২২শে জুলাই, ২০১৭ ইং, ৭ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজতে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট

Wednesday, 15/02/2017 @ 3:05 pm

পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজতে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট

পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজতে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।বুধবার বিচারপতি কাজী-রেজাউল হক এবং বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এই রুল জারি করেন।আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, যোগাযোগ সচিব,আইজিপি এবং দুদকের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।এছাড়া আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠনে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা  আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রতিবেদন আকারে জমা দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

সাড়ে তিন বছর আগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মাসেতু নির্মাণে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়ার ঘটনা গোটা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল।আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোতে ওই ঘটনা ফলাও করে প্রচার করায় বাংলাদেশ এবং বর্তমান সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হয়। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ক্রিয়াকর্ম ও মিডিয়ার অতি উৎসাহ পদ্মা সেতু ইস্যুতে সরকারতে বিপাকে ফেলে দিয়েছিল।কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

কানাডার একটি আদালত পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতি ষড়যন্ত্র মামলা খারিজ করে দিয়ে অভিযুক্তদের বেকসুর খালাস দেয়ার পর আলোচিত এ ইস্যুতে সামনে নিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ। দলটি জাতীয় সংসদে ও সংসদের বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ড. ইউনূস ও জার্মানির অর্থে পরিচালিত দুর্নীতি বিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা টিআইবি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পদ্মা সেতু ইস্যুতে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের সরকারের ভাবমর্যাদা নষ্ট করায় ড. ইউনূসকে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের সমমনা দলগুলো।তাদের দাবি দেশের যারা পদ্মসেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছে এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন তাদের সবাইকে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

জাসদের নেতা মঈন উদ্দিন খান বাদল ঘোষণা দিয়েছেন সিদ্ধান্ত হলে তিনি এবং পূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন যৌথভাবে ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার বাদী হবেন। ইউনূসের বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে সংসদে থাকা দলগুলো কার্যত একাট্টা হয়েছে। পদ্মা সেতু নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় যে অধিক অর্থ ব্যয় হচ্ছে সে ক্ষতিপূরণ বিশ্বব্যাংককে দিতে হবে। প্রয়োজনে বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করারও দাবি জানানো হচ্ছে।

এদিকে পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, কানাডার আদালত পদ্মাসেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির মামলায় যে রায় দিয়েছে তাতে প্রমাণিত হয় এতে কোনো দুর্নীতি হয়নি। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক কাগজপত্রের ভিত্তিতে কিছু করে না তা প্রমাণিত হয়েছে। তারা দু-তিনজন ব্যক্তির স্বার্থের কারণে একটা নির্দোষ দেশকে দোষী করার চেষ্টা করেছে।