শিক্ষক সুপ্রিয় দে-খাঁ’র দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পিংকী বড়ুয়া

12চট্টগ্রাম অফিস:
বর্বরোচিত নির্যাতনের শিকার পিংকী বড়ুয়া’র সংবাদ সম্মেলন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস কাবের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে পিংকী বড়ুয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মহিলা কাউন্সিলর ও বেসরকারি কারা পরিদর্শক জেসমিন পারভীন জেসি, নারীনেত্রী ও চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের প্রাক্তন পরিচালক খালেদা আক্তার চৌধুরী, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন-চট্টগ্রাম মহানগরীর বিশেষ প্রতিনিধি আমিনুল হক বাবু, পিংকী বড়–য়ার পিতা স্বপন বড়–য়া, সমাজকর্মী নোমান উল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন-চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, পিম্পল বড়ুয়া নিলয়, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন-চট্টগ্রাম মহানগরীর দপ্তর সম্পাদক সেলিম হোসেন চৌধুরীসহ পিংকী বড়–য়া’র মা শিপ্রা বড়ুয়া, মেয়েসহ স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন।

মানবিক ডাকে সাড়া দেওয়ায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ, নারী নেত্রীদ্বয় ও মানবাধিকার নেতৃবৃন্দসহ যারা একজন নির্যাতিত নারীর পক্ষে এগিয়ে এসেছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে পিংকি বড়ুয়া বলেন- সাত বছর আগে গৃহ শিক সুপ্রিয় দে-খাঁ’র সহিত আমার বিয়ের পর কিছু দিন যেতে না যেতেই আমার স্বামী সুপ্রিয় দে-খাঁ’র নানা অনাকাঙ্খিত দূর্বব্যবহার, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, যৌতুকসহ বহু অনৈতিক কার্যকলাপ দৃষ্টিগোচর হয়। পেশায় শিক্ষক হিসেবে তিনি খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১০ হতে ২০১৪ পর্যন্ত দায়িত্বরত অবস্থায় অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছাত্রীদের সহিত অশ্লীল অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসে। বিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীদের নানা প্রলোভন ও ভয় প্রদর্শন পূর্বক তাদের সাথে অবৈধ দৈহিক সর্ম্পকে লিপ্ত হয়।

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সে জামালপুর জিলা স্কুলে বদলি হয়। তৎসময়ে বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করায় প্রশাসন ২০১৫ সালের মে মাসে তাকে বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করে। বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সে বর্তমানে চারুকলা বিষয়ে শিক্ষকতায় নিয়োজিত। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও অগণিত ছাত্রীদের সহিত অপ্রীতিকর মেলামেশা পূর্বের মত চলমান রাখে। অনেক আদিবাসী ছাত্রীরাও তার অপকর্ম থেকে রেহায় পায়নি। আমার দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর থেকে আমি বারবার ইতিবাচক সদুপদেশ দিয়ে থাকি। সে এই সকল আবেগ ও মনোভাবকে ধুলিসাৎ করে তার পূর্বেকার কুকর্ম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আমার উপরও চরম অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালায়। এমনকি নির্যাতনের ফলশ্র“তিতে গর্ভাবস্থায় আমার একটি সন্তান নষ্ট হয়। এখনো আমার মাথাসহ সারা শরীরে তার বহু নির্যাতনের চিহ্ন বিদ্যমান।

যৌতুকের দাবিতে অনড় থাকায় তাকে ২০১৪ সালে আমার পরিবারের নিকট হতে ৫০হাজার টাকা এনে দিই। এতেও সন্তুষ্ট না হয়ে সে পরবর্তীতে পাঁচ লক্ষ টাকার জন্য আমাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়।
শিক্ষকতার নামের কলঙ্ক, চরম দুশ্চরিত্রবান, অনৈতিক এই ব্যক্তির ধারাবাহিক কর্মকান্ডে অসহনীয় পর্যায়ে উপনীত হলে, আমি গত ৬ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে আইনের আশ্রয় নিই। তৎপরবর্তীতে গত ২১ জানুয়ারি, ২০১৬ তারিখে এই লম্পট শিক্ষক আমাকে অপহরন করেছে বলে, আমার শ্রদ্ধাভাজন পিতা, মাতা ও ফুফাতো ভাইকে আসামী করে বান্দরবান থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে।

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, নিজের স্বজনরা কি পাচারের উদ্দেশ্যে কখনো অপহরণ করতে পারে? গত ২৩শে জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১১ঘটিকার সময় ডিবি কর্মকর্তারা আমার নিজ ছোট ভাইয়ের বাসা থেকে আমি ও আমার ছয় বছরের শিশু সন্তানসহ নারী পুলিশ ব্যতীত গ্রেফতার করে মাইক্রোবাস যোগে বান্দরবান নিয়ে যায়। এছাড়াও চট্টগ্রাম নগরীর টাইগার পাস এলাকা হতে আমার ফুফাত ভাই উৎপল বড়ুয়াকে গ্রেফতার করে একই মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যায়। রাত ৩.০০টায় আমাকে পুলিশ হেফাজতে না রেখে বান্দরবানে অপরিচিত একটি গেস্ট হাউজে কন্যাসহ নিয়ে যায়। সেখানে অপরিচিত সাত আটজন লোক বিভিন্ন্ রকম হুমকি ও মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ করে। সাদা পোশাক পরিহিত ব্যক্তিগণকে তাদের পরিচয় জিজ্ঞেস করলে তারা পুলিশের লোক বলে জানায়। এক পর্যায়ে তারা আমাকে ঐ দুশ্চরিত্রবান শিক্ষকের সহিত একটি কে আটকে রেখে চলে যায়। শেষরাতে আইন বর্হিভূতভাবে আমার কথিত স্বামী আমাকে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু ট্রাইবুন্যাল আদালতে দায়েরকৃত মামলাটি প্রত্যাহার করতে এবং তার অশ্লীল অনৈতিক ক্রিয়াকলাপের স্থিরচিত্রসমূহ প্রকাশ না করতে মানসিকভাবে হুমকি ও চাপ দেয়।

২৪ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় বিকেল ৩টায় আমাকে বান্দরবান কোর্টে হাজির করে। বিচারিক কর্মকর্তা মামলা সম্পর্কে কিছুই জিজ্ঞেস না করে এবং জবানবন্দি না নিয়ে একজন ব্যক্তির জিম্মায় আমাকে জিম্মা দেয়। আশ্চর্যজনক ঘটনা , একজন তথাকথিত শিক্ষক কিভাবে প্রশাসনকে অপব্যবহার করতে পারে ? কোর্ট এলাকা থেকে মুক্তি পেয়ে বের হওয়ার পরও ঐ তথাকথিত নির্লজ্জ শিক্ষক কর্তৃক ভাড়াটে খারাপ প্রকৃতির লোকেরা আমাকে এসিড নিক্ষেপ করবে, তুলে নিয়ে যাবে, আমার পরিবারের ক্ষতি করবে এই ধরনের আক্রমনাত্মক কথাবার্তা বলে।

পরিশেষে পিংকী বড়ুয়া এই চরম অশ্লীলতাকামী, স্ত্রী নির্যাতনকারী, লম্পট শিক্ষক, নিজ ছাত্রীদের জীবন নষ্টকারী, অনৈতিকতায় আবদ্ধ সুপ্রিয় দে-খাঁ’র যথোপযুক্ত শাস্তির জন্য সাংবাদিকবৃন্দের মাধ্যমে প্রশাসনের নিকট দাবি জানান।পাশাপাশি মানবন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দেন।