চার দেশের পতাকায় সাজানো বর্ণিল গাড়ি বহর ঢাকার পথে

চার দেশের পতাকায় সাজানো বর্ণিল গাড়ি বহর ঢাকার পথে
চার দেশের পতাকায় সাজানো বর্ণিল গাড়ি বহর ঢাকার পথে

এ,এইচ,এম সুমন, চট্টগ্রাম :
বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাসহ চার দেশের পতাকায় সাজানো বর্ণিল গাড়ি বহরটি এখন ঢাকা অভিমুখে রওনা হয়েছে।আঞ্চলিক বাণিজ্য সহজ করতে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের (বিবিআইএন) মৈত্রী মোটর র‌্যালিটি গতকাল ফেনী সীমান্ত দিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন মৈত্রী মোটর র‌্যালির ফ্ল্যাগ অফ করেছেন । র‌্যালিটি গতকাল ফেনী সীমান্ত দিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছায়।
র‌্যালিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নিরোদ চন্দ্র মণ্ডলের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের দলে রয়েছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেকেন্ড সেক্রেটারি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপপরিচালক মাকসুদুর রহমান, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ড‍ার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক সাইদ মো. বখতিয়ার, শ্যামলী পরিবহনের ম্যানেজার নয়ন কুমার রায়। এ ছাড়া ভারতের ৫৮ জন, ভুটানের ৪ জন, নেপালের ৪ জন প্রতিনিধি আছেন বহরে। এর মধ্যে তিন নারী প্রতিনিধিও আছেন।

শনিবার সকাল নয়টায় বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের প্রথম পাঁচতারা হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু চিটাগাং বে ভিউতে মেয়র একে একে ২০টি গাড়ির ফ্ল্যাগ অফ করেন। ফ্ল্যাগ অফের আগে র‌্যালির ১ নম্বর গাড়ির সামনে ভারতের চিরায়ত আচার-ঐতিহ্য হিসেবে একটি নারকেল ভাঙেন মাহেন্দ্র অ্যাডভেঞ্চার দলের প্রতিনিধি নরেশ ভোঁসলে।

এ সময় মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, মৈত্রী মোটর র‌্যালি চার দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করবে। এর ফলে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো বড় সাফল্য বা অর্জন রাতারাতি হয় না। বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। প্রতিটি দেশই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে আমার যে দায়িত্ব তা আমি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করছি, করবো। চার দেশের সম্পর্ক আরও শাণিত করার ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের ভূমিকা আছে। কানেকটিভিটি ও দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কারণে ট্রানজিটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে চট্টগ্রামের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আগামীকাল সোমবার সকালে সোনারগাঁও হোটেলে বিবিআইএন এমভিএ সম্পর্কিত একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন মঙ্গলবার সকালে ঢাকা হতে মোটর র‌্যালিটি ভারতের কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ওইদিন সন্ধ্যায় বেনাপোল সীমান্ত অতিক্রম করবে।

২ ডিসেম্বর কলকাতায় একটি সেমিনার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে র‌্যালিটি শেষ হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত ১৪ ডিসেম্বর চার দেশের প্রতিনিধির সমন্বয়ে ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ভুবনেশ্বর থেকে এই র‌্যালি শুরু হয়। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে চার দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী, ব্যক্তিগত ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল শুরু হবে।
ইতোমধ্যে র‌্যালিটি ভারতের ভুবনেশ্বর থেকে রাঁচি হয়ে পাটনা, সেখান থেকে শিলিগুড়ি হয়ে সিকিমের গ্যাংটক, সেখান থেকে ভুটানের ফুয়েনশোলিং হয়ে রাজধানী থিম্পু আসে। পরে বামথাং হয়ে দেশটির মংগার এবং সেখান থেকে ফের ভারতের গৌহাটি-শিলচর হয়ে আগরতলা যায়। সেখান থেকে বাংলাদেশের ফেনী হয়ে চট্টগ্রামে এসেছে র‌্যালিটি।

সার্কভুক্ত এই চার দেশের (বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান) সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ থেকে ৬টি রুটে যান চলাচল করতে পারবে। প্রথমে ভারতের কলকাতার পেট্রাপোল হয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল-যশোর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। দ্বিতীয় রুটটি হলো চট্টগ্রাম-ঢাকা-হাটিকুমরুল-বগুড়া-রংপুর-বুড়িমারি/চেংড়াবান্ধা হয়ে ভারতের শিলিগুড়ি। তৃতীয় রুটটি হলো ঢাকা-হাটিকামরুল-বগুড়া-রংপুর-বুড়িমারি/চেংড়াবান্ধা-জয়গাঁও/ফুয়েনসলিং ভুটানের থিম্পু পৌঁছাবে। চতুর্থ রুটটি হলো-ঢাকা-হাটিকামরুল-বগুড়া-রংপুর-বাংলাবান্ধা/ফুলবাড়ি হয়ে ভারতের পানি ট্যাংকি দিয়ে নেপালের কাকারভিটা হয়ে কাঠমান্ডু গিয়ে শেষ হবে। পঞ্চম রুটটি হলো-ভারতের কলকাতা-ঢাকা-সরাইল-সিলেট-তামাবিল/দাউকি-শিলং- গৌহাটি-সামদ্রুপ ঝংকার হয়ে ভুটান পৌঁছবে। শেষ রুটটি হলো খুলনা-যশোর-কলকাতা।

ভারত সরকারের সহযোগিতায় মোটর র‌্যালির মূল আয়োজন করছে ভারতের কলিঙ্গ মোটরস।