টিউলিপের সমালোচনা করে স্পিকার তোপের মুখে

টিউলিপের সমালোচনা করে স্পিকার তোপের মুখে
টিউলিপের সমালোচনা করে স্পিকার তোপের মুখে
টিউলিপের সমালোচনা করে স্পিকার তোপের মুখে

ডেস্ক রির্পোট :
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের প্রতি রুঢ় আচরণ করে ব্রিটিশ মিডিয়ার তোপের মুখে পড়েছেন হাউস অব কমন্সের নারী ডেপুটি স্পিকার এলিনর লাইং।

শুক্রবার হাউস অব কমন্সে ইউনিভার্সেল ক্রেডিট ওয়েলফেয়ার রিফর্ম নিয়ে বিতর্ক চলাকালে সন্তান সম্ভবা ক্ষুধার্ত টিউলিপ কিছু খাওয়ার জন্যে বেড়িয়ে গেলে স্পিকারের দায়িত্ব পালনরত ডেপুটি স্পিকার এলিনর লাইং রুঢ় ভাষায় সমালোচনা করেন টিউলিপের।

হাউজ অব কমন্সের রেকর্ড অনুসারে টিউলিপ এসেছিলেন স্থানীয় সময় দুপুর ১২ টা ত্রিশ মিনিটে। ২ টা ত্রিশ মিনিটে তার একটি বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল, আসার ১৫ মিনিটের মধ্যে খাবার খেতে তিনি বাইরে যান। এই জন্যই হাউজ অব কমন্সের ডেপুটি স্পিকার এলেনর ল্যাইং টিউলিপকে বলেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়াকে ‘অজুহাত’ হিসেবে ব্যবহার করে হাউজ অব কমন্সের নিয়ম ভঙ্গ করেছেন । ডেপুটি স্পিকারের চেয়ার থেকে তিনি বলেন, চেম্বারে কেউ ভাষণ দেয়ার আগে তার ভাষণের আগ পর্যন্ত এবং এর পরবর্তী দুটি ভাষণ পর্যন্ত থাকাটা ভদ্রতা। যার আজ এমনটি করেনি তারা ভালো করেই জানে তারা কী।

৪৫ মিনিট পরে টিউলিপ ফিরলে তাকে ডেকে পাঠান ডেপুটি স্পিকার। ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, টিউলিপ ডেপুটি স্পিকারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং নিজের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথা উল্লেখও করেননি। কিন্তু নারী ডেপুটি স্পিকার লেইং তার বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, আমার সঙ্গে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অজুহাতটা ব্যবহার করো না। মানুষ ভাববে যে নারীরা হাউজের নিয়ম মানতে পারে না কারণ তারা অন্তঃসত্ত্বা হয়। তুমি পুরো নারী জাতির অবমাননা করেছ।

একজন নারী ডেপুটি স্পিকারের এধরণের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক এমপি। বিষয়টি নিয়ে স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানানো উচিৎ বলে টিউলিপকে বোঝান তারা। অথচ কোনো অভিযোগ না জানিয়ে উল্টো সৌজন্য বজায় রেখে খেতে যাওয়ার জন্য এলিনরের কাছে ক্ষমা টিউলিপ সিদ্দিক।

টিউলিপ সিদ্দিক ওই রুঢ় আচরণের জবাবে বেশ শান্ত ভাবে বলেন, ‘হাউজ অব কমন্সের এ ধরণের রেওয়াজ যে আধুনিক যুগের সবার জন্যই বেমানান, সেটাই দেখলাম। আর সন্তান সম্ভবা নারী কিংবা অন্যান্য বিশেষ অবস্থার বেলায় এই রেওয়াজের অসাড়তা বলার অপেক্ষাই রাখে না। এমন অনেক জরুরি মুহূর্ত থাকে যখন প্রশাসনিক অনুমতি নেয়ার সময়-সুযোগ থাকে না। এধরণের জরুরি ব্যাপারগুলো বুঝতে হলে কমন সেন্স থাকাই যথেষ্ট’।