মর্নিংসান২৪ডটকম Date:২০-০৮-২০১৬ Time:৪:২৬ অপরাহ্ণ


শরতের শুভ্র প্রতীক কাশফুল

শরতের শুভ্র প্রতীক কাশফুল

কমল দাশ:

শরত্‍, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি
ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুলি
শরত্‍, তোমার শিশির-ধোয়া কুন্তলে
বনের-পথে-লুটিয়ে পড়া অঞ্চলে
আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি…

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখনীতে শরতের রূপ ঠিক এমনই! শরত্‍ হচ্ছে আকাশ ও মাটির মিলনের ঋতু। একদিকে নীল আকাশ, আরেকদিকে কচি ফসলের দুরন্তপনা; একদিকে সোনারঙা রোদ, আরেকদিকে সবুজের কচিমুখ! এরই মধ্যে কাশবন নিয়েছে তার চিরাচরিত শুভ্র রূপ, যেন শুভ্রতার প্রতীক।

কাশফুল শুভ্রতার প্রতীক, শরতের প্রতীক। প্রকৃতিতে কাশফুলের আনাগোনা দেখলেই আমরা বুঝতে পারি যে শরত্‍ ঋতু এসেছে! শরত্‍ ও কাশফুল যেন একে অন্যের পরিচায়ক। কাশফুলের সাথে সাদা মেঘের মিতালি দেখা যায় পুরো শরত্‍কাল জুড়েই।

pic 2

কাশফুলের আদি নিবাস দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলগুলো। এর ইংরেজি নাম Kans grass বা Wild sugarcane। কাশফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Saccharum spontaneum। কাশফুল মূলত ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ। ঘাস প্রজাতির উদ্ভিদ হওয়ায় এর মূল গুচ্ছমূল। কাশফুলের পাতা গাঢ় সবুজ রঙের। রুক্ষ, খসখসে ও সোজা। পাতাগুলো লম্বা হয় প্রায় ১ মিটার পর্যন্ত এবং চওড়া হয় ৬-১৫ মিলিমিটার পর্যন্ত। কাশফুলের সাদা মঞ্জরিটি ১৫-৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। বীজে সূক্ষ্ম সাদা রোম থাকে। এই রোমের কারণেই বীজগুলো উড়ে বেড়ায় এবং কাশফুলের বংশ বিস্তার হয়। অক্টোবর-নভেম্বরে বীজগুলো বাতাসে উড়ে বেড়ায়।
কাশবন দেখা যায় নদীর তীরবর্তী এলাকাজুড়ে। জলাভূমি এলাকা বা পতিত জমিতেও দেখা যায় আদিগন্ত বিস্তৃত কাশবন। কাশফুলের পাতাগুলো খসখসে, ধারালো হলেও কাশফুলগুলো খুবই নরম এবং কোমল। সাদা তুলোর মতোই তুলতুলে এই ফুল।

pic 3

কাশফুল আগাছা হিসেবে বিবেচিত হলেও শুকনো কাশগাছ খুব কাজের জিনিস। কাশগাছ দিয়ে তৈরি করা হয় মাদুর, সীমানার বেড়া। এমনকি ঘরের চালও ছাওয়া হয়।

শরতের স্নিগ্ধতা এক কথায় অসাধারণ! এ সময় না আছে গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ, না আছে বর্ষার অঝোর ধারার বৃষ্টি। আছে শুধু আলোকোজ্জ্বল ঝলমলে দিন, জ্যোত্‍স্নাস্নাত রাত, মৃদুমন্দ সমীরণ আর সেই সমীরণে দুলতে থাকা শুভ্র কাশবন।

 

মডেল : তনি