২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জিএম’র বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্তনেই

Thursday, 28/01/2016 @ 4:11 pm

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জিএম’র বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্তনেই

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জিএম’র বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্তনেই

চট্টগ্রাম অফিস:
বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনিয়ম দুর্নীতি ও মহাব্যবস্থাপক জাঁ নেসার ওসমানের স্বেচ্ছাচারিতা, শিল্পী-সুরকার, গীতিকারদের ন্যায্য পাওনা আদায়সহ সকল অপকর্মের প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে চট্টগ্রাম বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী কল্যাণ সংস্থার নেতারা। পাশাপাশি বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত দাবি করেছেন নেতারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন তাহের। এসময় সংস্থার অর্ধ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে আলাউদ্দিন তাহের বলেন, ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। অথচ আজও পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা থাকলেও শুরু থেকেই চক্রান্ত, কর্তাব্যক্তিদের দায়িত্বহীনতা ও দুর্নীতির কারণে চট্টগ্রামবাসীর আকাঙ্খা পূরণে ব্যার্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বেতারে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের শিল্পীরা ঢাকায় অনুষ্ঠান করতে পারলেও বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের শিল্পীরা পারছে না।তাহলে কী চট্টগ্রাম কেন্দ্র বাংলাদেশ টেলিভিশনের অধীনে নয়?

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের শিল্পী নির্বাচনী পরীক্ষা সরাসরি বিটিভি ঢাকা কেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত হয়েছিল ।এরপর দেড় দশক অতিবাহিত হলেও এখনো শিল্পীদের তালিকাভুক্তির জন্য অডিশন হয়নি। অথচ এটা চট্টগ্রামের শিল্পীদের প্রাণের দাবি। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেমন অডিশন প্রয়োজন ঠিক তেমনি শিল্পীদের গ্রেডেশন জরুরি।

তিনি আরো বলেন, শিল্পীদের সম্মানী পরিশোধ করতে নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে।কিন্তু ঢাকা-চট্টগ্রামের শিল্পীদের সম্মানীতে ব্যাপক তারতম্য। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর মাত্র ১৬ বছরে সাদাকালো থেকে রঙিন সম্প্রচার করতে সক্ষম হলেও ১৯ বছরে পরও বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ রূপ না পাওয়ার পেছনে দায়িত্বপ্রাপ্তা কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতিকে দায়ী করে সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনিয়ম-দুর্নীতি অতীতের সব রেকর্ড ছেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রটি এখন আর সরকারি কোন নীতিমালার মধ্যে নেই। তাই চট্টগ্রামের সকল শিল্পী, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক, গীতিকার, নাট্যকার ও যন্ত্রশিল্পীরা সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছি।
তিনি বলেন, গত চারমাস ধরে সুরকার, সঙ্গীত পরিচালকদের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে । ওই টাকা দিয়ে জিএম’র নিয়োগপ্রাপ্ত প্রযোজক, এডিটর সহযোগীদের বেতন দেওয়া হচ্ছে।
আলাউদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ৬ঘণ্টা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে এটিকে স্বতন্ত্র চ্যানেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিক রয়েছেন।এজন্য ৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দও দিয়েছেন। কিন্তু জিএম নেসার ওসমান এসব টাকা হরিলুট করছেন। ফলে প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর জিএম জাঁ নেসার ওসমান চট্টগ্রাম কেন্দ্রে যোগদান করেন। শিল্পীদের অভিযোগ তিনি যোগদানের পর থেকে তালিকাভুক্ত কোন গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালকদের যুক্ত করে কোন সঙ্গীতানুষ্ঠান ধারণ করা হয়নি। অথচ তা বেআইনি।

জিএম’র নিয়োগ দেওয়া অনভিজ্ঞ ও অদক্ষ প্রযোজকরা তাদের পছন্দের লোকজন দিয়ে ২ থেকে ১০টি গান ধারণ করালেও তালিকাভুক্ত শিল্পীদের ডাকা হচ্ছে না।

শিল্পীদের অভিযোগ, গত চারমাসে ভাল মানের কোন নির্মাণ করে প্রচার করতে পারেনি। অতীদের পুরনো অনুষ্ঠানকে পুনরায় প্রচার করা হচ্ছে এমনকি কিছু অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাকারী ও টেলপে নাম পরিবর্তন করে প্রচার করা হচ্ছে। সরকারি নীতিমালা না মেনেই এসব করা হচ্ছে। পরিচিত কয়েকজন শিল্পীকে ডেকে ১০টা পর্যন্ত গান রেকর্ড করে রাখা হয়। অথচ সুরকার ও পরিচালককে সম্মানী দেওয়া হয় না।

প্রজ্ঞাপন জারি ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ৩৮জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে আলাউদ্দিন বলেন, নিয়োগপ্রাপ্ত এসব প্রযোজক, এডিটর, ক্যামেরাম্যান, মেকাপম্যানদের কাজের কোন অভিজ্ঞতা নেই। তাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে শিল্পী সম্মানী খাত থেকে। ফলে অচিরেই অর্থাভাবে শিল্পীসম্মানী বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে যুবলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীও রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রে সরকারি কোন প্রযোজক নেই জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যারা ছিল তারা জিএম’র অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। পরে জিএম তার পরিচিত দু’জনকে নিয়োগ দিয়ে তাদের মাধ্যমে অর্থ হরিলুট করাচ্ছেন।

নিয়ম না থাকলেও রাত ১২টায় অনুষ্ঠান ধারণের নামে কিছু ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নানা অপকর্ম করছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু বলেন, অনুষ্ঠান সহযোগীরা সরকারি বেতনভুক্ত হলেও প্রত্যেক অনুষ্ঠানের জন্য তাদের নামে ৩ হাজার টাকার চেক ইস্যু করা হয়। এ টাকার ভাগ পান জিএম।

শিল্পীরা সম্মানী না পেলেও ৮০ লাখ টাকা শিল্পী সম্মানী ফেরত গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, জিএম সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোন নিয়ম রক্ষা করছেন না। তার কার্যালয় এখন বালাখানায় পরিণত হয়েছে।
‘দিনে রেকর্ডিং না করে রাতে কেন। শিল্পীরা কি দিনে সময় দিতে পারছেন না?’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সংস্থার সভাপতি কায়সারুল আলম, সহ-সভাপতি শেখ শহীদুল আনোয়ার, মো. মোস্তফা কামাল, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মাহমুদ খান, উপদেষ্টা নাজমুল আবেদীন চৌধুরী, মৃণাল ভট্টাচার্য, জয়নাল আবেদীন, ফাহিম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।