মর্নিংসান২৪ডটকম Date:১৮-০৯-২০১৬ Time:৫:০৭ অপরাহ্ণ


সুন্দর রাখাই যাঁর কাজ – রুম্পা চৌধুরী

সুন্দর রাখাই যাঁর কাজ – রুম্পা চৌধুরী

কমল দাশ: রূপবিশেষজ্ঞ ও নিভানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুম্পা চৌধুরী আড্ডায় আড্ডায় তিনি কথা বলেছেন সৌন্দর্য, রূপ, স্বাস্থ্য সচেতনতাসহ নানা বিষয়ে। পরামর্শ দিয়েছেন ত্বক সুন্দর রাখা, ওজন আয়ত্তে রাখা এবং নারীদের পাশাপাশি পুরুষের রূপচর্চা নিয়েও। পাঠকদের জন্য সেই আলাপচারিতার সারাংশ প্রকাশ করা হলো।

সৌন্দর্য বলতে যা বুঝি:
সৌন্দর্য বলতে আমি যেটা বুঝি… প্রথমেই বলব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কথা, তারপর সুস্বাস্থ্য, সুরুচি, শিক্ষা, যেকোনো মানুষের গুড সেন্স। ভালো মন… আসলে এ রকম অনেক কিছু মিলিয়েই সৌন্দর্য তৈরি হয় এবং আমি সেই সৌন্দর্যেই বিশ্বাস করি।

সচেতনতা বেড়েছে:
মানুষের ভেতরে সচেতনতা এসেছে। এটাকে আমি অনেক বেশি গুরুত্ব দেব। মানুষ সচেতন হয়েছে এবং সচেতনতাটা পজিটিভভাবে এসেছে। সৌন্দর্য মানেই যে কতগুলো কালার কসমেটিকস দিয়ে সেজে থাকা, সেটা না। বিষয়টির গভীরতা আছে, সৌন্দর্য ধরে রাখতে এর পেছনে কাজ করতে হয়। মানুষের ভেতরে এটা এসেছে এবং তারা বুঝতে শিখেছে। অনেকে নরমালি অকেশনালি সাজেন, সেটার বাইরেও যে সৌন্দর্য ধরে রাখার চর্চা করতে হয়, সেই কাজগুলো (এখন) তাঁরা করছেন। সেই সচেতনতা এসেছে। এটাকে আমি অবশ্যই একটা পজিটিভ দিক বলব।

pic-1

এখনকার বিয়ের সাজ:
বিয়ের সাজে অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। আমরা যখন শুরুতে কাজ করেছি, তখন একজন বউয়ের যে চাহিদা ছিল আর এখন একজন বউ যা চান, তার মধ্যে অনেক অনেক পার্থক্য। তখন কালার কসমেটিকস অনেক বেশি ব্যবহার করা হতো, তখন ব্রাইডরা চাইতেন তাঁদের অনেক বেশি ফেয়ার লাগুক। অনেক হাই মেকআপ, সবকিছুই বেশি বেশি করা হতো। যেটা আসলে ন্যাচারাল মনে হতো না। এমনকি আমার বিয়ের সময়ও আমি দেখেছি যে, আমাকে আমার মতো লাগছে না। কিন্তু এখন যে চেঞ্জটা এসেছে সেটা সত্যি। যিনি যা চাচ্ছেন, তা বুঝেশুনেই চাচ্ছেন। তাঁর বিয়ের দিন যেন তাঁকে ন্যাচারাল লাগে এবং তাঁকে তাঁর মতোই লাগে। খুবই ন্যাচারাল লুক পছন্দ করেন সবাই। জুয়েলারি, শাড়ি যা কিছুই পরেন, সেটার মধ্যে অনেক রুচির ছাপ পাওয়া যায়। আসলে আমার মনে হয় মেয়েরা এখন যা কিছু করেন বুঝেশুনেই করেন।

ত্বক ভালো রাখার তিন টিপস:
প্রথমত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য রাতে, দুপুরে আর সকালে তিনবার স্কিনটাকে খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই।
দ্বিতীয়টা আমি বলব, খাওয়া-দাওয়া, ঘুম এবং সারা দিনের মুভমেন্টে একটু ডিসিপ্লিন থাকা। যেমন তিন বেলা এটলিস্ট খাওয়া-দাওয়াটা ঠিকমতো করা এবং খাওয়া-দাওয়ার মধ্যে হেলদি ফুড থাকা। হেলদি ফুড মানে মসলা-টসলা কম খাওয়া এবং নানা রকম আর্টিফিশিয়াল ড্রিঙ্কস বাদ দিয়ে, চিনি বাদ দিয়ে, যতটা সম্ভব ভেজিটেবল খাওয়া এবং এক বেলা মাছ খেলে আরেক বেলা মাংস এবং সেটাও খুব পরিমাণমতো খাওয়া। প্রচুর পানি খাওয়া। বিষয়গুলো মেনে চলা।

ওজন আয়ত্তে রাখুন:
মানুষের সুস্বাস্থ্য ধরে রাখা খুব ইমপরট্যান্ট সৌন্দর্যের জন্য। এবং সবচেয়ে ইমপরট্যান্ট হলো ওজনটাকে ব্যালেন্সড রাখা, আয়ত্তের মধ্যে রাখা। সে জন্য ওই যে খাওয়াদাওয়ার কথায় আসতে হবে। ওজন যে মানুষের সৌন্দর্য বাড়ায়, তা কিন্তু না। (সঠিক) ওজন মানুষের সৌন্দর্য বাড়ায়, সাথে সুস্থতা রক্ষা করতে সাহায্য করে, এনার্জি বাড়ায়, যেগুলো আমাদের খুব দরকার। পারসোনাল লাইফে, কাজের জায়গায় এই বিষয়গুলো খুব হেল্প করে। তো সে ক্ষেত্রে আমিও বলব যে, ওজনটা আসলে নিজের আয়ত্তেই রাখা উচিত সবার।

সুন্দর থাকাটাই বড় কথা:
প্রত্যেকটা মানুষেরই সুন্দর থাকা চাই। ছেলে-মেয়ে তো পরের ব্যাপার, আগে আমরা মানুষ, সেটা ছেলে হই আর মেয়েই হই। তো মেয়েরা যদি নিজেদের সুন্দর রাখতে পারে, সৌন্দর্যসচেতন হতে পারে, ছেলেরা কেন পারবে না? সুখের কথা এই যে, ছেলেরাও আজকাল অনেক সচেতন, যেটা আমার অনেক ভালো লাগে। আমাদের পারলারে ছেলেদের সেকশন আছে, যেখানে আমি দেখেছি মেয়েদের চাইতে ছেলেরাও কোনো অংশে কম না। তাঁরাও নিজেদের যথেষ্টই সুন্দর রাখার চেষ্টা করেন।

মেয়েরা যা কিছু যত্ন করেন, যেমন সৌন্দর্যের প্রথম ধাপ— আমি সব সময় বলি যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। ছেলেদের বেলায়ও একই বিষয় কাজ করবে। আজকাল তাঁদের সৌন্দর্য ধরে রাখা বা তাঁদের স্কিনের যত্ন নেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রোডাক্ট বাজারে এসেছে। মেয়েদের প্রোডাক্টের সাথে ছেলেদের প্রোডাক্টও পাওয়া যাচ্ছে। স্কিনের সাথে যেটা প্রয়োজন, যেটা ম্যাচ করবে, যেমন যাদের অয়েলি স্কিন তারা অয়েলি স্কিনের যেকোনো প্রোডাক্ট ইউজ করতে পারেন। ড্রাই স্কিন, নরমাল স্কিন বা কম্বিনেশন স্কিন সবার জন্যই আলাদা আলাদা প্রোডাক্ট পাওয়া যায়। আমরা যখন কিছু কিনতে যাই, তখন কনটেইনারের গায়ে লেখাও থাকে কী রকম স্কিনের জন্য কোন প্রোডাক্টটা। তো ছেলেরাও যদি তাদের স্কিনের জন্য ওইভাবে ক্লিঞ্জার, টোনার, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন, তাদের ত্বকের সৌন্দর্যটাও তাঁরা ধরে রাখতে পারবেন।