বাংলাদেশের নেটওয়ার্কে বসে অপরাধ করছে রোহিঙ্গারা

বাংলাদেশের নেটওয়ার্কে বসে অপরাধ করছে রোহিঙ্গারা
বাংলাদেশের নেটওয়ার্কে বসে অপরাধ করছে রোহিঙ্গারা

মর্ণিংসান  নিউজ প্রতিবেদন:
চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় পরিচয় গোপন করে বসবাস করছে ।পাশাপাশি জড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের অপরাধে। চুরি-ডাকাতি, অপহরণ এমনকি খুনের ঘটনাও ঘটিয়েছে। নিবন্ধন ও স্থানীয় সঠিক ঠিকানা না থাকার কারণে অপরাধ করলেও অনেক সময় সনাক্ত করা যায় না তাদের । গত রমজানের ঈদের পর থেকে সাতকানিয়া উপজেলার রসুলাবাদ এলাকার বাসিন্দা ওসমান গনির প্রজেক্টে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন মায়ানমারের আকিয়াব জেলার মংডু এলাকার বাসিন্দা মো. নুর আলম (৩০)। ছুটিতে গেলেও ফিরে আসতেন সময়মতো।

প্রায় তিনমাস কাজ করায় নুর আলম পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও পরিচিত হয়ে ওঠেন ।তার প্রতি কিছুটা আস্থাও জন্মে ওসমানের। কিন্তু ওসমানের ৯ বছরের শিশুপূত্রকে অপহরণ করে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে পরিচয় গোপন করা এ শ্রমিকই । মোবাইল বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা আদায়ও করে সে ।

তবে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতায় উদ্ধার হয়েছে শিশু ইমতিয়াজুর রহমান সাজ্জাদ। চারদিন ধরে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় মায়ানমারের বাসিন্দা শিশু অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে।

পুলিশ বলছে, সীমান্ত পার হয়ে রোহিঙ্গারা দক্ষিণ তবে সঠিক ঠিকানা না থাকার কারণে এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এছাড়া বাংলাদেশের মোবাইল কোম্পানীগুলোর নেটওয়ার্ক মায়ানমার পর্যন্ত থাকার কারণে অপরাধীদের অবস্থান সনাক্ত করতে সমস্যায় পড়তে হয়। সাজ্জাদকে উদ্ধার করার সময় এ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে পুলিশের অভিযান দলের সদস্যদের।

অপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাতকানিয়া থানার এসআই ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, মোবাইল ট্রেকিং করে আসামি ধরার জন্য অভিযান পরিচালনা করি। পুলিশের তৎপরতা আঁচ করতে পেরে নুর আলম টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মায়ানমার চলে যায়।

‘নুর আলমের মোবাইল ট্রেকিং করা হলে টেকনাফ থানার লেদা টাওয়ার এলাকায় তার অবস্থান জানা যায়। প্রকৃতপক্ষে নুর আলম তখন মায়ানমার সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছিল। ফলে তার অবস্থান নির্ধারণ করতে আমাদের বেগ পেতে হয়।’

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। চুরি-ডাকাতি থেকে শুরু করে অপহরণ, খুনও করছে। মায়ানমার থেকে আসা এসব রোহিঙ্গারা চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়াসহ পাহাড়ী এলাকায় পরিচয় গোপন করে বসবাস করে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের নিবন্ধন ও স্থানীয় সঠিক ঠিকানা না থাকার কারণে অপরাধ করলেও অনেক সময় সনাক্ত করা যায় না। এ ধরনের অপরাধ দমনে রোহিঙ্গাদের সনাক্ত করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।

মোবাইলে অপরাধ দমনের জন্যই মোবইল সিমের পুনঃরেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সাজ্জাদের বাবা ওসমান গণি জানান, গত ১৩ অক্টোবর তার ছোট ভাইয়ের অপারেশনের কারণে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই তার ছোট বোন ছাড়া বাড়িতে আর কেউ ছিল না। বিষয়টি বুঝতে পেরে সাজ্জাদকে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে কক্সবাজার নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বিষয়টি থানায় অবহিত করেন তিনি।

পুলিশ সুপার হাফিজ আক্তার বলেন, একটি চক্রের মাধ্যমে অপহরণের কাজটি করেছে। সাজ্জাদকে অপহরণের পর উখিয়া থানার মনখালী এলাকায় নুর আলমের ভাই দুদু মিয়া ও খুইল্যা মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায়। এরই মধ্যে পুলিশের অভিযান শুরু হলে সেখান থেকে টেকনাফ থানার লেদা টাওয়ার বাজার শরণার্থী শিবিরে ওই চক্রের আরেক সদস্য মো. আলমের ঘরে রাখা হয়। এরপর ১৬ অক্টোবর নুর আলম ও মো. আলম সাজ্জাদকে মায়ানমার নিয়ে যায়।

তিনি জানান, ১৯ অক্টোবর উখিয়া মনখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুর আলমের দুই ভাই দুদু মিয়া, খুইল্যা মিয়া ও অপর সহযোগী আবুল হাশেমকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে ২০ অক্টোবর মায়ানমারের সীমান্তবর্তী পাহাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইমতিয়াজুর রহমান সাজ্জাদকে উদ্ধার করা হয়। তবে অপহরণের মূল হোতা নুর আলম ও মোহাম্মদ আলম মায়ানমারে আত্মগোপন করে।