মর্নিংসান২৪ডটকম Date:১৩-০৯-২০১৪ Time:১০:৩৮ অপরাহ্ণ


Ukhiya News 2-09-2014দীপন বিশ্বাস, ব্যুরো প্রধান কক্সবাজার অফিস :
কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় বসবাসরত ৫ সহস্রাধিক উপজাতি নানান নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে যুগ যুগ ধরে মানবেতর দিনযাপন করে আসছে। থাকা, খাওয়া, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহ যাবতীয় অধিকার বঞ্চিত এসব উপজাতি সম্প্রদায় ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম এলাকায় বসবাস করলেও তাদের দেখার যেন কেউ নেই এমনটিই জানালেন মোছারখোলা এলাকার চাক্ সম্প্রদায়ের লোকজনেরা।
জানা গেছে, উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের প্রত্যন্ত জনপদ ও দুর্গম পাহাড়ী এলাকা চোয়াংখালী, মাদারবনিয়া, মনখালী ও পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা, মোছারখোলা, লালপাইন্যা, হলদিয়া পালং ইউনিয়নের পাতাবাড়ি সহ প্রভৃতি এলাকায় ৫ হাজারেরও অধিক উপজাতি জনগোষ্ঠী বসবাস করে আসছে যুগ যুগ ধরে। সহায় সম্বলহীন এসব উপজাতি সম্প্রদায়ের অধিকাংশেরই নিজস্ব কোন জমি জমা না থাকায় অন্যের জমি বর্গা চাষাবাদ সহ বনভূমির জমি দখল করে জুম চাষাবাদের পাশাপাশি শাকসবজি আবাদ করে জীবন ধারণ করছে। মাঝে মধ্যে তাদের দখলীয় পাহাড়ি জমি স্থানীয় প্রভাব শালীরা কেড়ে নেন। অধিকাংশ পরিবারের অভিযোগ উপকূলীয় এলাকায় জমি-জমার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কতিপয় প্রভাবশালী মহল তাদের ভোগদখলীয় বনভূমির জায়গা জবর দখল করে মোটা অংকের টাকায় অন্যত্র হস্তান্তর করছে।
লালপাইন্যা গ্রামের থোয়াইপ্র“ রোয়াজা (৫৫) জানান, এখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, থাকা, খাওয়ার তেমন কোন পরিবেশ নাই। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখানে বসবাসরত পরিবারগুলো ঠিকমতো নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পর্যন্ত সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তেলখোলা গ্রামের তৈলাপ্র“ চাকমা (৪৫) জানান, অন্যের বাড়িতে মজুরী থেকে দৈনিক দুই-আড়াইশত টাকা পেলেও তা নিয়ে বাজারে যাওয়া যায় না। পথিমধ্যে বটতলী এলাকায় সশস্ত্র ডাকাতদল সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয় হেডম্যান সুনিপুন চাকমা জানান, যাতায়াতের অভাবে এখানকার বয়োবৃদ্ধ মহিলা পুরুষ সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক চাকমা জানান, তেলখোলা থেকে থাইংখালী পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কের এক কিলোমিটার কার্পেটিং হলেও বাকী ৪ কিলোমিটার পায়ে হেটে চলাচল করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। যে কারণে এখানে বসবাসরত উপজাতিগুলো বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে।