বাংলাদেশ নৌবাহিনী একটি দ্বি-মাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিণত হয়েছে

বাংলাদেশ নৌবাহিনী একটি দ্বি-মাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিণত হয়েছে
বাংলাদেশ নৌবাহিনী একটি দ্বি-মাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিণত হয়েছে

চট্টগ্রাম অফিস:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে নৌবাহিনীতে মেরিটাইম হেলিকপ্টার এবং মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট সংযুক্ত হয়েছে।যার ফলে বাংলাদেশ নৌবাহিনী একটি দ্বি-মাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিণত হয়েছে।আমার বিশ্বাস সমুদ্রের অফুরান জলরাশি কর্মক্ষেত্র হওয়ায় এ বাহিনীর সদস্যদের দেশপ্রেমের গভীরতাও বেড়েছে।’

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঈসা খাঁ ঘাঁটিতে আজ দুপুরে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য সম্প্রতি সংগৃহিত সমুদ্র অভিযান, স্বাধীনতা এবং প্রত্যয় নামের তিনটি যুদ্ধ জাহাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদের দিকে সারা বিশ্বের নজর, তাই এই সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে সমুদ্র সম্পদের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। যা আমাদের কাজে লাগাতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে একটি আধুনিক নৌবাহিনী গড়ে তোলার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। জাতির পিতার মহান প্রত্যয়ের আলোকেই আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি আধুনিক ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলাম।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর জাতির পিতার দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নের ধারাকে অব্যাহত রেখে আমরা নৌবাহিনীর জন্য ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করি। এর পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে নৌবাহিনীতে ১৮টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ সংযোজন করেছি।

এই সংযোজিত যুদ্ধজাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধপারদর্শিতা বৃদ্ধির জন্য অত্যাধুনিক ফ্রিগেট, করভেট ও প্যাট্রোল ভেসেল। হাইড্রোগ্রাফিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সার্ভে ভেসেল এবং লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ফ্লিট ট্যাংকার ও কন্টেইনার ভেসেল বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অবস্থান আরও সুসংহত এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখার উদ্দেশ্যে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে নৌবাহিনীর সহায়তায় পরিচালিত শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

নৌবাহিনীকে আরো যুগোপযোগী করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নৌবাহিনীকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চাই। সেজন্য যা যা করণীয় ইনশাল্লাহ আমরা তা করবো। আমরা চাই বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।’

ইতোমধ্যে নৌবাহিনীকে স্বাধীনতা পদকের জন্য মননোয়ন দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান, দেশের জলসীমার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য এ বছর বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্বাধীনতা পদক পেতে যাচ্ছে।’ স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত হওয়ায় নৌবাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীকে শক্তিশালী এবং যুগোপযোগী করতে সহযোগিতা করায় বন্ধুপ্রতীম দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।