মর্নিংসান২৪ডটকম Date:২৩-০২-২০১৭ Time:৫:১৮ অপরাহ্ণ


ঘুরে আসুন সীতাকুন্ডের শিব চতুর্দশী মেলায়

ঘুরে আসুন সীতাকুন্ডের শিব চতুর্দশী মেলায়

কমল দাশ: আগামী শনিবার ফেব্রুয়ারি ২৫ তারিখ থেকে তিনদিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী শিব চতুর্দশী মেলা। মেলা হিসেবে পরিচিত হলেও এটি মুলত ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। দেশ বিদেশ থেকে লাখ লাখ লোকের সমাগম হতো বিধায় কালক্রমে এটি মেলায় রূপান্তরিত হয়েছে। পরিণত হয়েছে একটি সার্বজনীন উৎসবে। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী অগণিত নারী-পুরুষের শিশু-কিশোরের পদচারণায় সীতাকুণ্ড মুখরিত হয় এই সময়ে। যাত্রা, সার্কাস, পুতুল নাচ, বুক ষ্টল, হস্তশিল্পসহ হরেক রকম বস্তুর সমারোহে এক ভিন্নরূপ আসে সীতাকুণ্ডে। সংসারত্যাগী সন্ন্যাসীদের জপ-তপ-সাধনা প্রভৃতিতে প্রেমতলা থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত বিরাজ করবে একটি অন্য জগত। সব কিছু মিলিয়ে উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই ঐতিহাসিক মেলা সীতাকুণ্ডকে দান করেছে ইতিহাসের একটি বিশেষ অধ্যায়।

আমাদের দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় মেলা হচ্ছে সীতাকুন্ডের এই শিব চতুর্দশী মেলা। প্রতি বছর শিব চতুর্দশী তিথিতে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। শিবরাত্রি ব্রতসহ শিব লিঙ্গে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করতে দেশ-বিদেশের লাখো সনাতন ধর্ম্মালম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের পুণ্যার্থী জড়ো হন এ মেলাটিতে।

sita-2

চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার পশ্চিমে সীতাকুন্ড উপজেলা সদরের এই মেলার অবস্থান। চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের সামান্য উত্তর পাশে এটি অবস্থিত। সীতাকুন্ড বাজার থেকে সর্পিল আঁকা-বাঁকা ছোট্ট একটি সড়ক চলে গেছে চন্দ্রনাথ সোজা পাহাড়ের দিকে। এ পাহাড় বাজার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। এর সর্বোচ্চ চূড়াটির উচ্চতা প্রায় ৩৬৫ মিটার বা ১২০০ ফুট প্রায়। চূড়ায় ওঠার পথটি বেশ দুর্গম। বাজার ছেড়ে কিছুটা সামনে এগুলেই পথটি ক্রমশ: উপরের দিকে উঠে গেছে। এ পথে রয়েছে শংকর মঠ, শ্মশান, গিরিশ ধর্মশালা, ননী গোপাল তীর্থ মন্দির, ভৈরব ধর্মশালাসহ আরও অনেক দেবালয়। আরও কিছুটা পথ ওঠার পরে দেখা যাবে ভবানী মন্দির। ভবানী মন্দির ছেড়ে আরেকটু পথ এগুলেই শম্ভুনাথ মন্দির, ছোট্ট একটি পাহাড়ি ঝর্ণা। আর এখান থেকেই চন্দ্রনাথ মন্দিরের দিকে উঠতে হয়।

পুণ্যার্থীদের পাহাড়ে ওঠার জন্য এখান থেকে শান বাঁধানো সিঁড়ি তৈরি করা আছে। তবে পাহাড় কেঁটে বানানো সিঁড়িগুলোর একেকটি ধাপের উচ্চতা এতো বেশি যে, একটু উঠলেই হাঁপিয়ে যেতে হয়। বেশ কিছুটা পথ কষ্ট করে উঠলেই চোখে পড়বে প্রাচীন বটবৃক্ষের পাশে দুটি মন্দির। এর মধ্যে যেটি পুরানো মন্দির সেটির নাম বিরূপাক্ষ। এ জায়গাটির উচ্চতা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় দু’শ মিটার। এখান থেকে দক্ষিণ দিকে দৃষ্টি সীমানা ছাড়িয়ে যায় বঙ্গোপসাগর অবধি। বিরূপাক্ষ মন্দির ছেড়ে পূর্বদিকে সর্পিল পথ চলে গেছে পাহাড়ের একেবারে চূড়ায় চন্দ্রনাথ মন্দিরে।

sita-3

শিব চতুর্দশী পূঁজা উপলক্ষে সীতাকুন্ডে মেলায় আসা পূর্ণ্যার্থীরা পাহাড় বেয়ে চন্দ্রনাথ মন্দিরে ওঠার দৃশ্য দূর থেকে অনেকটা পিঁপড়ার সাড়ির মতো মনে হয়। বিভিন্ন মন্দিরে পূঁজা-অর্চনা করলেও ভক্তদের সবার কাছেই মূল আকর্ষণ থাকে পাহাড়ের চূড়ার চন্দ্রনাথ মন্দির। তাই দলবেঁধে সবাই ছুটেন মন্দিরটির দিকে। অনুষ্ঠানে আগত ভক্তরা অনেকেই পুণ্যস্নানে নিজেকে পবিত্র করে নেন চূড়ায় ওঠার আগে। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের ঠিক গোড়া থেকে দুটি পথ চলে গেছে চূড়ার দিকে। মেলার সময় অতিরিক্ত লোক সমাগম হয় বলে বাঁয়ের পথটি কেবল পাহাড়ে ওঠার জন্য। আর ডানের পথটি কেবল পাহাড় থেকে নামার জন্য ব্যবহার করা হয়।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়া থেকে পূর্ব দিকে নিচে নামলেই ইকোপার্কের শুরু। এটি দেশের প্রথম ইকো পার্ক। সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ২০০৪ সালে গড়ে তোলা হয়েছে এ ইকোপার্কটি। পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে নানান প্রজাতির গাছপালা ছাড়াও এ পার্কের ভেতরে রয়েছে কয়েকটি ছোট-বড় পাহাড়ি ঝর্ণা। জেনে রাখুন- চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উচ্চতা খুব বেশি না হলেও এর চূড়ায় ওঠার পথটি বেশ সরু এবং দুর্গম। শিব মেলার সময় ভক্তদের ভিড় থাকে বলে বেশ চাপাচাপি করে এ পথে উঠতে হয়।

কিভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে কুমিল্লা হয়ে চট্টগ্রামের বাসে গেলেই সীতাকুন্ড যাওয়া যায়। এছাড়া মেলার সময় বেশিরভাগ ট্রেনই সীতাকুন্ড স্টেশনে থামে। চট্টগ্রাম শহরের অলঙ্কার মোড় থেকেও বাসে আসা যায়।

থাকার জায়গা:
সীতাকুন্ডে থাকার জন্য ভালো মানের তেমন কোনো হোটেল না থাকলেও রয়েছে থাকার মতো পর্যাপ্ত জায়গা। সাধারণ মানের যে কয়েকটি হোটেল রয়েছে তাতে মেলার সময় কক্ষ পাওয়া মুশকিল। সামান্য কয়েকটি হোটেল পুণ্যার্থীদেরই প্রয়োজন মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই সীতাকুন্ডে ভ্রমণে গেলে চট্টগ্রামে থাকাই সবচেয়ে ভালো। চট্টগ্রাম শহরে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের অনেক হোটেল রয়েছে। তবে, অনেক পুণ্যার্থী মেলাতে যাওয়ার সময় থাকার জন্য তাবু কিংবা বিভিন্ন বেড নিয়ে যান।