মর্নিংসান২৪ডটকম Date:১৫-০৭-২০১৮ Time:৬:০৫ অপরাহ্ণ


কে হাসবে শেষ হাসি- মদ্রিচ না গ্রিজম্যান

ক্রীড়া ডেস্ক: শিরোপা লড়াইয়ে রাশিয়ায় পা রেখেছিল ৩২টি দল। একে এক বিদায় নিয়ে চলে গেছে ৩০টি দল। আর মাত্র বাকি রয়েছে দুটি দল।

আর আজ ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে মাঠে নামবে এই দুটি দল। তাই কে হতে চলেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বা কে হাসবে শেষ হাসি- ফ্রান্স না ক্রোয়েশিয়া।

এরই মধ্যে ২ বার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে ফেলেছে ফ্রান্স। আর এর মধ্যে একবার শিরোপার স্বাদও পেয়েছে ফরাসিরা। তবে এই প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো ক্রোয়াটরা। লেভ ইয়াসিনের দেশ থেকে কে তুলে ধরবে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা? হুগো লরিস নাকি লুকা মদ্রিচ? জানতে অপেক্ষা করতে হবে, রোববার রাত ১১টা কিংবা তার কিছু পর।

৩২ দলের বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেউ হয়তো ভাবেনি ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া উঠবে ফাইনালে। ফ্রান্সের কট্টর সমর্থকরাও হয়তো এমনটা ভাবেনি। আর ক্রোয়েশিয়া নিয়ে তো বাজিরদর ছিল তলানিতেই। কিন্তু একমাসের ব্যবধানে আজ পুরো বিশ্বের আলো তাদের দিকে। এজন্যই এটা, ‘দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’।

দুই দশক পর ফের একই মঞ্চে ফ্রান্স। ১৯৯৮ সালে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ঘরের মাটিতে। জিদানের অসাধারণ নৈপূণ্যে ব্রাজিলকে হারিয়ে ফ্রান্স পেয়েছিল শিরোপা। সেবার ফ্রান্সের অধিনায়ক ছিলেন দিদিয়ের দেশম। সেই দেশমের হাতেই ফ্রান্সের ভাগ্য। তার অপ্রতিরোধ্যে শিষ্যরা অসাধারণ ফুটবল উপহার দিয়ে দলকে তুলেছে ফাইনালে। গ্রুপ পর্ব থেকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত ফ্রান্স ছিল ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। গ্রিজম্যান, এমবাপ্পে, পগবারা নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন প্রতিটি স্তরে। ফ্রান্সের সামনে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির সুযোগ। নতুন তারকারা দেশের ঝান্ডা রাশিয়ায় শেষ পর্যন্ত উড়াতে পারে কিনা সেটাই দেখার।

অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া নতুন ইতিহাস লেখার অপেক্ষায়। বিশ্বকাপের নবম দল হিসেবে শিরোপা জয়ের প্রত্যাশায় তারা। ফ্রান্স যেমন বিশ্বকাপের শুরু থেকে অপ্রতিরোধ্য। সেখানে ক্রোয়েশিয়া তাদের থেকেও একধাপ এগিয়ে। বিশ্বকাপে সেমিফাইল পর্যন্ত উঠেছে কোনো ম্যাচ না হেরে, ড্র না করে। সবথেকে বড় কথা এ দলটা ভয়ডরহীন। শিরোপার ক্ষুধায় ভুগছে তারা। প্রতিটি ম্যাচ তারা জিতছে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত লড়াই করে। নক আউট পর্বে শেষ তিনটি ম্যাচই খেলেছে ১২০ মিনিট করে। এরপরই বিজয়মালা পড়েছে লুকা মড্রিচ, মারিও মানজুকিচ, ইভান রাকিতিচ, ইভান পেরিসিচরা। সেই হিসেবে তারা টুর্নামেন্টে সবথেকে বেশি সময় ধরে ম্যাচ খেলা দল। যাদের অধিক পরিশ্রমেও নেই ক্লান্তি। ফ্রান্সের যে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আজ মস্কোতে কারো স্বপ্নপূরণ হবে আবার কারো স্বপ্নভঙ্গ হবে। হয়তো জন্ম হবে নতুন কোনো ইতিহাসের নয়তো হবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। হাসি-কান্নায় শেষ হবে বিশ্বকাপ। তাইতো শেষটাতে ধ্রুপদী লড়াইয়ের প্রত্যাশা কোটি ফুটবলপ্রেমির।