মর্নিংসান২৪ডটকম Date:২৩-০৫-২০১৮ Time:৬:০০ অপরাহ্ণ


না ফেরার চলে গেল মুক্তামণি

নিউজ ডেস্ক: রক্তনালীতে টিউমার আক্রান্ত সাতক্ষীরার আলোচিত শিশু মুক্তামণি সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন।

বুধবার সকাল ৭টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামে বাবা-মায়ের সামনেই মৃত্যু হয় ১৩ বছরের ছোট্ট শিশুটির।

মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত কয়দিন ধরেই তো অবস্থা খারাপ হচ্ছিল। আজ ভোরে বমি শুরু হল। মৃত্যুর কিছু আগে সে পানি খেতে চায়। পানি খাওয়ানোর কিছু পর সে মারা যায়।’

বুধবার জোহরের নামাজের পর সাতক্ষীরার সদর উপজেলার দক্ষিণ কামারবায়সা জামে মসজিদের মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার জানাজা এলাকার শত শত মানুষ অংশ নেন।

সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রাম। জন্মের দেড় বছর পর থেকে মুক্তামণির সমস্যা শুরু হয়। প্রথমে ডান হাতে টিউমারের মতো হয়। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত টিউমারটি তেমন বড় হয়নি। কিন্তু পরে তা ফুলে যায়। কয়েক বছর আগে তার আক্রান্ত ডান হাতটি আরো বড় আকার ধারণ করে এবং তাতে পঁচন শুরু হয়। এক পর্যায়ে সেখানে পোকা জম্মাতে থাকে ও দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে।

গত বছরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মুক্তামণির বিরল রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রচার হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হলে তার নির্দেশে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছিল। টানা ছয় মাসের চিকিৎসায় খানিকটা উন্নতি হওয়ায় ২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর তাকে এক মাসের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি পাঠানো হয়।

গ্রামের বাড়িতে আসার পর থেকে মুক্তামণির অবস্থা ক্রমে অবনতি হতে থাকে। তার দেহে নতুন করে পচন ধরে। রক্তও ঝরতে থাকে। তার হাত-পা সরু হতে শুরু করে। দিনে একবার করে হাতে ড্রেসিং করা লাগত।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মুক্তামণিকে ভর্তি করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে বার্ন ইউনিটের কেবিনে ছিল ছয় মাস। গত বছরের ১২ আগস্ট তার হাতে অস্ত্রোপচার হয়। তার ডান হাত থেকে প্রায় তিন কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করেন চিকিৎসকেরা। পরে দুই পায়ের চামড়া নিয়ে দুই দফায় হাতে লাগানো হয়। তবে সাময়িকভাবে হাতের ফোলা কমলেও সম্প্রতি আগের চেয়েও বেশি ফুলে গিয়েছিল। রক্ত জমতে থাকে ফোলা জায়গায়। ড্রেসিং করতে কয়েক দিন দেরি হলে হাত থেকে দুর্গন্ধ বের হতো।