২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

কাল শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা

Saturday, 24/06/2017 @ 6:36 pm

কাল শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা

কাল শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা

ফিচার ডেস্ক: সনাতন ধর্মবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা আগামীকাল ২৫ জুন রবিবার।

প্রতি বৎসর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় রথযাত্রা। আগামীকাল রথযাত্রা শুরু হবে। শেষ হবে আগামী ৩ জুলাই উল্টো রথযাত্রা মধ্য দিয়ে। মানুষের মাঝে সম্প্রীতি শান্তি ও মৈত্রীর পরিবেশ গড়ে তোলার জন্যই শ্রী জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রা মহারানীর বিগ্রহগণ উৎসব লগ্নে মন্দির থেকে রাজপথে সবাইকে দর্শন দানের জন্য বেরিয়ে আসেন।

আর্ন্তজাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ইসকন প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ ১৯৬৫ সালে তার গুরুদেবের নির্দেশে পাশ্চাত্যে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের জন্য আমেরিকায় গিয়েছিলেন। ১৯৬৭ সালে সানফ্রান্সিসকোতে শ্রীল প্রভুপাদ প্রথম রথযাত্রা মহোৎসব আয়োজন করেন। যে মহোৎসব আজ তার কৃপায় সারা পৃথিবী জুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অনাদিনকাল থেকে পুরীতে প্রতিবছর রথযাত্রার মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সারা জগতের প্রভু হচ্ছেন শ্রী জগন্নাথদেব। ভক্তদের প্রমের বশবর্তী হয়ে তিনি নিজেকে রাজপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন। শ্রী জগন্নাথ অত্যন্ত কৃপাশীল। যারা মন্দিরে জগন্নাথকে দর্শন করতে আসে না তাদের সবাইকে কৃপা আর্শিবাদ করতে তিনি মন্দির থেকে বেরিয়ে আসেন।

ভগবান জগন্নাথদেব হলেন শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং, যিনি জগতের নাথ বা জগদীশ্বর রুপে প্রকাশিত। বৃন্দাবন থেকে মহারাজ নন্দসূত শ্রীকৃষ্ণ তার দ্বরকালীলায় রত হলেন। সূর্যগ্রহন উপলক্ষে শ্রীকৃষ্ণ যখন কুরুক্ষেত্রে যান, তখন তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বলরাম ও ভগিনী সুভদ্রা এবং দ্বারকা থেকে অনেকেই তার সঙ্গে গিয়েছিলেন। সেই সময় ব্রজবাসী ও সূর্যগ্রহন উপলক্ষে কুরুক্ষেত্রে গিয়েছিলেন। কুরুক্ষেত্রে বৃন্দাবনে গোপ-গোপীদের সাথে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাক্ষাৎ হলো। ব্রজবাসী ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে তার বাল্যলীলাস্থল বৃন্দবনে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। তারা তাকে রাজবেশে দেখতে চাইলেন না। তারা শ্রীকৃষ্ণকে বৃন্দাবনে ফিরিয়ে নিয়ে ব্রজের বেশে দেখতে চাইলেন এবং তার সাহচার্য পেতে উন্মুখ হলেন। তখন ব্রজবাসী কৃষ্ণ, বলরাম ও সূভদ্রা দেবীর রথের ঘোরা ছেড়ে দিয়ে নিজেরাই রথ টানতে টানতে বৃন্দাবন নিয়ে গেলেন। সে ঘটনা স্মরণ করে ভক্তরা আজো পুরীর জগন্নাথ মন্দির থেকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে রথে টেনে বৃন্দাবনে নিয়ে যান।

দ্বারকা রাজ্য যেমন শ্রীকৃষ্ণের ঐশ্বর্যলীলার স্থান, বৃন্দাবন তেমনি মাধুর্যলীলার স্থল। এই হচ্ছে রথযাত্রার ইতিহাস। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভূ ভাবতেন ‘কৃষ্ণ কতদিন ধরে আমি তোমাকে দেখতে চেয়েছি’। আর এখন আমি তোমাকে দর্শন করছি। শ্রীল প্রভূপাদ বলেছিলেন, বা পাশে একদল, ডান পাশে একদল, সামনে একদল এবং পেছনের দিকে একদল আর শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভূ মাঝখানে থাকতেন। তারা সবাই নাচতেন এবং কীর্ত্তন করতেন। রথযাত্রার সময় ভগবান শ্রী জগন্নাথ দেব স্বয়ং আমাদের সামনে উপস্থিত হন। তাই এটি এমনই সুন্দর সুযোগময় একটি উৎসব যার মাধ্যমে আমরা ভগবানের প্রতি আমাদের হৃদয়ের ভক্তি ও প্রেম নিবেদন করতে পারি। রথযাত্রার দিন রথরূঢ় পরমেশ্বর ভগবান শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব, বলদেব ও সুভদ্রা দেবিকে দর্শন করে আপনার হৃদয়ের ভক্তি নিবেদন করুন। রথের রশি ধরে টানুন। আপনার মানব জন্মকে স্বার্থক করে তুলুন। রথযাত্রা উৎসবে অংশ নেয়ার মানে হল আত্মোপলব্ধির পথে এক ধাপ অগ্রসর হওয়া। রথযাত্রা শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম লীলা।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন),চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে নন্দনকানন শ্রীশ্রী রাধামাধব মন্দির ও শ্রীশ্রী গৌর নিতাই আশ্রম সমক্ষে নগরীর ডিসি হিল প্রাঙ্গনে আগামীকাল শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। রথযাত্রা মহোৎসব উপলক্ষে সারাদিন ব্যাপি বিভিন্ন অনুষ্টানমালায় মঙ্গলারতি, গুরুপূজা, জগন্নাথ লীলামহিমা আস্বাদন, জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা মহারাণীর রাজবেশ দর্শন, রাজভোগ নিবেদন, কীর্তনমেলা, আলোচনা সভা, হরেকৃষ্ণ ব্যান্ড, নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

আলোচনা সভায় অংশ গ্রহন করবেন ইসকন সন্ন্যাসী, জ্যেষ্ঠ ভক্ত, রাষ্ট্রীয় অতিথি, দেশ বরেণ্য বিশিষ্ট রাজনীতিক, প্রশাসনিক, রাষ্ট্রদূত ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ। সমগ্র অনুষ্ঠানে আশিবার্দক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইসকনের অন্যতম সন্ন্যাসী শ্রীমৎ ভক্তিনিত্যানন্দ স্বামী মহারাজ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত। মহোৎসবে পৌরহিত্য করবেন শ্রীপাদ ভদ্রচারু দাস, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত।

বিকাল ৩টায় জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা মহারানীর মহাশোভাযাত্রা নন্দনকানস্থ শ্রীশ্রী রাধামাধাব মন্দির ও গৌর নিতাই আশ্রম সম্মুখে ডিসি হিল প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে বোস ব্রাদার্স – সিনেমা প্যালেস – লালদিঘীর পাড় -বক্সিরহাট বিট – আন্দরকিল্লা – চেরাগি পাহাড় – জামালখান – আসকারদিঘীর পাড় – কাজির দেউড়ী – লাভ লেইন হয়ে পুনরায় ডিসি হিলে এসে সমাপ্ত হবে। সকলের সার্বিক অংশগ্রহন ও আন্তরিক সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করি।