“মেমোরি কার্ডের কল্যাণে ফিল্মের কদর কমে গেছে”

"মেমোরি কার্ডের কল্যাণে ফিল্মের কদর কমে গেছে"
“মেমোরি কার্ডের কল্যাণে ফিল্মের কদর কমে গেছে”

চট্টগ্রাম অফিস :
বর্তমান সময়ের কিছু ছবি প্রমাণ করে দিয়েছে ফটোগ্রাফির সৃজনশীলতা এখনো টিকে আছে। মনের মধ্যে গ্রাফ এঁকে যে ছবি তোলা হয় তাই সৃষ্টিশীল ফটোগ্রাফি।

একসময় ফটো মিথ্যা বলত না।কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল যুগে ফটো মিথ্যা বলতে শুরু করেছে। ডিজিটাল যুগের ফটোগ্রাফি ফটোর মূল চরিত্র ও আবেদনকে ম্লান করে দিচ্ছে। ডিজিটাল ফটোগ্রাফির কারণে ছবির সঙ্গে রঙচঙ্গা কিছু সংযোজন করা যেতে পারে বলে এখনকার ফটোগ্রাফি তার নান্দনিকতা হারাচ্ছ,এমনটাই বলেছেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক।

শুক্রবার জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি প্রাঙ্গণে দৈনিক আজাদী ও ফটোগ্রাফিয়ার প্রথম ফটো ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের পরিচালক রাফায়েল, বিএসআরএম প্রতিনিধি আলী মাহবুব চৌধুরী, বারকোড ক্যাফে ও সিক্স ইভেন্টসের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুরুল হক মঞ্জু্‌ এবং স্পিকার্স কাউন্সিলের পরিচালক শাকিল আহমেদ তানভীর। চট্টগ্রামে এ ধরনের ফটো ফেস্টিভ্যাল এটিই প্রথম।

এম এ মালেক বলেন, যন্ত্রের পেছনে মানুষের ভূমিকা ফটোগ্রাফিতে এত মুখ্য যে, যন্ত্র নয়, মানুষের মেধা এবং মননই এই জগতের সৃজনশীলতা নিয়ন্ত্রণ করে। লাখ টাকা দামের ক্যামেরা দিয়ে একজন সাধারণ ফটোগ্রাফার যে ছবি তুলতে পারেন, অনেক কম দামের ক্যামেরা দিয়ে একজন সৃজনশীল ফটোগ্রাফার অনেক বেশি ভালো ছবি ওঠাতে সক্ষম।

তিনি বলেন, একসময় ক্যামেরার ফিল্ম অনেক মূল্যবান ছিলো বলে প্রতিটি ক্লিকের মর্যাদা ছিলো। বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন কিংবা মেমোরি কার্ডের কল্যাণে সেসবের কদর কমে গেছে।

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ পরিচালক রাফায়েল বলেন, ছবি একই সাথে হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ সবকিছুকে ফুটিয়ে তুলতে পারে। বিশেষত প্রকৃতি চিত্রায়নে ফটোগ্রাফি অনন্য। ফ্রান্স সরকারও এসব সৃষ্টিশীল কাজে উৎসাহী।

বিএসআরএম প্রতিনিধি আলী মাহবুব চৌধুরী বলেন, ছবির শক্তিমত্তার সঙ্গে পৃথিবীর আর কিছুরই তুলনা হয় না।

দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক বলেন, আমাদের প্রাথমিক উদ্যোগটা ছোট আকারে নিলেও সবার সহযোগিতায় এটি চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ ফটো ফেস্টিভ্যালে রূপ নিয়েছে। আশা করি এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে।

ফটো ফেস্টিভ্যালের উপদেষ্টা ও ডিজাইনার টিপু সুলতানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফেস্টিভ্যাল সমন্বয়ক হাসান মুরাদ। আলোচনা পর্ব শেষে এম এ মালেক ফেস্টিভ্যাল উদ্বোধন করেন।

শিল্পকলা একাডেমির শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন গ্যালারি এবং পটুয়া কামরুল হাসান গ্যালারিতে এ প্রদর্শনী চলবে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে।