রাষ্ট্রপক্ষ সব আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন

রাষ্ট্রপক্ষ সব আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন
রাষ্ট্রপক্ষ সব আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন

চট্টগ্রাম অফিস: নগরীর পাঁচলাইশে শিক্ষার্থী হিমাদ্রি মজুমদার হিমুকে হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দিয়ে খুনের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি আদালতের কাছে মামলার পাঁচ আসামির সবার মৃত্যুদন্ড চেয়েছেন।

সোমবার চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নুরুল ইসলামের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট অনুপম চক্রবর্তী।

আদালত ১ নভেম্বর থেকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় নির্ধারণ করেছেন।

অ্যাডভোকেট অনুপম চক্রবর্তী বলেন, রাষ্ট্রপক্ষে আমি প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে এবং ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য বিষয়ে যুক্তি আদালতে উপস্থাপন করেছি। আমি মনে করি, আদালতে আসামিদের সবার বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ড প্রদানের মত যুক্তিপ্রমাণ আমরা উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। আদালতের কাছে সব আসামিকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার জন্য আমি আরজি জানিয়েছি।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় আদালতে মৃত্যুর আগে হিমু’র রেকর্ড করা বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। এতে হিমু জানায়, ২০১১ সালের ২৩ অক্টোবর নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ৫ নম্বর সড়কে আসামি শাহাদাত হোসেন সাজু মাদক সেবন করছিল। এসময় হিমু ও মাদকবিরোধী সংগঠন শিকড়’র সদস্যরা সাজুকে বাধা দিলে ঘটনাস্থলে এসে সাজুর পক্ষ নিয়ে হিমু ও অন্যদের দেখে নেয়ার ‍হুমকি দেয় আসামি শাহ সেলিম টিপু। ২০১২ সালের ২৭ এপ্রিল পাঁচলাইশ এলাকার সামারফিল্ড স্কুল অ্যাণ্ড কলেজের সামনে থেকে হিমুকে ধরে নিয়ে যায় আসামি জাহিদুর রহমান শাওন, জুনায়েদ আহমেদ রিয়াদ, শাহাদাত হোসেন সাজু ও মাহবুব আলী ড্যানি। আসামিরা বিষয়টি ফোনে টিপুকে জানালে তিনি হিমুকে তার বাড়ির ছাদে নিয়ে বেঁধে রাখতে বলেন। সেখানে আটকে রেখে হিমুকে মারধর করা হয়। এরপর কুকুর লেলিয়ে ভয় দেখিয়ে এবং সবশেষে ধাক্কা দিয়ে তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেয়া হয়।

সাজুকে মাদক সেবনে বাধা দেয়ার ঘটনায় হুমকির বিষয়ে শিকড়ের সভাপতি ইসমাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিল। সে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান অনুপম।

২০১২ সালের ২৭ এপ্রিল নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ফরহাদ ম্যানশন নামের ১০১ নম্বর বাড়ির চারতলায় হিমুকে হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দিয়ে নিমর্মভাবে নির্যাতন করে সেখান থেকে ফেলে দেন অভিজাত পরিবারের কয়েকজন বখাটে যুবক।

গুরুতর আহত হিমু ২৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ২৩ মে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। হিমু পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ইংরেজি মাধ্যমের সামারফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘এ’ লেভেলের শিক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়া মাদকবিরোধী সংগঠন ‘শিকড়’র সঙ্গে জড়িত ছিলেন হিমু।

এ ঘটনায় হিমুর মামা প্রকাশ দাশ অসিত বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত পাঁচ আসামি হলেন, জাহিদুর রহমান শাওন, জুনায়েদ আহমেদ রিয়াদ ও তার বাবা শাহ সেলিম টিপু, শাহাদাত হোসেন সাজু এবং মাহবুব আলী ড্যানি।

২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ওই মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচজন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ মামলায় ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্য নিয়েছেন আদালত।