মর্নিংসান২৪ডটকম Date:০৮-০৪-২০১৭ Time:১:০৫ অপরাহ্ণ


ফতেপুর দরবার শরীফ এর বার্ষিক ওরস ৯ এপ্রিল

ফতেপুর দরবার শরীফ এর বার্ষিক ওরস ৯ এপ্রিল

সুমন চৌধুরী :

ছোটফতেহপুর দরবার শরীফে বার্ষিক ওরসশরীফ আগামীকাল ৯ এপ্রিল কুমিল্লা লাঙ্গলকোটে ফতেপুর দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। দুদিন ব্যাপী ওরস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ওরশ উদযাপন কমিটি। তারমধ্যে রয়েছে গোসল.গিলাফ চড়ানো.খতমে কোরআন,খতমে তাহলিম,খতমে গাউছিয়া,ওয়াজ,মিলাদ-মাহফিল,জিকির-আজগার,ছেমা মাহফিল ও তবারক বিতরণ।

ওরস শরীফকে ঘিরে কুমিল্লা লাঙ্গলকোটে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। ছোটফতেপুর বড়ফতেহপুরসহ আশে-পাশে পুরো এলাকা তোরণ-ফেস্টুন,ব্যানারে ছেয়ে গেছে।এক একর জায়গা নিয়ে মেলা বসানোর প্রস্তুতি চলছে।গাড়ি রাখার জন্য আলাদা জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ওরস উদযাপন কমিটির পক্ষ জানিয়েছে, প্রতি বছর বাংলা ২৬ চৈত্র (ইংরেজি ৯এপ্রিল)গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারীর চারদিন উপলক্ষে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এবারও এ মাহফিল সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার লক্ষে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সারাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভক্ত-মুরিদ আশেকানদের সেবা দিতে তিন স্তরের সেচ্ছাসেবক দলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।  পাশাপাশি ওজু-গোসল ও সালাত আদায়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ওরস উপলক্ষে ভিন্ন ভিন্ন নিরাপত্তা বলয়ের ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা পুলিশ।ওরসে উশৃঙ্খলারোধে সাদা পোশাকধারি পুলিশ মোতায়েন্ করা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া থাকছে পুলিশের অভিযোগ কেন্দ্র। কেননা কুমিল্লা লাঙ্গলকোর্টে এটাই সবচেয়ে বড় মাহফিল।

জানা গেছে, ছৈয়দ গোলাম আহমদ খায়রুল বশর আল ফারুকী (কলন্দর)প্রকাশ মাইজ্জা মিয়া চরণদ্বীপির প্রথম খলিফা হযরতের গোলামের গোলাম শামসুল হক পেটেন শাহ ফতেহপুরি আল মাইজভান্ডারী।তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।কুমিল্লা লাঙ্গলকোর্টের ছোটফতেপুর এলাকা তার জন্মভূমি। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি গাউছুল আজম ছৈয়দ আহম্মদ উল্লাহ কেবলা কাবা মাইজভান্ডারীর বেলায়েতি প্রথম খলিফা শেখলে সুরত শাহ সূফী চরণদ্বীপির সোহব্বত লাভ করেন। তার ওফাতের পর তারই পুত্র সৈয়দ গোলাম আহম্মদ খায়রুল বশর মাইজ্জা মিয়া চরদ্বীপির হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। খায়রুল বশর আল ফারুকী মাইজভান্ডার দরবার শরীফে ছৈয়দ গোলামুর রাহমান বাবা ভান্ডারীর প্রথম খলিফা ছিলেন। গোলামির সাতচল্লিশ বছরেও শামসুল হক ৭ই মাঘ, ১২ই ভাদ্র চরণদ্বীপ শরীফে ওরস-মাহফিল এ অংশ নিয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্র্র্রে জানা গেছে। পুরো বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাসহ দেশ-বিদেশে তার অসংখ্য ভক্ত মুরিদান রয়েছে। শাসুল হক পেটেন শাহ শুরু থেকে ভক্ত-আশেক, মুরিদানদের হালাল-হারাম বেছে খাওয়া,মা-বাবর সেবা করা,পরের হক ভোগ না করা, লোভ-লালসা থেকে বিরত থাকা, নামাজ আদায় করা ও গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর নীতি আদর্শ মেনে চলার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবারের ন্যায় এবারও অনুষ্ঠিত মাহফিলে দল মত নির্বিশেষে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইছহালে ছোয়াবের জন্য ওরস উদযাপন কমিটি ও পরিবারের পক্ষ থেকে সকলকে দাওয়াত জানানো হয়েছে।