১৩ নেতার বিচারে বিলম্ব হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট

১৩ নেতার বিচারে বিলম্ব হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট
১৩ নেতার বিচারে বিলম্ব হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক সংঘাত হয় ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর।

এদিনে কট্টর হিন্দুরা বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলেন। এর জের ধরে রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক সংঘাতের মুখে পতিত হয় ভারত। কলকাতা, মুম্বাই ছাড়াও ভারতের অন্যান্য শহরগুলোয়ও হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। সেই দাঙ্গায় প্রায় কয়েক হাজার লোক নিহত হয়। আর দাঙ্গায় ইন্ধন যোগায় ভারতের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা।

বাবরি মসজিদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলি মনোহর জোসি, উমা ভারতী, বিনয় কাতিয়ার, গিরিরাজ কিশোর, অশোক সিংহল ও প্রমোদ মহাজনসহসহ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ১৩ নেতার বিচারে বিলম্ব হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। বিচারক পিসি ঘোষ এবং বিচারক আরএস নারিম্যানের একটি বেঞ্চ এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সোমবার এক রায়ে ঘোষণা করেছেন, ১৯৯২ সালে গুজরাটে বাবরি মসজিদ দাঙ্গার নিহতদের পেছনে ভারতীয় জনতা পার্টি(বিজেপি) ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের(ভিএইচপি) ১৩ জন জ্যেষ্ঠ নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়টি কৌশলগত কারণে বাতিল করা হবে না।

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য মতে, আদভানি, মুরলি মনোহর এবং উমা ভারতীর বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ ভাঙতে তাদের সমর্থকদের উসকে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের ২২ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্তি শুনানি গ্রহণ করবেন। এ দিন বিজেপি নেতারা বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন।

আদভানি, জোসি, উমা, কল্যাণ সিংহসহ বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতা ও ভিএইচপি নেতার বিরুদ্ধে বাবরি ধ্বংসে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এলাহাবাদ হাইকোর্ট খারিজ করে দেয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সিবিআই ২০১০ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে।

সোমবার আদালত সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আমরা কৌশলগত কারণে আদভানিসহ অন্যান্য নেতাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতির বিষয়টি গ্রহণ করতে পারি না। আমরা আপনাদের(সিবিআই) এই ষড়যন্ত্রের অভিযোগসহ ১৩ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেয়ার অনুমতি দিচ্ছি। আমরা একটি যৌথ বিচারকার্য পরিচালনার জন্য আদালতকে অনুরোধ করব।’ আদভানির আইনজীবী আদালতের এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি আদালতকে বলেছেন, যদি ষড়যন্ত্রের মামলা যোগ করা হয় তাহলে নিম্ন আদালতে সাক্ষ্য দেয়া ১৮৩ জনকে আবার আদালতে ডাকতে হবে।