মর্নিংসান২৪ডটকম Date:০৬-১১-২০১৪ Time:৪:৫৪ অপরাহ্ণ


IDRA-27ঢাকা অফিস: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চার লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধানে কোম্পানিগুলোতে নিরীক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। কোম্পানি চারটি হল-প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ও পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। কোম্পানিগুলো গত পাঁচ বছরে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করায় আইডিআরএ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইডিআরএ সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, ১৯৩৮ সালের বীমা আইন অনুযায়ী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলো প্রথম বছর পলিসির প্রিমিয়াম আয়ের ৩৫ শতাংশ, নবায়ন পলিসির প্রিমিয়াম আয়ের ১০ শতাংশ ও পরবর্তী বছরগুলোর প্রিমিয়ামের ৫ শতাংশ ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি ব্যয়ের সীমা মানছে না। সম্প্রতি আইডিআরএ কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যয় পর্যালোচনা করলে এ চিত্র উঠে আসে। আইডিআরএ সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি নির্ধারিত সীমার চেয়ে ৭১ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করেছে। একই ভাবে পদ্মা ইসলামী লাইফ অতিরিক্ত ব্যয় করেছে ৭৬ শতাংশ, প্রাইম ইসলামী লাইফ ৫১ শতাংশ এবং প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি নির্ধারিত সীমার চেয়ে ৫২ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করেছে। জানা গেছে, জীবন বীমা কোম্পানিগুলো প্রতি বছর তাদের সম্পদ এবং দায়ের হিসাব অ্যাকচুয়ারি দ্বারা মূল্যায়ন (ভ্যালুয়েশন) করতে হয়। এর জন্য কোম্পানিগুলোকে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) অ্যাকচুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন বেসিস অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। তা না হলে লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারবে না। সূত্র জানায়, নির্ধারিত সীমার চেয়ে লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি হওয়ায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত উল্লিখিত চার জীবন বীমা কোম্পানির অ্যাকচুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন (মূল্যায়ন) বেসিস অনুমোদন করেনি আইডিআরএ। এতে করে কোম্পানিগুলো বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি এবং প্রকাশ করতে পারছে না। শুধু তাই অ্যাকচুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন (মূল্যায়ন) বেসিস অনুমোদন না থাকায় কোম্পানিগুলো বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে পারলেও বিনিয়োগকারী এবং পলিসি হোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারছে না।
বার্ষিক আর্থিক হিসাব ছাড়াই আগামী ২০ নভেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভা করতে যাচ্ছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। অ্যাকচুয়ারিয়াল অনুমোদন না পাওয়ায় কোম্পানিটি পলিসি হোল্ডার ও নিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি। এ কারণে কোম্পানিটি ইতোমধ্যে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে এসেছে। এ ব্যাপারে পদ্মা ইসলামী লাইফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ ওয়াসিউদ্দিন বলেন, অ্যাকচুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন (মূল্যায়ন) বেসিস অনুমোদন না দেওয়ায় আমাদের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও লভ্যাংশ দিতে পারিনি। তবে আইডিআরএ কোম্পানির অ্যাকচুয়ারিয়াল অনুমোদন করলে আমরা প্রয়োজনে অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ ঘোষণা করব। বিনিয়োগকারী ও পলিসি হোল্ডারদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রিমিয়াম আয় কমে গেছে। এতে করে ২০১৩ সালে (৭১ কোটি) ব্যবস্থাপনা ব্যয় ২০১২ সালের (৮৫ কোটি টাকা) তুলনায় কম হলেও ব্যবসা কম হওয়ায় শতকরা হিসেবে ব্যয় বেড়ে গেছে।
একই কারণে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সও কোনো লভ্যাংশ দিতে না পারায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটি এজিএম করেছে। অন্যদিকে প্রাইম ইসলামী লাইফ ও প্রগ্রেসিভ লাইফ এখনও লভ্যাংশ দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ ব্যাপারে আইডিআরএ সদস্য মো. কুদ্দুস খান বলেন, আমরা খুব শিগগিরই চার জীবন বীমা কোম্পানির অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধানের জন্য বিশেষ অডিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কোম্পানিগুলোর অ্যাকচুয়ারিয়াল অনুমোদন না করায় পলিসি হোল্ডার ও বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে-এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোম্পানির পলিসি হোল্ডার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করে আমরা কোম্পানিগুলোর অ্যাকচুয়ারিয়াল অনুমোদন করার বিষয়টি চিন্তাভাবনা করছি।