ভালো বংশের চোর মাদ্দালি

ভালো বংশের চোর মাদ্দালি
ভালো বংশের চোর মাদ্দালি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বহুকাল ধরে এদেশের মানুষের কাছে প্রচলিত একটি প্রবাদ বাক্য আছে। সেটি হলো ‘চোর হলেও বংশ ভালো’! সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে এমনই এক ভালো বংশের চোর ধরা পড়েছে। তবে ওই চোর টাকা-পয়সা লুটে নিলেও ফেরত দিয়ে দেয় তাদের দরকারি কাগজপত্র। কাগজপত্র অনেক প্রয়োজনীয় হলে চুরির শিকার ব্যক্তির ঠিকানাই যোগাড় করে দ্রুত তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে দেন সে!

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম কিশোর সুব্রহ্মণ্যম মাদ্দালি (৬১)। আটকের সময় তার কাছ থেকে বেশ কয়েকজন বিদেশি পর্যটকসহ অনেকের দরকারি কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশের তথ্য মতে, ওই চোর সুযোগ বুঝে কারও অর্থ-কড়ি, গয়না-অলঙ্কারভর্তি ব্যাগ হাতিয়ে নিলেও পরে সে ব্যাগে পাসপোর্ট, ভিসাসহ যাবতীয় দরকারি কাগজ পেলে তা ফিরিয়ে দেয় প্রয়োজনের মুহূর্তেই। চুরির শিকার ব্যক্তিকে ‘বাড়তি কোনো ঝামেলায় না ফেলতে’!

জিজ্ঞাসাবাদে কিশোর মাদ্দালি পুলিশকে জানান, চুরি করার পর যদি তিনি দেখেন ব্যাগের মধ্যে পাসপোর্ট-ভিসার মতো দরকারি নথিপত্র রয়েছে, তবে সঙ্গে সঙ্গে তা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেন। কারণ পাসপোর্ট-ভিসা হারিয়ে গেলে খুবই বিপদে পড়তে হয়। তাই সেগুলি সবসময়ই ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী পুলিশ জানায়, বেশ ক’দিন আগে মুম্ব‍াই স্টেশন থেকে সৌদি আরব প্রবাসী দেবীদসন শিবরাম সোনারির ব্যাগ খোয়া যায়। ওই ব্যাগ চুরি করেন কিশোরই। পরে ব্যাগ ঘাঁটতে গিয়ে তিনি দেখেন, সেখানে টাকা-পয়সার সঙ্গে রয়েছে সোনারির পাসপোর্টও। কিশোর সেই পাসপোর্ট দেখে সৌদি আরব দূতাবাসে ফোন করে সোনারির ঠিকানা যোগাড় করেন। তারপর সেই ঠিকানায় পাসপোর্টটি ফিরিয়ে দেন।

এরকমই বিপদে পড়েন ভারতে পড়াশোনা করতে আসা নাইজেরিয়ার যুবক রুকো মিগা মুফিজা ইসা। আন্নামালাই ইউনিভার্সিটির ওই ছাত্রের ব্যাগ গত সেপ্টেম্বর মাসে চেন্নাই থেকে চুরি হয়ে যায়। ব্যাগে ল্যাপটপ, নগদ ৫০ হাজার টাকার পাশাপাশি ছিল পাসপোর্ট ও ভিসা। কিশোর পরে ইউনিভার্সিটিতে যোগাযোগ করে রুকো মিগার ঠিকানা যোগাড় করে পাসপোর্ট ও ভিসা ফিরিয়ে দেন।

পুলিশের ধারণা, কিশোরদের একটি চোর চক্র রয়েছে। আর এই চক্রের প্রধান কিশোরই। আরও আশ্চর্যের বিষয় এই চোর বিজ্ঞানে স্নাতক। তামিল, ইংরেজি, তেলেগু, মালায়ালাম, হিন্দি, কন্নড় ও মারাঠিসহ বিভিন্ন ভাষায় সাবলীল আলাপ করতে পারেন তিনি।