বন্দর নগরীতে ঢিলে ঢালা হরতাল, কোথাও কোন সহিংসতার খবর নেই

বন্দর নগরীতে ঢিলে ঢালা হরতাল ছবি:আজীম অনন
বন্দর নগরীতে ঢিলে ঢালা হরতাল
ছবি:আজীম অনন

সুমন চৌধুরী, চট্টগ্রাম :

যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার প্রতিবাদে জামায়াতের ডাকা হরতাল বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ঢিলেঢালা ভাবে পালিত হচ্ছে। নগরী কিংবা জেলার কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবিরের মিছিল-সমাবেশ, পিকেটিংয়ের খবরও পাওয়া যায়নি। হরতালে সকালের দিকে যান চলাচল কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর সড়কগুলোতে যান চলাচল বেড়েছে। তবে ব্যক্তিগত গাড়ি কম চলাচল করছে।

ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল থেকে সবকটি ট্রেন যথাসময়ে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে গেছে বলে রেলের বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে। তবে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল কিছুটা কম ছিল বলে পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা প্রায় সবই প্রতিদিনের মত খোলা রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকেও পণ্যবোঝাই পরিবহন স্বাভাবিকভাবে বের হচ্ছে বলে জানা গেছে। নগরীতে স্বাভাবিকভাবেই গণপরিবহন চলাচল করেছে।  তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছুঅংশ হরতালের কারণে বন্ধ থাকলে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রিশা হত্যা বিচারের দাবিতে মানববন্ধনে খবর রয়েছে।

নগর পুলিশের সূত্রে জানা যায়, হরতালে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় নগরী ও জেলায় অতিরিক্ত দেড় হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হরতালে যাতে কোনো প্রকার নাশকতার সৃষ্টি না হয় সেজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

হরতালের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবির মাসুদ বলেন,চট্টগ্রাম বামির বহুদিনের আশা পূরণ হলেও একটু বাকী রয়েগেছে, তা হলো মীরকাসেম আলীকে ফাসীর রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা।আর এখন হরতাল কি চট্টগ্রামবাসী ভুলে গেছে যারফলে চট্টগ্রামে হরতালের বিরুপ কোন প্রভাব পড়েনি।

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মীর কাসেম আলীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে ফাঁসির রায় বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর প্রতিবাদে বুধবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় জামায়াত।