ফেইমের কল্যাণে রোমের যৌনতা দেখল চট্টগ্রামের মঞ্চ নাটকপ্রেমীরা

ফেইমের কল্যাণে রোমের যৌনতা দেখল চট্টগ্রামের মঞ্চ নাটকপ্রেমীরা
ফেইমের কল্যাণে রোমের যৌনতা দেখল চট্টগ্রামের মঞ্চ নাটকপ্রেমীরা
ফেইমের কল্যাণে রোমের যৌনতা দেখল চট্টগ্রামের মঞ্চ নাটকপ্রেমীরা

লেখা ও ছবি কমল দাশ:

ফেইমের কল্যাণে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে রোমের যৌনতা দেখল চট্টগ্রামের মঞ্চ নাটকপ্রেমীরা। চট্টগ্রামের অন্যতম সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র ফেইম স্কুল অব ডান্স, ড্রামা অ্যান্ড মিউজিকের নাট্যকলা বিভাগ মঞ্চে নিয়ে এসেছে তাদের নতুন নাটক ক্যালিগুলা।

৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মঞ্চে নাটকটির দ্বিতীয় মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়। নাটকটির নির্মাণ ভাবনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অসীম দাশ।

অসম্ভবকে সম্ভব করার আকাঙ্ক্ষা উন্মাত সম্রাট ক্যালিগুলা। যে আকাঙ্ক্ষায় তুচ্ছ হয়ে ওঠে সাধারণের প্রাণ। সমতার পৃথিবী গড়ে তোলার রক্তাক্ত প্রয়াস অবশেষে রূপ নেয় করুণ পরিণতিতে। ঠিক এমনই একটি গল্প উঠে এসেছে এ নাটকে।

KA 1

অকাট্য যুক্তি

আসলে ক্যালিগুলার চরিত্রটা বড় অদ্ভূত৷ সে উপলব্ধি করে যে মানুষ মরণশীল, কিন্তু বোন দ্রুসিলার মৃত্যু সে মেনে নিতে পারে না৷ বোন দ্রুসিলার মৃত্যুর পর সম্রাট ক্যালিগুলা আবিষ্কার করলেন মৃত্যুর কাছে সবাই সমান। ভালোবাসা কিংবা অনুকম্পা সহ্য হয় না তাঁর। অর্থহীন ক্রোধ আর ঘৃণার বিচারে ডুবে যান তিনি। নিজের পর্ষদ থেকে দরিদ্র প্রজা, রেহাই পায় না কেউ। জনগণকে পতিতালয়ে যেতে বাধ্য করার পাশাপাশি তাদের না খাইয়ে মারার জন্য শস্যাগার বন্ধের নির্দেশ দেন তিনি। এর বিরুদ্ধেই সে জেহাদ ঘোষণা করে৷ নৈরাজ্য কায়েম করতে চায়৷ অর্থাত্‍ যে উপলব্ধি থেকে সিদ্ধার্থ উত্তীর্ণ হয়েছিলেন গৌতম বুদ্ধতে, সেই একই রকমের উপলব্ধি থেকে ক্যালিগুলার মধ্যে জেগে ওঠে নেতিবাচক শক্তি৷ অর্থাত্‍ একই বোধের দুটো সম্পূর্ণ বিপরীত প্রতিক্রিয়া৷ নিছক কোনও স্বেচ্ছাচারী রাজা সে নয়৷ ধ্বংসের যে পথে সে চলে, তার পক্ষে যুক্তিও খাড়া করে৷ যে সব মানুষ ক্যালিগুলার কাজ-কর্মে অতিষ্ঠ, আবার তাঁর আশেপাশে ঘুরেও বেড়াতে হয়, তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন যে নিজের দর্শনের পক্ষে যেসব যুক্তি ক্যালিগুলা খাড়া করে, তা মারাত্মক৷ তা উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়৷ আর সে জন্যই ক্যালিগুলাকে হত্যা করেই ব্যাপারটা শেষ করা সম্ভব নয়৷ তাঁকে শেষ করতে হলে শেষ করতে হবে তাঁর যুক্তিতে মোড়া দর্শনকেও৷ এক অবাধ, অপার যৌনতা নিত্যসঙ্গী এ রোমান সম্রাটের৷ একার জন্য নয়৷ তিনি সকলের কথাই ভাবেন৷ দেশের গণিকালয়ের আয়তন বাড়িয়ে দেন৷ সকলের সেখানে যাওয়া বাধ্যতামূলক করেন। ঘন ঘন সেখানে যাওয়া নাগরিককে সোনার মেডেল দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি৷

দেশের বহু মানুষ দুর্ভিক্ষে মারা গিয়েছেন যখন, তখন সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করানো হলে ক্যালিগুলা যুক্তি দেন, মৃত্যু যে এ ভাবে আসতে পারে সেই সত্যের মুখোমুখি হওয়া প্রয়োজন৷ আর মৃত্যু ঠেকাতে সম্রাট হিসেবে তিনি কোনও মতেই কম দায়িত্ব পালন করেননি৷ তিনটে যুদ্ধের ডাক তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন, সে ডাকে সাড়া দিলে আরও অনেক বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারতো! কে পারবে তাঁর সঙ্গে যুক্তির লড়াইয়ে! আসলে ক্যালিগুলার হয়ে এখানে লড়েছেন যে স্বয়ং কামু৷ ক্যালিগুলা চরিত্রে অসামান্য অভিনয় করেছেন তরুণ অভিনেতা মুবিদুর রহমান সুজাত। অন্যান্যরাও কম সফল নন।

মানবিক অস্তিত্বের অ্যাবসার্ডিটি ক্যালিগুলা। ক্যালিগুলার মতো কোনও শাসককে আমরা আজকের দিনে কেমন করে চিনব, এই প্রশ্নটা ঝুলেই থাকে।

যে ঘৃণা সম্রাট ক্যালিগুলার চরম আশ্রয়

এক বিধ্বংসী মতবাদ ও স্বপ্নের সামনে দাঁড়িয়ে আমরা। এক বার তা শরীরে মিশে গেলে যুক্তিতর্ক কোন অলৌকিক জ্যোৎস্নায় হারিয়ে যায়। জেগে থাকে শাসকের দেওয়া রঙিন স্বপ্নের ফানুস আর পরস্পরের প্রতি এক অন্তহীন ঘৃণা।

ফেইম নাট্যকলা বিভাগের ২২তম এই প্রযোজনার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন – মুবিদুর রহমান সুজাত, পলি চৌধুরী, আব্দুল কাদের জিতু, বাপ্পী সিকদার, নাজিয়া তাবাসসুম, রুমেল বড়ুয়া, কমল বড়ুয়া, প্রেম পাঠক, সানোয়ার সুমন, এস. এম. আবু আবদুল্লাহ, নিশিগন্ধা দাশ গুপ্তা, খাদিজাতুল কুবরা, আজমল হোসেন ও আশরাফা হোসে ।