মর্নিংসান২৪ডটকম Date:২২-০৪-২০১৭ Time:৭:৩৬ অপরাহ্ণ


চৌধুরী সুমন :

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে হলে নেতা বন্দনা ছাড়তে হবে। নেতার বন্দনা করতে করতে বিএনপির আজ পায়ের তলায় মাটি সরে গেছে। তাই সহসা নেতার বন্দনা বন্ধ করতে হবে।

শনিবার বেলা ১১টায় কিং অব চিটাগাংয়ে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা খুব সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে আজ তৃণমূল পর্যায়ে নেতা কর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে আসনে বসে আছেন।কিন্তু সামনের আসন গুলো দখর করে আছেন নেতারা।কেননা গণমাধ্যমের ক্যামেরায় হাস্যোজ্জল ছবি প্রকাশিত হলে আর তো কথাই নেই। তাও যদি না হয় সেলফি তো আছেই। প্রতিনিধি সভা তৃণমূল নেতাকর্মীদের। সামনের জায়গা দখল করে আছে নেতারা। এমন ভাবে আছেন যে সাংবাদিক ভাইদেরও ছবি নিতে কষ্ট হচ্ছে। এখনও দেখছি বক্তব্য শুরু আগে সকলের নাম নেওয়ার পুরোনো প্রবণতা আওয়ামী লীগের মধ্যে রয়েগেছে। শুধু উপরস্থ নেতাদের বেশী খুশী করা হয়। দলের মধ্যে এমন প্রবণতা চলতে থাকলে আওয়ামী লিগের ভবিষ্যত শুভ নয়।

কাদের আরো বলেন, চট্টগ্রামকে আমি ভালোবাসি আর তাই বার বার চট্টগ্রামে ছুটে আসি। আজ প্রতিনিধি সভায় আমি কারো ফুল নিতে আসিনি, পোস্টারে ছবি দেখতে আসিনি, তোরণ দেখতে আসিনি, রাজনৈতিক ভাষণ দিতেও আসিনি। এসেছি দলের তৃণমূল নেতা কর্মীদের কথা শুনতে। কিন্তু আমার আগে যারা বক্তব্য দিয়েছেন তারা রাজনৈতিক ভাষণ দিয়েই শেষ আর প্রতিনিধি সভার কথা বলাই হল না। শুধু কিভাবে শ্লোগান দিয়ে নিজের নেতাদের খুশী করা যায় সেই প্রবণতাই চলছে দেখছি।শ্লোগান থাকবে শুধু একজনের।বঙ্গবন্ধু ও তার কণ্যা উন্নয়নের রোল মোডেল জননেত্রী শেখ হাসিনার।কোন নেতার নয়,এমনকি আমারও নয়।

তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশ্যে কাদের বলেন, আপনারা নেতাদের খুশি করার পথ ছাড়ুন। আর মাত্র দেড় বছর বাকি আছে। এ্ সমযের মধ্যে আবার আওয়ামী লিগকে জয়যুক্ত করার লক্ষে সাধারণ মানুষের পাশে দাড়ান। ভালো আচরণ করে তাদের খুশি করান। যাতে আগামী নির্বাচনে আবার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করে।

দলের মধ্যে অনুপ্রবেশের কথা উল্লেখ করে কাদের বলেন, দলের মধ্যে অনুপ্রবেশ ঘটেছে তা ঠিক। দলের তৃণমুল পর্যায়ে কোন সমস্যা দেখা দিলে তা স্টেপ বাই স্টেপ আসবে।ইউনিয়ন থেকে থানা,তারপর জেলা তাপর কেন্দ্রে। ঘরের ব্যাপার ঘরেই সামাধান করতে হবে। কিন্তু তা না করে চায়ের দোকানে বসে আলোচনা-সমালোচনা করলে তাতে দলের ভাবমুর্তি নষ্ট হওয়া ছাড়া কোন সমাধান আসতে পারেনা।

নেতাদের উদ্দেশ্যে কাদের বলেন, আপনারা দলকে সংগঠিত করুন।দলের মধ্যে উসকানিমুলক কথা বলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেননা। কে কি কাজ করছেন তা নেত্রীর কাছে সিআর কপি রয়েছে। দলের ভাবমুর্তি ধরে রাখতে নেত্রী আরো কঠোর থেকে কঠোর ব্যবস্থা নিবেন। প্রয়োজনে নমিনেশনসহ বাতিল হয়ে যেতে পারে। সময় আছে ভালো হয়ে যান।আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত থাকলে আগামী নির্বাচনে নৌকা জয়যুক্ত হবে ‘ইনশাআল্লাহ’।

ছাত্রলীগের সমালোচনা করে কাদের বলেন, খারাপ খবরের শিরোনাম হওয়া যাবেন না। সুনামের ধারায় ফিরে আসুন। দলের ভাবমুর্তি নষ্ট হয় এমন কোন কাজ হলে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেননা আমাদের এত উন্নয়ন, এত অর্জন, এত খ্যাতিকে গুটিকয়েক অপকর্মের হাতে বিলিন করে দিতে পারিনা।আজ বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে বাইরের দেশগুলো বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

বিএনপির সমালোচনা করে কাদের বলেন, বিএনপির আন্দোলনের কোন ইস্যু নেই। নতুন করে বলছে নিরপেক্ষ তত্ত্ব্বধায়ক সরকারের কথা। আবার বলছে নতুন ইসির হাতে সুষ্ঠু নির্বাচন হবেনা। কিন্তু কুমিল্লার এত বড় জয় বিএনপির হয়েছে তবু তারা বলছে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হলে তারা আরো ভোট বেশী পেত।কি রকম সুষ্ঠু নির্বাচন চান তারা। অন্যদিকে নারায়ানগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিজয়ে বলছে নির্বচন সুষ্ঠু হয়নি। ত্হালে এই দলকে নিয়ে কি করা যাবে?মীরের সরাই-শীতাকুণ্ড-সিলেট-ঢাকা আশকোনায় জঙ্গী হামলায় তারা জড়িত। তাদের আন্দোলনের আর কোন ইস্যু নেই।

সবশেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেক কথা বলে ফেললাম। জানি অনেকের খারাপ লাগতে পারে। আমি তৃণমূল থেকে আজ এ পর্যন্ত এসেছি। জীবণের চারটি বছর কারগারে কেটে গেছে। আমি জানি আমার নেওয়া সিদ্ধান্তে আমার আত্মিয়-অনাত্মিয় হয়ে যাবে,আপন পর হয়ে যাবে। তবে আমি যা বলেছি বা যা করেছি তা আমার স্বার্থের জন্য করেনি,করেছি দলের স্বার্থে,আওয়ামী লীগের স্বার্থে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম সভাপতি ও রাউজানের সাংসদ এবি এম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন,আওয়ামী লীগের প্রসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন,কেন্দ্যীয়যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ,কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড.হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, সন্দীপের সাংসদ মাহফুজুর রহমান।