এক স্কুল শিক্ষিকার দুই স্বামীর টানাটানি

imagesনিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের মনিরামপুরে এক স্কুল শিক্ষিকা দুই স্বামী নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অবৈধ সম্পর্কের জেরে প্রবাসী স্বামীকে ছেড়ে এক কলেজ ছাত্রকে বিয়ে করেছেন তিনি। কিন্তু প্রথম স্বামী তা মেনে নিতে পারছেন না। এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এদিকে স্ত্রীর প্রতারণার শিকার প্রথম স্বামী আবুল কালাম এখন সর্বস্বান্ত। স্ত্রী, একমাত্র পুত্রসন্তান আর জীবনের সব উপার্জন হারিয়ে নিঃস্ব আবুল কালাম এখন ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। স্ত্রী আর সন্তানকে ফিরে পেতে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন আদালতের।অপরদিকে প্রথম স্বামীর কষ্টার্জিত লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে তার স্ত্রীকে নিয়ে পরম আনন্দে দিনাতিপাত করছেন দ্বিতীয় স্বামী কলেজছাত্র বিল্লাহ হোসেন।উপজেলার মদনপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে আবুল কালামের সঙ্গে ২০০০ সালের ২২শে জানুয়ারি একই উপজেলার খাটুরা গ্রামের ফজলুর রহমানের মেয়ে আঞ্জুয়ারা খাতুনের বিয়ে হয়।এ দম্পতির রয়েছে এক পুত্রসন্তান। নাম রাখা হয় রাতুল হানান রকি। সংসারের অভাব অনটন দূর করতে কালাম সিদ্ধান্ত নেন বিদেশে যাওয়ার। ২০০৬ সালে আবুল কালাম সৌদি আরব চলে যান। বিদেশ যাওয়ার আগে আবুল কালাম স্ত্রী আঞ্জুয়ারার নামে সোনালী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখায় একটি একাউন্ট খুলে দেন। বিদেশ থেকে আবুল কালাম স্ত্রীর নামে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে সংসার খরচ পাঠাতে থাকেন।গ্রামে জমিজমা কেনার জন্যও পাঠান কয়েক লাখ টাকা। এভাবে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি স্ত্রীর নামে ওই ব্যাংক একাউন্টে প্রায় ১২-১৩ লাখ টাকা পাঠান। ২০১০ সালে আবুল কালাম প্রথমবারের মতো দেশে ফিরে আসেন। এ সময় স্ত্রী আঞ্জুয়ারা স্বামীকে বোঝান গ্রামের বাড়িতে রেখে তাদের সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা যাবে না। ফলে তাদের শহরে যেতে হবে। ছেলেকে ভাল স্কুলে ভর্তি করাতে হবে। ফলে স্ত্রী আর সন্তানকে গ্রামের বাড়ি থেকে যশোর শহরে নিয়ে আসেন কালাম।শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া প্রাইমারি স্কুলের পেছনে সিদ্দিকের বাড়ির ২টি রুম ভাড়া নেন কালাম। স্ত্রী আর পুত্র রাতুল হাসান রকিকে নিয়ে কালাম ওই বাড়িতে ওঠেন। এ সময় স্ত্রীর নামে কালাম যশোর গাড়িখানা রোডস্থ ন্যাশনাল ব্যাংকে আরও একটি ব্যাংক একাউন্ট খোলেন। যার নম্বর-এ/সি -৩৪০৩৮১০৪। এই একাউন্টের মাধ্যমে কালাম তার স্ত্রীর নামে জমি কেনার জন্য আরও ১৪-১৫ লাখ টাকা পাঠান।
এদিকে স্বামীর অবর্তমানে আঞ্জুয়ারা ছেলের প্রাইভেট টিউটর চৌগাছার পলুয়া গ্রামের আবদুল্লাহ মণ্ডলের ছেলে বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে অবৈধ পরকীয়ার জড়িয়ে পড়েন। কালামের অনুপস্থিতিতে আঞ্জুয়ারা আর বিল্লাল স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করতে শুরু করে। চলে প্রেমের খেলা। বিদেশ থেকে পাঠানো স্বামীর কষ্টার্জিত অর্থ নিয়ে আমোদ-ফুর্তিতে মেতে ওঠেন আঞ্জুয়ারা।অপরদিকে ছাত্রের মায়ের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে লাভই হয় কলেজছাত্র বিল্লালের। সে প্রেমিকা আঞ্জুয়ারার কাছ থেকে নানা প্রলোভনে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। একপর্যায়ে বিল্লাল আর আঞ্জুয়ারা পরস্পরের প্রতি এত বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে যে তারা কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারে না। ফলে প্রথম স্বামীকে রেখে আঞ্জুয়ারা বিল্লালকে দ্বিতীয় স্বামীর পাণি গ্রহণ করেন।স্থানীয় কাজী অফিসে প্রথম বিয়ে ও সন্তানের কথা গোপন করে বিল্লাল ও আঞ্জুয়ারা রেজিস্ট্রি কাবিনের মাধ্যমে বিয়ের কাজ সারেন। পরে তারা ওই বাড়িতেই স্বামী-স্ত্রীরূপে বসবাস শুরু করেন। আর বিদেশ থেকে কালাম ফোন দিলে স্ত্রী আঞ্জুয়ারা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে তাকে ভুলিয়ে রাখেন। এভাবে বেশ কিছুদিন চলার পর কালাম চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১৮ তারিখে দেশে ফেরেন। স্বামীর দেশে ফেরার খবরে হতচকিত হয়ে পড়েন আঞ্জুয়ারা ও বিল্লাল হোসেন। তারা পরিস্থিতি বুঝে ছেলে রাতুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে চম্পট দেন।
দেশে ফিরে অথৈ সাগরে পড়েন কালাম। সবকিছু হারিয়ে তিনি এখন পাগলপ্রায়। এদিকে আঞ্জুয়ারা দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে এখন ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বসবাস করছেন। স্থানীয় আবাইপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষকের চাকরি নিয়ে আঞ্জুয়ারা তার ছেলে রাতুল ও দ্বিতীয় স্বামী বিল্লালকে নিয়ে যখন সুখে ঘর পেতেছেন তখন প্রথম স্বামীর হা-হুতাশে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। কালাম স্ত্রী আর সন্তানকে ফিরে পেতে ধরনা দিচ্ছেন দ্বারে দ্বারে।
স্ত্রী আর সন্তানকে ফেরত চেয়ে তিনি ইতিমধ্যে যশোরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে, মনিরামপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ও সদর সহকারী জজ আদালতে পৃথক মামলাকরেছেন। করেছে থানা পুলিশও।
প্রবাসী এ স্বামীর দাবি যে কোন কিছুর বিনিময়ে তিনি তার স্ত্রী আর একমাত্র পুত্রসন্তানকে ফেরত চান। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান থাকতে বিল্লাল হোসেন ফুঁসলে তার স্ত্রীকে দ্বিতীয় বিয়ে করায় তারও বিচার দাবি করেছেন সর্বহারা আবুল কালাম। অন্যদিকে স্ত্রী আঞ্জুয়ারা চান বিল্লালের সঙ্গেই ঘর করতে।এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে পাগলপ্রায় কালাম বলেন, ‘আমার সব শেষ। আমি তার পরও আমার স্ত্রী আর সন্তানকে ফেরত চাই। তাদের ছাড়া আমি বাঁচবো না। বিল্লাল হোসেন আমার স্ত্রীকে ব্ল্যাক মেইল করে সব লুটে নিয়েছে। এখন আমি সর্বহারা। তারপরও আমি এখনও আমার স্ত্রী আর সন্তানকে নিয়ে ঘরসংসার করতে চাই। দীর্ঘদিন পরে দেশে ফিরে আমি আমার একমাত্র সন্তানকে দেখতে পারিনি। আমি বারবার চেষ্টা করলেও বিল্লাল আর আঞ্জুয়ারা আমার ছেলেকে দেখা করতে দিচ্ছে না। তারা আমার ছেলেকে আটকে রেখেছে। তাদের কাছে আমার ছেলের জীবন নিরাপদ নয়। তারা যে কোন সময় আমার ছেলেকে মেরে ফেলতে পারে।’
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমি কাউকে ব্ল্যাক মেইল করিনি। আঞ্জুয়ারা আমাকে ভালবেসে বিয়ে করেছে। আমরা বর্তমানে সুখে আছি। আঞ্জুয়ারা কালামকে তালাক দিয়েছে। কালাম সেই তালাকের কথা গোপন করে এখন স্ত্রী আর সন্তান ফেরতের কথা বলে নাটক করছে। সে একজন প্রতারক। বিদেশে গিয়ে স্ত্রী-সন্তানের কোন খোঁজখবর নেয়নি। একপর্যায়ে সে আমার ভালবাসায় মুগ্ধ হয়ে আমাকে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে করেছে। আমরা কোনো পাপ করিনি।’