মর্নিংসান২৪ডটকম Date:২০-০৫-২০১৮ Time:৬:৪৭ অপরাহ্ণ


তিন মামলায় জামিন চান খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্ক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন পাওয়ার পর কুমিল্লা ও নড়াইলের দায়ের করা তিন মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, হাইকোর্টে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বিত বেঞ্চের অনুমতি নিয়ে রোববার সকালে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিন আবেদন করেন তারা। সোমবার হাইকোর্টের ওই বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।

পৃথক এই তিন মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের পক্ষে বেশকিছু যুক্তি দেখানো হয়েছে। মামলার নথি, আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুসারে এসব মামলারয় খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদনের জন্য অনেক যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

-২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হায়দার পুলের চৌদ্দগ্রামে একটি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও আশপাশের বেশকিছু গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়।

এই মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদনে ১৩টির মতো যুক্তি দেখিয়েছেন তার আইনজীবীরা। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য যুক্তিসমূহ হলো-মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) খালেদা জিয়ার নাম নেই, ঘটনাস্থলেও তিনি ছিলেন না। তিনি অসুস্থ, অন্য মামলায় জামিনে আছেন। তিনি বয়স্ক, এ মামলায় তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, হয়রানি করার করার উদ্দেশ্যে এই মামলা করা হয়েছে। এ মামলার অন্য আসামিরা জামিনে আছেন। তাই খালেদা জিয়াও জামিন পাওয়ার যোগ্য।

-২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাসে প্রেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় ৭ জন যাত্রী মারা যায় এবং আরো ২৫/২৬ জন গুরুতর অসুস্থ হয়। এ ঘটনায় পরদিন (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩ টায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান ৫৬ জনের বিরুদ্ধে বাদি হয়ে মামলা করেন।

এই মামলায় জামিন আবেদনে যুক্তি দেখানো হয়েছে- মামলার ৩ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু তাদের কেউ জবানবন্দিতে খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। এছাড়াও খালেদা জিয়া অসুস্থ, বয়স্ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় হাইকোর্টে তার জামিন চাওয়া হয়েছে।

-এছাড়া ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। এ ঘটনায় একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলে মানহানির মামলা করা হয়। স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রায়হান ফারুকি ইমাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

এই মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতে বলা হয়েছে- দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ এর অধীনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। কিন্তু এই তিন ধারার মামলায় জামিনযোগ্য। তাছাড়াও খালেদা জিয়া প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বয়স্ক। তাই এসব যুক্তিতে এ মামলায় জামিন চেয়েছেন তার আইনজীবীরা।