মর্নিংসান২৪ডটকম Date:28-12-2015 Time:4:08 pm


‘স্নাইপার’ রাইফেল জেএমবির আস্তানায় এলো কিভাবে?

‘স্নাইপার’ রাইফেল জেএমবির আস্তানায় এলো কিভাবে?

 মর্নিংসান প্রতিবেদন :
আমেরিকার তৈরি ‘এমকে-১১ স্নাইপার’ নামের অত্যাধুনিক অস্ত্রটি চট্টগ্রামে জেএমবির গোপন আস্তানায় কি করে পৌঁছেছে তা নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহীনির কর্মকর্তারা বিস্মিত । বিস্মিত এইজন্যে যে, জঙ্গিদমনে পুলিশ সদর দপ্তরের গোপন নির্দেশনা কী করে জেএমবির ঘাঁটিতে পাওয়া গেল!

পুলিশের বরাত দিয়ে রেডিও তেহরান জানায়, ‘এমকে-১১ স্নাইপার’ নামে অত্যাধুনিক রাইফেলটি এর আগে বাংলাদেশে উদ্ধার হয়নি এবং ব্যবহারও হয়নি। এ অস্ত্রটি দিয়ে এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূর থেকে নির্দিষ্ট বস্তুকে টার্গেট করা সম্ভব। আর এই অস্ত্রটি আমেরিকার সৈন্যরাই ব্যবহার করে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর-দক্ষিণ) বাবুল আক্তার বলেছেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে আমেরিকার সৈন্যরা পাকিস্তানে আল কায়দার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার সময় এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছে। বিরল এবং অত্যাধুনিক অস্ত্রটি বাংলাদেশের জঙ্গিদের হাতে চলে এসেছে। এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আতংকের বিষয়।’

এ ছাড়া হাটহাজারীর আমানবাজারের হাজি ইছহাক ম্যানশন নামে একটি দোতলা ভবন থেকে অভিযান চালিয়ে যেসব গোপন নথিপত্র পেয়েছে তাতে জঙ্গি সদস্যদের ছিনতাইয়ের ঘটনার পর পুলিশ সদরদপ্তর থেকে জারি করা একটি স্পর্শকাতর গোপন নির্দেশনাও রয়েছে। এসব নথিপত্র জঙ্গিদের কাছে কিভাবে পৌঁছল তা নিয়ে হতবাক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রবিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত চালানো অভিযানে জেএমবির আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি এমকে-১১ স্নাইপার রাইফেল, ২৫০ রাউন্ড গুলি, দুই কেজি জেল এক্সপ্লোসিভ, ১০টি ডেটোনেটর, বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম, ১৪টি সামরিক পোশাক, নেমপ্লেট ও ব্যাচ, র্যাংক এবং সাংগঠনিক বিভিন্ন নথিপত্র। অভিযানে জেএমবির তিনজন সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ বলেছে, আমানবাজার এলাকায় যে বাসায় অভিযান চালানো হয় ওই বাসাটি ছিল চট্টগ্রাম অঞ্চলের জেএমবির সামরিক কমান্ডার ফারদিনের আস্তানা এবং বোমা তৈরির কারখানা। আটক ৩ জন জেএমবি সদস্যকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, জেএমবি বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করেছিল।

এদিকে মানবজমিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্নাইপার রাইফেল উদ্ধারের ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, অত্যাধুনিক এ অস্ত্র বাংলাদেশে কোথা থেকে কিভাবে এলো এটিও প্রশ্নের বিষয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সমাজের মধ্যে বিভাজন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য মসজিদে হামলা করা হচ্ছে। যারাই করুক তারা জেনে শুনে পরিকল্পনা করে করছে। কাদিয়ানি মসজিদে হামলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে যে ধরনের হামলা হয় সে ধরনের হামলা হয়েছে। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস।

তিনি বলেন, সৌদি সামরিক জোটে বাংলাদেশ যোগ দিয়ে নিজেদের বিপদ ডেকে আনলো কিনা সেটাও দেখার বিষয়। চট্টগ্রামে জঙ্গি আস্তানা থেকে এমকে-১১ রাইফেল উদ্ধার হয়েছে। এ রাইফেল তো সর্বাধুনিক অস্ত্র। মধ্যপ্রাচ্য ইরাকে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এ অস্ত্র জঙ্গিদের কাছে কিভাবে আসলো। এটা তো খোলা বাজারে কেউ কিনতে পারবে না।

সাখাওয়াত বলেন, এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। এটার অনুসন্ধান কে করবে। জঙ্গি আস্তানাগুলো খুঁজে বের করার দায়িত্ব যাদের তারা কতটা পারদর্শী। গোয়েন্দাদের দুর্বলতা আছে। তাদের যে মুখ্য কাজ তারা সেটা বাদ দিয়ে অন্য কাজ করছে। এটাকে হালকা করে দেখার বিষয় না। দেশের মধ্যে যে জঙ্গি সংগঠনগুলো আছে তারা এখন কোথায়। তারা কি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে?

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হলে কিভাবে মোকাবিলা করবে সরকার। এজন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া প্রয়োজন। যারা সরকারের সঙ্গে সুর মেলায় তাদের কথা শুনলে হবে না। এ নিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক সংলাপের প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এম মুনীরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলা হলো। এর দায় আইএস স্বীকার করেছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার ধরনের দিক থেকে নতুন মাত্রা যোগ হলো। দুদিক দিয়ে বিষয়টি ভালো নয়। প্রথম হলো- আগে শিয়াদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এখন কাদিয়ানিদের ওপর হামলা হলো। দ্বিতীয়ত হলো- এই প্রথম বাংলাদেশে আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলা হলো। এর আগে আত্মঘাতী হামলা হয়নি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে জঙ্গি আস্তানা থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র এমকে-১১ উদ্ধারের বিষয়ে এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, এর আগে এত অত্যাধুনিক অস্ত্র বাংলাদেশের জঙ্গিদের হাতে দেখা যায়নি। এটি ভয়াবহ উদ্বেগের বিষয়।

 




বৈশাখী আমেজে শোকের ছায়া,সিদ্দিক আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত
দোহাজারী-গুনদুম প্রকল্পের টেন্ডার আহবান,এডিবির অর্থায়ন নিশ্চিত
গাউসুল আযম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ (কঃ)মাইজভান্ডারীর ১১১তম উরস শরিফ ১০ই মাঘ ২৪ জানুয়ারি
সঙ্গীতের দিকপাল গফুর হালীর জীবনাবসান
জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হলেন সীতাকুন্ডের সিফাত: প্রধানমন্ত্রীর কাছ পদক গ্রহন
কে হবেন বুয়েটের উপাচার্য ?
‘স্নাইপার’ রাইফেল জেএমবির আস্তানায় এলো কিভাবে?
শীতের হাওয়া বাড়ার সাথে সাথে নির্বাচনী হাওয়াও জমে উঠেছে
বাংলাদেশ অনুকরণীয় দেশ