হলেন র‌্যাব-১১ এর হাবিলদার এমদাদুল হক, আরিফ হোসেন, ল্যান্সনায়েক মো. হিরা মিয়া, বিল্লাল হোসেন এবং সিপাহী আবু তৈয়ব।
এর আগে সেভেন মার্ডারের ঘটনায় ১৭ জুন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন র‌্যাব-১১ এর চাকগ্রি“্যত অধিনায়ক ও অবসরে পাঠানো সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল তারেক সাঈদ। ৪ জুন র‌্যাব-১১ এর উপ অধিনায়ক ও অবসরে পাঠানো মেজর আরিফ হোসেন ও ৫ জুন নৌ-বাহিনীর কমান্ডার এম এম রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে খুনের দায় স্বীকার করেন। পুলিশ গত ১৬ মে দিনগত রাতে র‌্যাবের তারেক সাঈদ ও আরিফ হোসেন এবং ১৭ মে এম এম রানাকে গ্রেফতার করে।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। পরদিন ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী।
গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবারই হাত-পা বাঁধা ছিল। পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন। প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দু’টি করে বস্তায় বেঁধে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। সাতজনকে অপহরণের পর ২৯ এপ্রিল রাতে সে সময়ের জেলা প্রশাসক মনোজ কান্তি বড়াল, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, র‌্যাব-১১ এর সিইও তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ, ক্রাইম প্রিভেনশনাল স্পেশাল কোম্পানীর কমান্ডার লে. কমান্ডার এমএম রানা, ফতুল্লা থানার ওসি আক্তার হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল মতিনকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এম এম রানাকে র‌্যাব থেকে চাকরিচ্যুত এবং পরে সেনাবাহিনী ও নৌ বাহিনীও তাদের অকালীন অবসরে পাঠায়।