নানন্দিক ও নিরাপদ কর্ণফুলী উপহার দিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব’-সিএমপি কমিশনার

নানন্দিক ও নিরাপদ কর্ণফুলী উপহার দিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব’-সিএমপি কমিশনার
নানন্দিক ও নিরাপদ কর্ণফুলী উপহার দিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব’-সিএমপি কমিশনার

চট্টগ্রাম অফিস:
প্রকৃতি প্রদত্ত কর্ণফুলীর সেই রূপে বাড়তি অলংকার হিসেবে যোগ হয়েছে বন্দর জেটির সোডিয়াম আলোর আভা, কর্ণফুলীর বুকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জাহাজে মিটমিট করে জ্বলতে থাকা লাল-নীল-হলুদ বাতি। সেই সাথে জাহাজের সাইরেনও বাড়তি আনন্দ দেবে কর্ণফুলীর রূপ দর্শনে আসা দর্শনার্থীদের। সেকারণে কর্ণফুলীর পাড়ে বসে বিকেলে কর্ণফুলী, সন্ধ্যায় কর্ণফুলী ও রাতে কর্ণফুলী যে ভিন্ন ভিন্ন রূপে আর্বিভূত হয় সেটিও দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে নগরবাসীকে। শুধুমাত্র ব্যবসা-বাণিজ্যে নানাবিধ গুরুত্ববহনকারী নদী হিসেবে নয়, কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে আবর্তিত চট্টগ্রামের প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যও। বিশেষ করে নগরীর শাহ আমানত সেতু থেকে নেভাল একাডেমি এলাকা পর্যন্ত কর্ণফুলীর নানা রূপ প্রকৃতিপ্রেমি যে কাউকেই মুগ্ধ করবেই। লুসাই পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির যে ধারায় সৃষ্টি হয়েছে কাইছাখাল। কালের বিবর্তনে সেই কাইছাখাল চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, বোয়ালখালী, কর্ণফুলী, পটিয়া ও চট্টগ্রাম মহানগরীর বুক চিরে ‘কর্ণফুলী নদী’ হয়ে সেটি মিশেছে বঙ্গোপসাগরে।

কিন্তু দিনের পর দিন দখলে দূষণে বিপর্যস্ত এই কর্ণফুলীর আসল রূপ ও সৌন্দর্য দেখার সেই সুযোগ বঞ্চিত বিনোদন পিপাসু নগরবাসী। হতাশার মাঝেও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কর্ণফুলী সেতু এলাকা থেকে মেরিনার্স সড়ক ধরে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত যে পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে সেটিকেই কেন্দ্র করে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠছে বিনোদন পিপাসুরা। তবে যথাযত নিরাপত্তার অভাব, অব্যবস্থাপণা, বখাটে ও ছিনতাইকারীর উৎপাত এবং সন্ধ্যা নামলেই ভূতড়ে পরিবেশের কারণে কর্ণফুলীর পাড়ে বসে কর্ণফুলীর সেই রূপ দেখতে পারছেন না সেখানে আগত দর্শনার্থীরা।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল নগরবাসীকে কর্ণফুলীর সেই অপরূপ সৌন্দর্য দেখাতে নিরাপদ ও নান্দনিক কর্ণফুলীর আন্দোলনে নামছেন। তার সাথে একাজে থাকছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সাগর আর নদীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।

বুধবার বিকেলে চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক সিএমপি কমিশনারের সাথে তার কার্যালয়ে সাক্ষাত করতে গেলে সাংবাদিকদের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এ আব্দুল জলিল মণ্ডল তার এ উদ্যোগের কথা জানান।

সাক্ষাতকালে সিএিমপি কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডলকে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিনোদন কেন্দ্রের অভাবে বিনোদন বঞ্চিক নগরবাসীর জন্য বিনোদনের একটি স্পট হিসেবে আর্বিভত হয়েছে কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত ব্রিজ থেকে ফিরিঙ্গিাবাজার পর্যন্ত মেরিনার্স ড্রাইভ সংলগ্ন এলাকাটি। তবে কর্ণফুলী নদীর আলস রূপ দেখার জন্য দর্শনার্থীদের যে সুযোগ থাকার কথা সেটি এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। যে নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। এই নদীকে ঘিরেই মূলত চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য আর লোকগাঁথা রচিত।

পুলিশ কমিশনারকে আরো জানানো হয়, বন্দরের প্রকল্পটি এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। তবে এরই মাঝে এলাকাটিতে বিনোদন পিপাসুরা প্রতিদিন ছুটছে। তবে সেখানে সন্ধ্যার পর কোনো বাতির ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে অনিরাপত্তায় ভোগার কারণে রাতে কর্ণফুলীর রূপ না দেখে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। আবার অনেকে বখাটেদের দ্বারা নানাভাবে হয়রানিরও শিকার হচ্ছে। এমনকি আইন-শৃংখলা রক্ষার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের হাতেও অনেকে হয়রানির শিকার হচ্ছে। এছাড়া কর্ণফুলী নদীতে কেউ যদি তার প্রিয়জনকে নিয়ে সাম্পানে করে বেড়াতে যান সেখানে নানা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে নিরাপদ কর্ণফুলীর পাশাপাশি নানন্দনিক কর্ণফুলী দেয়ার জন্য প্রথাবিরোধী এই পুলিশ কর্মকর্তার উগ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে।

সাংবাদিকদের কথা মনযোগসহকারে শুনে সিএমপি কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল বলেন, ‘আপনাদের প্রস্তাবটি অত্যন্ত চমৎকার ও খুবই গ্রহণযোগ্য। এনিয়ে আমি অনেক পরিকল্পনা নিয়েছি। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কর্ণফুলী নদীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন শহীদুল ইসলামের সাথে আমার একাধিকবার এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তিনিও নিরাপদ ও নানন্দিক কর্ণফুলীর ব্যাপারে আমাদের সাথে থাকার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। একাজে আমরা আমাদের সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন মহোদয়কে সাথে রাখার চেষ্টা করছি। আশা করছি তিনিও আমাদের এই প্রচেষ্টায় আগের মত সায় দেবেন। খুব শিগগিরই এ নিয়ে আমরা আলোচনা করে কর্মপন্থা নির্ধারণ করব। সব মিলিয়ে নানন্দিক ও নিরাপদ কর্ণফুলী নগরবাসীকে উপহার দিতে আমি কার্যকর একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

সিএমপি কমিশনারের সাথে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন, একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার আজাদ তালুকদার, এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার আরিচ আহমেদ শাহ, দৈনিক সমকালের স্টাফ রিপোর্টার রুবেল খান, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার গাজী ফিরোজ শিবলী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার মুহাম্মদসেলিম, বাংলামেইল ২৪ডটকম’র সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট আলম দিদার, চ্যানেল নাইনের স্টাফ রিপোর্টার ফয়সাল করিম, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির স্টাফ রিপোর্টার সাব্বির মোহাম্মদ ইরফান, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আহমেদ মুসা ও একাত্তর টিভির ক্যামেরা পার্সন বাবুন পাল।