২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিন চট্টগ্রামের পেয়ারার সারা দেশে চাহিদা বাড়ছে

Monday, 15/09/2014 @ 7:29 pm

8
তাপস দে আকাশ,পটিয়া॥ দেশের সব চাইতে বেশী দক্ষিন চট্টগ্রামের বেশি পেয়ারা উৎপাদন হয়। চলতি মৌসুমে পেয়ারা বাম্পর ফলন হওয়ায় । ৪০ কোটি টাকার পেয়ারা উৎপাদন হয়েছে বলে জানান কৃষি অফিস ও পেয়ারা চাষিরা। দক্ষিন চট্টগ্রামে লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালি, বোয়ালখালী, আয়নোরা, চন্দনাইশ ,পটিয়া উপজেলায় পেয়ারা উৎপাদিত হয়। তবে চন্দনাইশ ও পটিয়া উপজেলায় পেয়ারা সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু।তাই এর চাহিদাও বেশি রয়েছে দেশ জুরে। চট্টগ্রাম, ঢাকসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকাররা এখানকার পেয়ারা সরবরাহ করে থাকে। দক্ষিন চট্টগ্রামের কৃষি অফিস গুলো সূত্রে জানাযায়, গত বছর প্রায় তিন হাজার পাঁচ শত একর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামে।এ বছর চাষ আরো বেড়েছে। দক্ষিন চট্টগ্রামের ছোট-বড় পেয়ারার বাগান আছে ৬ হাজার ৫০০টির মত। বেশির ভাগ বাগান গড়ে উঠেছে পাহাড়ে।বাকি গুলো শ্রীমতি খাল ও শঙ্খ নদী পাশ দরে। চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর, হাশিমপুর, ছৈয়দাবাদ, রায়জোয়ারা,ধোপাছড়ি , দোহাজারী ,পটিয়া উপজেলার কেলিশহর, হাইদগাঁও, খরনা, কচুয়াই, বাশাঁখালি উপজেলার, কালীপুর, বোয়ালখালী ,করলডেঙ্গা, সাতকানিয় উপজেলার,পদুয়া,বাজালিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার পূর্বাংশে পাহাড় এবং সমতল ভূমিতে পেয়ারা চাষ করা হয়।গত ২-৩ বছরে চাইতে এবার ফলন খুব ভালো হয়েছে।ভালো দাম পাওয়ায় বেশ খুশি বলে জানিয়েছে কৃষক। তবে বিশ্বে বিভিন্ন জাতেরও পেয়ারা থাকলেও দক্ষিন চট্টগ্রামে,কাজী, আঙগুরী, বাউ ও কাবিরি— এ চার জাতের পেয়রা বেশি পাওয়া যায়। দক্ষিন চট্টগ্রামের হাজার হাজার একর বনভূমিকে যদি পেয়ারা চাষের আওতায় আনা যায়, তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিপুল পরিমাণ পেয়রা বিদেশে রফতানি করা সম্ভব। পাশা পাশি বৈদিশিক মূদ্রা আর্জন সম্বব বলে ধারণা বিশিজ্ঞদের। কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানাযায়,পটিয়া ও চন্দনাইশের আদিংশ পেয়ারা মাঝে খানে লাল থাকে।দেশ জুরে লাল পেয়ারা নামে খ্যাতি রয়েছে ।তাছাড়া কিছু বাগানে ১২ মাসে পেয়ারা পাওয়া যায় এইখানে। কৃষক এই পেয়রাকে বারমাসি পেয়ারা নামে ডাকে। পটিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার পেয়ারা চাষি একাধিক কৃষক আভিযোগ করে বলেন ,তারা দাবী করেন শুধু মাত্র পটিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলায় বছরে ২৫-৩০ কোটি টাকার পেয়ারা উৎপাদন হয় এবং দক্ষিন চট্টগ্রামে তা এই বছর ৪০ কোটি টাকা ছাড়ি যাবে।সরকার বা কৃষি বিভাগ পেয়ারা চাষীদের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসেনি ।বেসরকারিভাবে কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ পেয়ারা চাষীদের। দক্ষিণ চট্টগ্রামের এ অপার সম্ভাবনাময় পেয়ারা চাষে সরকারে সহযোগিতা কামনা করেন এ অঞ্চলের পেয়ারাচাষী ও ব্যবসায়ীরা। পেয়রা চাষিরা আরও বলেন এখন পর্যন্ত কোনো হিমাগার বা পেয়ারা সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা করিনি সরকার এই আঞ্চলরে জন্য।এই হিমাগার না থাকায় অনেক সময় কৃষক সংরক্ষণের অভাবে অত্যন্ত কম দামে পেয়ারা লেবুসহ বিভিন্ন সবজি বিক্রয় করে দিতে হয়।এতে পেয়ারা ও সবজিচাষীরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। চন্দনাইশ উপজেলার মুরাদাবাদ গ্রামের পাইকারী পেয়ারা ব্যবসায়ী নূর আহম্মাদ বলেন, দীর্ঘ দিন আমি পেয়ারা ব্যবসা করে যাছি।এখান থেকে পেয়ারা পরিবহনের মাধ্যম হচ্ছে ,বাস, ট্টাক, পিকাপ ভ্যন ও সিএনজি।পাইকারীতে পেয়ারা ক্রয় করে চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন স্থানে ও বাজারে খুচরা বিক্রয় করে থাকি।আমার মত এই খানে শত শত পাইকার বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় থেকে ভিড় করে।তাছাড়া প্রতিদিন পাইকার গন রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থায়নে বিক্রয় জন্য পেয়ারা নিয়ে যাচ্ছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চট্টগ্রাম -কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া কমল মুন্সীর হাট থেকে দোহাজারী পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে ২৫ কিঃ মিঃ এলাকা জুরে বসে পেয়ারা বিক্রির অস্থায়ী হাট। জুন থেকে আগস্টা মাস পর্যন্ত শধু চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরাই নই, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারি ক্রেতারা ছুটে আসেন পটিয়া ও চন্দনাইশেসহ দক্ষিন চট্টগ্রামে।একটি পেয়ারা খুচরা বাজারে ১ থেকে ৮ টাকায় বিক্রয় হতে দেখা যায়।চন্দনাইশ উপজেলার পেয়াচাষি কৃষক মোঃ আলতাপ মিয়া বলেন ,আমি নিজের ২৮০ শতক জমিতে পেয়ারা চাষ করেছি। যাতে বাগান সংখ্যা হচ্ছে ৭টি ।এত ভালো ফলন গত ২-৩ বছরে দেখা যায়নি। সব পেয়ারা চাষীরা ভালো দাম পেয়েছে এই বছর।একেকটি বাগান থেকে ৩-৫ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রি করা সম্ভব বছরে।বর্তমানে প্রতি ভার পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১৭০০টাকায়।এক ভারে ছয় থেকে সাতশ পেয়ারা থাকে। পটিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শৈবাল কান্তি নন্দী ,দক্ষিন চট্টগ্রামে পটিয়া ও চন্দনাইশে সবছাইতে বেশি পেয়ারা উৎপাদিত হয়।গত ২-৩ বছর চেয়ে এ বছর উৎপাদন অনেক ভালো। তবে বাগান পরিচর্যা ও অন্য কতিপয় বিষয়ে মনোযোগ দেয়া গেলে এ উপজেলা গুলতে পেয়ারার উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব। বাংলাদেশে যে কয়টি পেয়ারা জাত রয়েছে সবচাই চন্দনাইশ ও পটিয়া পেয়রা বেশি সুস্বাদু। এই অঞ্চলের পেয়ারা চাষিদের ধাবির কথা আমাদের উর্ধ্বোতন কর্মকর্তকে জানিয়েছি।তারা সরকারে সীমাবদ্ধাতা কথা বলে। তবে সবজি ও ফলমূল সংরক্ষণের জন্য এই এলাকায় একটি হিমগারের প্রয়োজন রয়েছে। পেয়ারা বিষয়ে জানতে চাইলে ডাঃ আইচ মনিং সান ২৪. কমকে বলেন,দাঁতের ব্যাথার জন্য পেয়ারা কুব উপকারী।পেয়রা গাছের চাল ও শেকড় আমাশয় ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়।মুখের রুচি বাড়াতে পেয়ারা খুব বালো।একটি পেয়রাতে রয়েছে একটি কমলার চাইতে চারগুন ভিটামিন সি।তাই বিশ্বজুরে পেয়ারা গুনি ফল হিসাবে স্বীকৃতি রয়েছে।