নগরীতে পানির সংকট, চলছে রমরমা ব্যবসা

নগরীতে পানির সংকট, চলছে রমরমা ব্যবসা
নগরীতে পানির সংকট, চলছে রমরমা ব্যবসা

সুমন চৌধুরী, চট্টগ্রাম:

নগরীর বিভিন্ন স্থানে শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে ওয়াসা থেকে চাহিদামত পানি না পাওয়া, অন্যদিকে একের পর এক লোডশেডিংয়ের কারণে গভীর নলকূপ থেকেও প্রয়োজনীয় পানি তুলতে না পারা- সবমিলিয়ে পানির জন্য মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠতে শুরু করেছে । বিশেষ করে গরীব মানুষের জীবন। দিনে একবেলা খাওয়ার পানির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় বস্তিবাসিদের । শুধু খাওয়ার পানি নয় নিত্য প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সম্পাদনের জন্যও প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছে না নগরবাসী। যারফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে গৃহিনীদের। আবার এই সুযোগ হাতছাড়া করছে না ওয়াসার অসাধু কর্মকর্তারা। ফলে পনেরশ থেকে তিন হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে এক ভাউসার পানি। কিন্তু পানি না পেলেও মাসে মাসে ওয়াসার পানির বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে নগরবাষিকে।

অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে সিটি করপোরেশন পরিচালিত বিভিন্ন পানির পাম্প হাউজেও পানির জন্য চাপ পড়ছে। এসব পাম্পগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে পানির চাহিদা দ্বিগুণ হয়ে পড়ে।

নগরীর নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থিত সিটি করপোরেশন পানির পাম্প হাউজ থেকে পানি সংগ্রহ করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। তারা ভ্যানে করে ড্রামবর্তী পানি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেন।

এ প্রসঙ্গে গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুম বলে পানির চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। আমরা ৪০ টাকায় এক ড্রাম পানি ক্রয় করে তা জায়গার দূরত্ব ভেদে ১৫০-৩০০ টাকায় নগরীর বিভিন্ন বাসা বাড়িতে সরবরাহ করে থাকি। শুষ্ক মৌসুমে দিনভর এভাবেই পানি সরবরাহ করি আর বিক্রি করি।’

তবে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহর তথ্যমতে, ‘নগরবাসীর চাহিদা পূরণে ৫০ কোটি লিটার পানির দরকার । কিন্তু ওয়াসা এখন দিতে পারছে মাত্র ২১ কোটি লিটার পানি। আবার শুষ্ক মৌসুমে এটি ১৮-২১ কোটি লিটারের মধ্যে ওঠানামা করে।’ ফলে বোঝাই যাচ্ছে শুষ্ক মৌসুমে নগরবাসীর পানির সংকট ও কষ্টের মাত্রা কতটুকু। ২০২১ সালের আগে এ সংকট কাটবে না।