মর্নিংসান২৪ডটকম Date:২৬-১২-২০১৫ Time:১২:৩২ অপরাহ্ণ


শীতের হাওয়া বাড়ার সাথে সাথে নির্বাচনী হাওয়াও জমে উঠেছে

শীতের হাওয়া বাড়ার সাথে সাথে নির্বাচনী হাওয়াও জমে উঠেছে

সুমন চৌধুরী,চট্টগ্রাম:
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী আগামী সোমবার মধ্যরাতেই শেষ হবে সব ধরণের প্রচার প্রচারণা। শীতের হাওয়া বাড়ার সাথে সাথে নির্বাচনী হাওয়াও জমে উঠেছে। তাই শেষ মূূহুর্তের জমজমাট প্রচারণায় জমে উঠেছে চট্টগ্রামের ১০ পৌরসভা নির্বাচনের মাঠ। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রার্থীদের গণসংযোগ। শীত উপেক্ষা করে প্রার্থী ও সমর্থকরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিচ্ছেন। মেয়র প্রার্থী ছাড়াও মহিলা ও পুরুষ কাউন্সিলর প্রার্থীরাও জোরেশোরে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রচারণা ততই জমে উঠছে। গ্রামীণ জনপদের নির্বাচনী এলাকায় এখন নির্বাচনী আমেজে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে নানান হিসেব নিকাশ। শেষ মূূহুর্তে এসে আরো কিছুটা সুসংহত হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। রাউজানে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মেয়র পদ প্রার্থী হওয়া সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা সরে দাঁড়িয়েছেন। এরমাধ্যমে চট্টগ্রামের দশ পৌরসভায় এখন আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই।

অপরদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, নেতাকর্মী ও প্রচারণায় ব্যবহৃত গাড়ি, নির্বাচনী অফিসে হামলা চালানোর অভিযোগ খাকলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে চান তারা।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, আসন্ন পৌর নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১০ পৌরসভায় ৫১৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এরমধ্যে মেয়র পদে ৪৬ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৮৬ ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৮৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। বর্তমানে নির্বাচনী দৌড়ে রয়েছেন ৪৫০ জন প্রার্থী। এরমধ্যে কাউন্সিলর পদে ৩৪ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭৭ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মেয়র পদে ৩৪ জনের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১০ জন ও বিএনপি সমর্থিত নয়জন প্রার্থী রয়েছেন। চন্দনাইশ পৌর মেয়র পদে বিএনপির শরিকদল এলডিপিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

চন্দনাইশে ধানের শীষ প্রতীক নেই। পটিয়া পৌরসভায় নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙল মূল লড়াইয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। অন্য পৌরসভায় নৌকা আর ধানের শীষের মধ্যে মূল লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে। এতে নৌকা আর ধানের শীষ মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এই মর্যাদার লড়াইয়ে নৌকা নাকি ধানের শীষ এগিয়ে যাবে-তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

১০ পৌরসভার বাঁশখালীতে নৌকা প্রতীকে সেলিমুল হক চৌধুরী, বিএনপি সমর্থিত কামরুল ইসলাম হোসাইনী, সন্দ্বীপে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের জাফরুল্লাহ ও ধানের শীষ প্রতীকে আজমত উল্লাহ বাহাদুর ও বারৈয়ারহাটে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের নিজাম উদ্দিন ও ধানের শীষ প্রতীকে মঈন উদ্দিন লিটন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই পৌরসভায় দুই দলের একক প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি এছাড়াও নির্বাচনে রয়েছে পটিয়া, সীতাকুন্ড, সাতকানিয়ায় তিন পৌরসভায় জাতীয় পার্টি প্রার্থী রয়েছে। ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী রয়েছেন রাঙ্গুনিয়া, চন্দনাইশে। মিরসরাইয়ে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রয়েছে। চন্দনাইশে এলডিপির প্রার্থী রয়েছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ছাড়া চার রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

রাউজানে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মনোনীত প্রার্থী দেবাশীষ পালিত আর ধানের শীষ প্রতীকে রয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপি সদস্য সচিব কাজী আবদুল্লাহ আল হাছান।

মিরসরাইয়ে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন ও ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এ জেড এম রফিকুল ইসলাম পারভেজ।

সীতাকুন্ডে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বদিউল আলম ও ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আবুল মনসুর লড়ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা নায়েক (অব.) শফিউল আলম ও পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজ-উদ-দৌলা। ইতোমধ্যেই দুই প্রার্থী আওয়ামী লীগ ছেড়েছেন।

সাতকানিয়া মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. জোবায়ের ও সাতকানিয়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি হাজি রফিকুল আলম ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চন্দনাইশে নৌকা প্রতীক থাকলেও ধানের শীষ নেই। নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম খোকা ও এলডিপি সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. আইয়ুব।

পটিয়ায় নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র ও পৌরসভা আ.লীগের সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশীদ ও ধানের শীষে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল আলম ছাড়াও লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী জেলা জাপা সভাপতি সাবেক মেয়র শামসুল আলম মাস্টার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি (এনাম গ্রুপ) কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইব্রাহিমও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

এদিকে চট্টগ্রামের পৌরসভাগুলোতে মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি মানছেন কিনা তা মনিটরিং করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে জেলা প্রশাসন থেকে প্রতি পৌরসভায় একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পৌরসভাগুলোতে কাজ করছেন। এখন পৌরসভাগুলোতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করলেও নির্বাচনের ২ দিন আগে থেকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন বলেন, নির্বাচনের দুইদিন আগে, নির্বাচনের দিন এবং পরবর্তী দুইদিনসহ মোট ৫ দিন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ পর্যন্ত পটিয়াসহ কয়েকটি পৌরসভায় কয়েকজন প্রার্থীকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে সবগুলো নির্বাচনী এলাকায় রয়েছে আইন শৃংখলাবাহিনীর কড়া নজরদারি। আচরণবিধি পর্যবেক্ষণ কাজ করছে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। এদিকে জেলা পুলিশের একাধিক মাঠ জরিপের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের ১০ পৌরসভার মধ্যে চারটি পৌরসভাকে অত্যাধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কাগজে কলমে অন্য ছয় পৌরসভাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বলা না হলেও বেশিরভাগ পৌর সভায় শতকরা ৮০ ভাগের বেশি ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পুলিশের তালিকায় রয়েছে।

তবে ভোটাররা বলছে, নির্বাচন হচ্ছে পৌরসভায়। কিন্তু আমেজ চলছে জাতীয় নির্বাচনের। দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন থেকে শুরু করে প্রচার-প্রচারণা সবই হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের আদলে। কারণ প্রথমবারের মত মেয়র প্রার্থীরা লড়ছেন দলীয় প্রতীকে।

 




বৈশাখী আমেজে শোকের ছায়া,সিদ্দিক আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত
দোহাজারী-গুনদুম প্রকল্পের টেন্ডার আহবান,এডিবির অর্থায়ন নিশ্চিত
গাউসুল আযম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ (কঃ)মাইজভান্ডারীর ১১১তম উরস শরিফ ১০ই মাঘ ২৪ জানুয়ারি
সঙ্গীতের দিকপাল গফুর হালীর জীবনাবসান
জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হলেন সীতাকুন্ডের সিফাত: প্রধানমন্ত্রীর কাছ পদক গ্রহন
কে হবেন বুয়েটের উপাচার্য ?
‘স্নাইপার’ রাইফেল জেএমবির আস্তানায় এলো কিভাবে?
শীতের হাওয়া বাড়ার সাথে সাথে নির্বাচনী হাওয়াও জমে উঠেছে
বাংলাদেশ অনুকরণীয় দেশ