বন্ধের দিনে চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক উন্মুক্ত রেখে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইজারাদার

বন্ধের দিনে চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক উন্মুক্ত রেখে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইজারাদার
বন্ধের দিনে চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক উন্মুক্ত রেখে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইজারাদার

বশির আল মামুন, চকরিয়া প্রতিনিধি: সরকার ঘোষিত সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে (মঙ্গলবার) কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক উন্মুক্ত রেখে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। পার্কের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বন্ধের দিন সাফারী পার্ক খোলা রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কর্মচারীরা। এতে করে ঈদের ছুটি থেকে বঞ্চিত একাধিক কর্মচারী মঙ্গলবার বন্ধের দিন ছুটি কাটাতে না পেরে তাদের স্বজনদের স্বাক্ষাত লাভ করতে পারেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অপরদিকে পার্কের অভ্যন্তরে জমে থাকা ময়লা আবর্জনা বন্ধের দিনে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার নিয়ম থাকলেও ওইদিন পার্ক খোলা থাকায় হাজার হাজার দর্শনার্থী নোংরা পরিবেশে পার্ক পরিভ্রমন করেছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের (বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়) আদেশ ও নিয়মনীতি লঙ্গল করে বন্ধের দিন মঙ্গলবার (১২ জুলাই) বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক খোলা রাখায় এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে গিয়ে দেখা গেছে, সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সাফারী পার্ক খোলা রেখে ইজারাদার নাছির উদ্দিন (চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর ছোট ভাই) পার্ক কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজের মাধ্যমে সরকারী আদেশ অমান্য করে পার্ক খোলা রেখেছে। ওইদিন পার্ক পরিভ্রমনে আসা প্রায় ৪/৫ হাজার দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে টিকিট বিক্রি করে প্রায় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু ওই টিকিট বিক্রির একটি টাকাও সরকারের সংশ্লিষ্ট কোষাগারে জমা পড়েনি। ফলে সরকার প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ইজারা’র চুক্তিপত্রে উল্লেখ রয়েছে পার্কটি মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে। কিন্তু টাকার লোভে সে নির্দেশনার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্কের একাধিক কর্মচারী জানান, ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের আগমন ঘটবে একারণে কর্তৃপক্ষ তাদের ছুটি দেয়নি। কিন্তু গত মঙ্গলবার বন্ধের দিন বিনানোটিশে ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি বিহীন ইজারাদার পার্ক খোলা রাখায় তারা সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে পারেনি। এমনকি পরিবার-পরিজনের সাথেও স্বাক্ষাত করতে পারেনি।

তারা আরো জানান, বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী আগমনের ফলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পার্ক খোলা রেখে নিয়মবর্হিভূতভাবে টাকা আদায় করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সাফারী পার্কের গেইট ইজারাদার নাছির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বন্ধের নিয়ম থাকলেও ঈদ মৌসুমে অতিরিক্ত দর্শনার্থী থাকার কারণে সাফারী পার্ক খোলা রেখেছেন। তিনি টিকিট বিক্রির কথা অস্বীকার করেন। তবে দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, তারা ২০ টাকা দিয়ে টিকিট ক্রয় করেই পার্কে প্রবেশ করে।

এ প্রসঙ্গে বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোলাম মওলা ও ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা নুরুল হুদা’র সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।