মর্নিংসান২৪ডটকম Date:১৪-১০-২০১৫ Time:২:৫৩ অপরাহ্ণ


বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণে সাফল্যে ডা. গৌতম খাস্তগীর

বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণে সাফল্যে ডা. গৌতম খাস্তগীর

 মর্নিংসান নিউজ প্রতিবেদন:
সন্তানের জন্য তারকাদের সংসার না ভাঙলেও বাঙালির সংসার ভাঙার উদাহরণ রয়েছে ভুরি ভুরি। হোক স্বামী অক্ষম তবুও সন্তানের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন সইতে হয়েছে এমন ঘটনাও অহরহ।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কলকাতার সায়েন্স সিটি হলে প্রকাশিত হয় ডা. গৌতম খাস্তগীরের পঞ্চম বই ‘ভরুক কোল’। এই বইয়ে বন্ধ্যাত্ব সংক্রান্ত অসংখ্য প্রশ্ন এবং ভুল ধারণা শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ডা. গৌতম খাস্তগীর । গৌতম খাস্তগীরের বাবার বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। মায়ের বাড়ি পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে। বাবা রাজেন্দ্র নারায়ণ খাস্তগীর পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ভারতের কলকাতায় চলে যান। ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি।

গৌতম খাস্তগীর কলকাতার হিন্দু স্কুল থেকে পাশ করার পর ভর্তি হন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। ১৯৮৩ সালের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যে সাতটি মেডিক্যাল কলেজ ছিল সেগুলো মধ্যে মেধা তালিকায় তৃতীয় ও গাইনোকলজিতে প্রথম হয়ে এমবিবিএস পাশ করেন। পরে গাইনোকলজির উপর ইংল্যান্ড থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। এ সময় তার প্রচুর গবেষণাপত্র বিশ্বের নামিদামি মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়।

কলকাতার ৩৬বি, এলগিন রোডে প্রতিষ্ঠা করেন বেঙ্গল ইনফার্টিলিটি অ্যান্ড রিপ্রোডাক্টিভ থেরাপি হসপিটাল-বার্থ। সন্তানহীনতার গ্লানি থেকে মুক্তি দেন হাজারো পরিবারকে। নিঃসন্তান মা-বাবার শূন্য কোল ভরিয়ে সুখ খুঁজে ফিরেন তিনি। শুধুমাত্র অর্থ আয় নয়, নিঃসন্তান মা-বাবার ক্লিষ্ট মুখে হাসি ফুটানোয় যার ব্রত।

কলকাতার অন্যতম বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা কেন্দ্র ‘বার্থ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টালিগঞ্জ অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ অনুষ্ঠানকে পিতৃত্ব ও মাতৃত্বের উৎসব আখ্যায়িত করা হয়।

২০০৯ সালের আগস্ট। বলিউডের মি. পারফেকশনিস্ট খ্যাত আমির খান। তার স্ত্রী কিরণ রাও। একাধিকবার সন্তান নিলেও শারীরিক সমস্যায় সন্তানের মুখ দেখেননি। এজন্য দু’জনই ছিলেন হতাশ।

২০১১ সালের ডিসেম্বর। সন্তানের বাবা হওয়ার ঘোষণা দিলেন আমির খান। এনিয়ে পুরো মিডিয়াপাড়ায় ঝড় উঠে। এটা কিভাবে সম্ভব!

মাতৃত্বের মধ্যেই আছে জীবনের অনেকখানি সফলতা। প্রথম মাতৃত্ব তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করার মতো ব্যাপারও মনে করেন অনেক নারী। যদি বন্ধ্যা হয় কিংবা স্বামীর কোন শারীরিক ত্রুটি থাকে? ‌আধুনিক বিজ্ঞান বলছে তবুও সম্ভব। যেভাবে মাতা-পিতা হয়েছেন আমির খান ও কিরণ রাও দম্পত্তি। তাদের মতো হাজারো মা-বাবার মুখে হাসি ফুটিয়েছেন চট্টগ্রামের বংশোদ্ভূত ভারতীয় সুপ্রজননবিদ ডা. গৌতম খাস্তগীর।

 dr_khastagir_731401011কিন্তু শুরুর দিকে অতটা সহজ ছিল না। বাঙালি নারী-পুরুষ যতটা কুসংস্কারে বিশ্বাসী আধুনিক বিজ্ঞানে তাদের ততটা বিশ্বাসহীনতা। সন্তানের জন্য তাদের যত আস্থা কবিরাজ, বৈদ্য কিংবা ঝাঁড়-ফুঁকে। সময়টা কেমন ছিল শুনুন তার মুখ থেকে।

স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গৌতম খাস্তগীর বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে প্রায় ১৬ বছর আগে নতুনধারার কাজ শিখে দেশে ফিরি। তখন ল্যাপারোস্কোপি ও অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনিকে নয়া উদ্ভাবন এসব মানতে রাজি ছিলেন না সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকজন। এমনকি অনেক চিকি‍ৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এই দলে ছিল। আমার বক্তব্য, আমার চিন্তাধারা, আমার কাজকর্ম তাদের হতচকিত করেছিল। যেন সদ্য মঙ্গলগ্রহ থেকে মহাকাশযানে ল্যান্ড করেছি। অনেকে প্রতিরোধে নেমে পড়ে। অনেকে বক্রোক্তিও করেছেন।’

তিনি বলেন, সেদিন আমাকে বিশ্বাস করেছিলেন আমার ক্লিনিকে জড়ো হওয়া রোগীরা। তাদের বোঝাতে হয়েছে। প্রাণান্তকর পরিশ্রমও করেছি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে গেছি। বহু স্বাস্থ্য-সচেতনতার কর্মশালা করতে হয়েছে। শেষে মানুষ বুঝেছেন আমার যাবতীয় প্রয়াস তাদের জীবনের মান উন্নত করার জন্য।

ডা. গৌতম খাস্তগীর বলেন, ‘একটি পরিবার যখন দ্বার থেকে দ্বারে সন্তানহীনতার গ্লানি, কষ্ট এবং গঞ্জনা বয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মাথা ঠুকে নিজেকে অভিশাপ দিতে শুরু করেছে, তখন আমার প্রয়োজন ছিল তাদের পাশে দাঁড়ানোর। অভিভাবকের মতো মাথায় হাত রাখার।’

তিনি জানান, সহায়ক গর্ভসঞ্চার বা অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনিকের সহায়তায় এক ক্লিনিকে জন্মেছে প্রায় এক হাজার ফুটফুটে সন্তান। ১২ বছরে সম্পূর্ণ প্রায় দশ হাজার গাইনেস্কোপিক সার্জারি। ৫৫ বছরে মাতৃত্বের স্বাদ পেয়েছেন নারী। বিয়ের ৩২ বছর বয়সে সন্তান লাভ করেছেন। স্পাইনাল কর্ডে চোট পেয়ে প্যারাপ্লেজিয়ায় আক্রান্ত বন্ধ্যা পুরুষও সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছেন।

এছাড়া আইভিএফ(ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন)-সারোগেসি ও আইইউআই সারোগেসিতে সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব।

‘সন্তান জন্ম দিতে দরকার ভাল ডিম্বাণু, শুক্রাণু এবং জরায়ু। কারো জরায়ু না থাকলে বা ত্রুটিযুক্ত হলে অন্যের গর্ভে সন্তানকে বড় করে তোলা যায়। এটিই সারোগেসি। মা’র শরীরে সমস্যা থাকলে কৃত্রিম উপায়ে শরীরে বাইরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রুণ তৈরি করে নিলে সেটি আইভিএফ সারোগেসি। এছাড়া মা’র শরীরে ডিম্বাণু না থাকলে ধার নেওয়া যায় সারোগেট মাদারের কাছ থেকেও। সে ক্ষেত্রে শুধু বাবার শুক্রাণুকে সারোগেট মাদারের দেহে নির্দিষ্ট দিনে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। একে বলে আইইউআই সারোগেসি,’ বললেন ডা. খাস্তগীর।

ডা. গৌতম খাস্তগীরের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়ে সন্তান জন্ম দিয়েছেন এমন দম্পতির সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। এ তালিকা দীর্ঘ।
তাদের মধ্যে এক দম্পতি হলেন অরিন্দম চক্রবর্তী ও পাপড়ি চক্রবর্তী। শুনালেন তাদের অভিজ্ঞতার কথা।

অরিন্দম চক্রবর্তী বলেন,‘আমি আর পাপড়ি ভালো বন্ধু ছিলাম। ২০০৮ সালে আমাদের বিয়ে হয়। এরপর সন্তান না হওয়ায় বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। তারা প্রাথমিক বন্ধ্যাত্বের কথা জানিয়েছিল। অনেকে খুব হতাশ করেছিলেন। ২০১১ সালের ৮ জানুয়ারী পরে ডা. গৌতম খাস্তগীরের শরণাপন্ন হই। তিনি আমার স্ত্রীকে ৬ মাসের ওষুধ দিয়েছিলেন। এরপরই আমার মেয়ে অলঙ্কৃতা চক্রবর্তী জন্ম নেয়।’

পৃথ্বীরাজ দে বলেন,‘আমার স্ত্রী দেব শ্রী দে‘র দুইবার মিসক্যারেজ হয়। হতাশা থেকে একপর্যায়ে দুইজনের মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতা দেখা দেয়। এক বন্ধুর মাধ্যমে ডা. গৌতম খাস্তগীরের খবর পাই। পরবর্তীতে তার চিকিৎসায় আমরা সফল হই।’

 

পাস্তুরিত দুধ নিয়ে কারসাজি আছে কি না দেখা উচিত: প্রধানমন্ত্রী» « চান্দগাঁওয়ে ডোমখালী খালে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু» « পাকিস্তানে সামরিক বিমান বিধ্বস্তে নিহত ১৭, আহত ১২» « র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ধর্ষণকারীর নিহত» « গুজব রটনাকারীদের ধরিয়ে দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর» « লামায় বন্যা ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ» « কক্সবাজার শহর রক্ষায় ঝাউবন করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর» « দেশের সব উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর» « সিঙ্গাপুরে ওবায়দুল কাদেরের স্বাস্থ্যের আশানুরূপ উন্নতি» « প্রাইভেটকারে করে এসে ছিনতাইয়ের চেষ্টা, ৩ জনকে গণপিটুনি» «