মীর কাসেমের মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি নজরুল

মীর কাসেমের মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি নজরুল
মীর কাসেমের মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি নজরুল

নিউজ ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মামলা থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সদ্য অবসরে যাওয়া বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

সোমবার সকালে যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে আইনি লড়াইয়ের সমালোচনার মুখে তিনি এ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।

সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে মীর কাসেমের মামলার শুনানি শুরু হলে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন নজরুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি ওকালতনামা প্রত্যাহার করে নেন।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই মামলায় আইনজীবী হিসেবে লড়তে সাংবিধানিকভাবে আমার কোনো বাধা নেই। তবে প্রচণ্ড বৈরী পরিবেশের কারণে আমি এ মামলা সরে যেতে বাধ্য হয়েছি।

তিনি বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে আমি অবসরে যাই। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে একজন আইনজীবী হিসেবে আপিল বিভাগে বিভিন্ন মামলার শুনানিতে অংশ নিয়ে আসছি। ওই সব মামলার শুনানি চলাকালে অ্যাটর্নি জেনারেল আমার বিষয়ে কোনো আপত্তি তোলেননি। তবে সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর পক্ষে আইনজীবী হিসেবে আপিল শুনানিতে অংশ নেওয়ায় আমার বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে এভাবে সরকারের বিপক্ষে আইনি লড়াইকে অনৈতিক বলে দাবি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে গতকাল রবিবার নজরুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, এ মামলায় তিনি লড়বেন কি না তা সোমবার জানাবেন।

পরে মাহবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নেয়া অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত ও বর্তমান বিচারপতিদের আদালতের প্রথা ও নিয়মকানুন মেনে চলা উচিত।

তবে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী দাবি করেন, এটা তার সাংবিধানিক অধিকার। তিনি ছয় মাস সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এরপর আর তা ভোগ করবেন না। এই বিতর্কের মধ্যেই সোমবার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা যেন আইনজীবী হিসেবে লড়াই করতে না পারেন সে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেছেন এক আইনজীবী।