মর্নিংসান২৪ডটকম Date:১২-০২-২০১৭ Time:৬:২৭ অপরাহ্ণ


শেষ দিনে ভারতের দরকার ৭ উইকেট, টাইগারদের ৩৫৬ রান

শেষ দিনে ভারতের দরকার ৭ উইকেট, টাইগারদের ৩৫৬ রান

ক্রীড়া ডেস্ক: টার্গেট ৪৫৯। চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১০৩ রান। এখনও পিছিয়ে ৩৫৬ রানে।

রানের নিচে চাপা পড়ে পরাজয়ের শঙ্কায় রয়েছে বাংলাদেশ। তবুও আশা করা যায় যদি এর ব্যতিক্রমটি ঘটে। ক্রিজে রয়েছেন মাহমুদুল্লাহ ও বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। যদি শেষ দিন তাদের ব্যাট জ্বলে উঠে তাহলে ঐতিহাসিক হায়দরাবাদ টেস্ট স্মরণীয় হয়ে থাকবে টাইগারদের জন্য। এছাড়াও ব্যাটিংয়ে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আরেক ইনফর্ম ব্যাটসম্যান টাইগার টেস্ট দলপতি মুশফিকুর রহিম। টাইগারদের ব্যাটিং লাইনে থাকছেন সাব্বির রহমান আর প্রথম ইনিংসে ভরকে না যাওয়া হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকানো মেহেদি হাসান মিরাজ। ম্যাচের প্রেক্ষাপটে জয় না হোক, ড্রয়ের জন্যই শেষ দিন পর্যন্ত লড়তে হবে টাইগারদের, এটাই সবার প্রত্যাশা।

পাহাড় সমান রানের টার্গেট নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ষষ্ঠ ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের শিকার হন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। ব্যক্তিগত তিন রানে ও দলীয় ১১ রানের প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। বিরাট কোহলির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তামিম। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মুমিনুলকে সঙ্গী করে স্কোরবোর্ডে ৬০ রানের জুটি গড়েন সৌম্য। এরপর দলীয় ৭১ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। রবীন্দ্র জাদেজার বলে স্লিপে আজিঙ্কা রাহানের তালুবন্দি হন সৌম্য সরকার। ব্যক্তিগত ৪২ রানে ফেরেন তিনি। তার ৬৬ বলে সাজানো ইনিংসে ছিল সাতটি চারের মার।

সৌম্যর বিদায়ের কিছুক্ষণ পরেই বিদায় নেন ২৭ রান করা মুমিনুল। অশ্বিনের বলে স্লিপে রাহানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি। তিনটি চারের সাহায্যে ইনিংস সাজান মুমিনুল। দলীয় ৭৫ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে।

এরপর জুটি গড়েন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আর সাকিব। সাকিব ৪২ বলে চারটি চারের সাহায্যে ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন। আর ৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন রিয়াদ। এই জুটি ২৮ রান তুলে অবিচ্ছিন্ন থেকে পঞ্চম দিন ব্যাটিংয়ে নামবে।

এর আগে বাংলাদেশকে ৩৮৮ রানে অলআউট করে ২৯৯ রানে এগিয়ে লিড পায় টিম ইন্ডিয়া। এরপর দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে ভারত। ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট হারিয়ে ৬৮৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল ভারত।

এর আগে স্বাগতিকদের রান পাহাড়ের জবাবে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩৮৮ রানে শেষ হয় টাইগারদের প্রথম ইনিংস। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিমের উইকেটের মধ্য দিয়ে ২৯৯ রানের বড় লিড পায় স্বাগতিকরা।

টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি করার পথে ২৩৬টি বল মোকাবেলা করেন মুশফিক। তাতে ছিল ১৩টি চার ও ১টি ছক্কার মার। ১২৮তম ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে আউট হওয়ার আগে ২৬২ বলে ১২৭ রানের অসাধারণ দায়িত্বশীল ইনিংস উপহার দেন ‘মি. ডিপেন্ডেবল’।

মুশফিককে ফিরিয়ে রেকর্ডবুকে জায়গা করে নেন টেস্টের নাম্বার ওয়ান বোলার অশ্বিন। ৪৫তম টেস্টে এসে দ্রুততম ২৫০ উইকেটের কীর্তি গড়েন ভারতীয় স্পিন সেনসেশন। ছাড়িয়ে যান অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি পেসার ডেনিস লিলিকে (৪৮ ম্যাচ)।

মুশফিক-মিরাজের অবিচ্ছিন্ন ৮৭ রানের জুটিতে ছয় উইকেটে ৩২২ রান নিয়ে ভালোভাবেই তৃতীয় দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু চতুর্থ দিনের প্রথম ওভারেই আউট হয়ে যান মিরাজ (৫১)। ভুবনেশ্বর কুমারের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

চাপের মুখে মুশফিকের সঙ্গে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন ১৯ বছরের তরুণ মেহেদি হাসান। প্রথম টেস্ট ফিফটিও পূর্ণ করেন এ উঠতি অলরাউন্ডার।

মিরাজের বিদায়ে স্পিনার তাইজুল ইসলামকে স্ট্রাইক দিয়ে ভরসা রাখেন মুশফিক। উমেশ যাদবের বাউন্সারে ঋদ্ধিমান সাহার গ্লাভসে তালুবন্দি হন তাইজুল। তার ইনিংস শেষ হয় ৩৮ বলে ১০ রান করে। রবিন্দ্র জাদেজার বলে স্লিপে থাকা অজিঙ্কা রাহানের তালুবন্দি হন তাসকিন। ৩৫ বলে এক চারে ৮ রান করেন তিনি।

২৯৯ রানে এগিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। চতুর্থ দিন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান বিজয়ের ৭ রানের পর দ্রুত বিদায় নেন রাহুল ১০ রান করে। মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দি হন তিনি তাসকিন আহমেদ। ২৩ রানে দুই ওপেনার মুরালি বিজয় ও লোকেশ রাহুল দ্রুত বিদায় নিলে ৬৭ রানের জুটিতে রানের চাকা সচল রাখেন বিরাট কোহলি ও চেতশ্বর পুজারা। খুব বেশিক্ষণ অবশ্য টিকতে পারেননি প্রথম ইনিংসের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান। কোহলিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্যাচ বানিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন সাকিব আল হাসান।

ইনিংসের ২৭তম ওভারে রাহানেকে বোল্ড করেন সাকিব। বিদায়ের আগে রাহানের ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান। পুজারার সঙ্গে ৩৮ রানের জুটি গড়েন দুটি চার আর একটি ছক্কা হাঁকানো রাহানে। দ্বিতীয় সেশনের শেষ বলটি খেলে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। পুজারা ৫৪ ও রবীন্দ্র জাদেজা ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন।