মর্নিংসান২৪ডটকম Date:১৬-১২-২০১৫ Time:৬:৩৭ অপরাহ্ণ


নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে বিজয় দিবস উদযাপিত

নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে বিজয় দিবস উদযাপিত

চট্টগ্রাম নিউজ প্রতিবেদন:
৪৫তম বিজয় দিবস উদযাপন করেছে চট্টগ্রামবাসী।বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে মঙ্গলবার রাত ১২টা ০১ মিনিটে শুরু হয় শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিকতা। নগর পুলিশের একটি চৌকস দল সশস্ত্র অভিবাদনের মধ্য দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।এরপরই স্বাধীনতার মহান বীর সেনানীদের ফুলের শ্রদ্ধা জানাতে পৌষের শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে ঢল নামে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।এসময় সর্বস্তরের মানুষের ব্যানার, প্ল্যাকার্ড আর লাল সবুজের পতাকায় নিয়ে শহীদ মিনার অভিমুখী মিছিল থেকে জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গন। শিশু-কিশোররাও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ফুল দিয়ে স্মরণ করেছে সকাল বেলায়। মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ফুল হাতে শ্রদ্ধা জানানোর মিছিল চলে বুধবার দুপুর পর্যন্ত।

এদিকে চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।এরপর মেয়রের নেতৃত্বে নগর আওয়ামী লীগ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান মো.আবদুচ ছালাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো.আবদুল্লাহ, সিএমপি কমিশনার মোহা.আব্দুল জলিল মন্ডল এবং অতিরিক্ত কমিশনার একেএম শহীদুর রহমান ও দেবদাস ভট্টাচার্য, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো.শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ ও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার ফুল দিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট, প্রাক্তন মন্ত্রী ও সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে নগর বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদল, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক এম এ সালামের নেতৃত্বে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর জেলার নেতারাও শ্রদ্ধা জানাতে যান।

রেলওয়ে পুলিশ, আরআরএফ কমান্ড্যান্ট, শিল্প পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম রেঞ্জ পরিচালক এবং জেলা কমান্ডার, বন বিভাগ, বিআইডব্লিউটিসি, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড, মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা পরিষদ, নগর যুবলীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমাণ্ড মহানগর শাখা, নগর শ্রমিক লীগ, নগর ছাত্রলীগ, ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, ওলামা লীগ, সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ, হকার্স লীগের নেতারাও শহীদ মিনারে ফুল দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি, ন্যাপ, ঐক্য ন্যাপ, গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা তপন দত্তের নেতৃত্বে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রসহ কয়েক’শ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

এদিকে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। নানা বাদ্য যন্ত্রের তালে তালে কুচকাওয়াজ, অভিবাদন আর মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় মহান স্বাধীনতার গৌরবগাঁথা চিত্র। সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা।

এরপর জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিতে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম ও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার।

প্যারেড কমান্ডার আবদুল ওহাবের নেতৃত্বে কুচকাওয়াজে অংশ নেয় জেলা পুলিশ, নগর পুলিশ, আনসার, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারারক্ষী দল, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস, কমিউনিটি ভলান্টিয়ার্সের দল।

ajm copy

অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেয় জেলা নৌ স্কাউট, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন স্কুল স্কাউট, গালর্স গাইড, চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ডা. খাস্তগীর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, হাজি মুহাম্মদ মহসিন উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, অংকুর সোসাইটি স্কুল, মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল, নাসিরবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কদম মোবারক এমওয়াই, রেলওয়ে পাবলিক, বন গবেষণাগার, বাকলিয়া আদর্শ বালিকা, হাতেখড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কাজীর দেউড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছোটমণি নিবাস, রেলওয়ে স্টেশন কলোনি, সরকারি শিশু পরিবার, লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পোস্তারপাড়, কাপাসগোলা, চট্টগ্রাম বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, ফুলকুঁড়ি আসর, চিটাগাং পুলিশ ইনস্টিটিউট, বিজিএমইএ স্কুল, দক্ষিণ কাট্টলী প্রাণহরি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি মূক বধির বিদ্যালয়, সরকারি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছে।

বেলা সোয়া ১১টায় শুরু হয় ডিসপ্লে। উদ্বোধনী ডিসপ্লে ছিল শুভ্রা সেনগুপ্তার পরিচালনায় শিশু একাডেমির শিশুদের। এরপর শিশু পরিবারের বালিকাদের পরিবেশনা ছিল অসাধারণ। কুচকাওয়াজে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন মো. মমিনুর রহমান ও নাসরিন সুলতানা।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ শেষে সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা। এতে ১২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ৭ সদস্যকে সংবর্ধনা জানায় জেলা প্রশাসন।

অন্যদিকে সকালে বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি করেছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদ, চট্টগ্রাম। র্যালিতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, শিশু-কিশোরের পাশাপাশি অংশ নিয়েছে ১৪টি সরকারি বাহিনী ও সংস্থার সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা, বিজয় মেলা পরিষদের গঠন করা বিভিন্ন স্কোয়াড, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেন।

ঢোলবাদ্য, ব্যান্ড বাজিয়ে, দেশাত্মবোধক গান গেয়ে হাজার হাজার নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ র্যালিকে ভিন্নমাত্রা এনে দেয়। গায়ে কাদা লেপ্টে একদল নকল মেশিনগানের মাথায় পতাকা লাগিয়ে এসেছিল র্যালিতে। এসময় মুক্তিযুুদ্ধের অবিস্মরণীয় ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান মুর্হুমুহু ধ্বনিত হতে থাকে র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে।

সাবেক মেয়র ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী র্যালিতে নেতৃত্ব দেন। সঞ্চালনা করেন র্যালি উপ-পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী।

ব্যান্ড বাজিয়ে নগর পুলিশের একটি চৌকস ব্যান্ডদল র্যালিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যান। নগর পুলিশের পেছনে ছিল সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। এরপর যথাক্রমে জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, আনসার-ভিডিডি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষীরা, ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেট ও অফিসারবৃন্দ, যুব রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নির্বাপক দল, মেরিটাইম ইনস্টিটিউট, বিএনসিসি’র পতাকাবাহী দল, রেডক্রিসেন্টের সদস্যরা র্যালিতে অংশ নেয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ে, ওয়াসা, বিটিসিএল, পিডিবি’র কর্মকর্তা-কর্মচারিরা পৃথক ট্রাকে করে র্যালিতে অংশ নেয়। আনসার বাহিনীর আলাদা একটি বাদক দলও এতে অংশ নেয়।

সরকারি বাহিনী ও সংস্থার পেছনে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মূল ব্যানার নিয়ে সংগঠকরা এগিয়ে যান। এর পেছনে ট্রাকে ট্রাকে ছিলেন বিভিন্ন স্কোয়াডের সদস্যরা। আওয়ামী লীগ, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাপসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও কেউ পায়ে হেঁটে কেউ ট্রাকে করে অংশ নেন।