মর্নিংসান২৪ডটকম Date:১৬-০৭-২০১৮ Time:৫:৩৩ অপরাহ্ণ


বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স

ক্রীড়া ডেস্ক: ১৯৯৮ সালের পর দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপের শিরোপা জিতল ফ্রান্স। গতকাল রাতে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলের ব্যবধানের হারিয়ে শিরোপা জিতেছে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স।

ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম মাত্র তৃতীয় ব্যক্তি, যিনি খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জিতলেন। প্রথম দুজন মারিও জাগালো ও ফ্রেঞ্জ বেকেনবাওয়ার।

বিশ্বকাপের ফাইনালটাও হলো ফাইনালের মতো। কেউ কাউকে ছাড় দেওয়ার মতো নয়। উত্তেজনাকর ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া একদমই পাত্তা পেলো না ফ্রান্সের কাছে। কিলিয়ান এমবাপে, পগবা, গ্রিজম্যানদের লক্ষ্যভেদই ফ্রান্সকে এনে দেয় দ্বিতীয় শিরপো।

অন্যদিকে, ম্যাচটি হারার জন্য বোধহয় ভাগ্যকেও কিছুটা দুষতে পারেন ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলাররা। কেননা তারা ফ্রান্সকে একটি গোল ভিএআরের মাধ্যমে এবং একটি আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে মোট দুটি গোল উপহার দেন।

ম্যাচের ১৮ মিনিটে মারিও মানজুকিচের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে গেছে ফ্রান্স। বক্সের সামনে ক্রোয়েশিয়ার ব্রোজোভিচ আঁতোয়ান গ্রিজমানকে ফাউল করায় ফ্রি-কিক পেয়েছিল ফ্রান্স। গ্রিজমানের ফ্রি-কিকে বক্সের ভেতর থেকে হেডে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন মানজুকিচ। গোলরক্ষক দানিয়েল সুবাসিচের করার ছিল না কিছুই। বিশ্বকাপের ফাইনালে আত্মঘাতী গোল করা প্রথম খেলোয়াড় মানজুকিচ। এই মানজুকিচই সেমিফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে তুলেছিলেন।

এরপর ২৮ মিনিটে ইভান পেরিসিচের দারুণ গোলে ১-১ সমতায় ফিরেছে ক্রোয়েশিয়া। গোলটা ছিল দলীয় প্রচেষ্টার ফসল। ফ্রি-কিক থেকে আসা বল বক্সের ভেতর ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয়েছিল ফ্রান্স। মানজুকিচের হেড থেকে আরেকটি হেডে বল পেরিসিচের সামনে নামান ভিদা। জায়গা করে নিয়ে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান পেরিসিচ।

কিন্তু ভাগ্য সহায়তা হয়নি ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে। গ্রিজমানের কর্নার থেকে উড়ে আসা বল বক্সের ভেতর ফ্রান্সের মাতুইদি হেড করতে ব্যর্থ হন। বল লাগে তার পেছনেই থাকা পেরিসিচের হাতে। রেফারি যদিও প্রথমে পেনাল্টি দেননি। অনেক সময় নিয়ে ভিডিও রিপ্লে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান আর্জেন্টাইন রেফারি।
৩৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ফ্রান্সকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়েছেন গ্রিজমান।

এরপর প্রথমার্ধের খেলা ২-১ গোলের ব্যবধানে শেষ হয়।

৫৯ মিনিটে আবারো এগিয়ে যান ফ্রান্স। মাঝ মাঠের অর্ধ থেকে পল পগবা কাইলিয়ান এমবাপে পাস দেন। এমবাপে পাস দেন গ্রিজমানকে। তিনি আবার বল দেন পগবাকে। তার শট প্রথমে ব্লক করেছিলেন ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার ভিদা। ফিরতি বল পেয়ে জোরালো শটে জালে পাঠান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মিডফিল্ডার।

গোল খেয়ে যেন খেই হারিয়ে ফেলে ক্রোয়েশিয়া। এই সুযোগে আরো এক গোল করে বসে এমবাপে। ৬৫ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে এই বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন এমবাপে। কিংবদন্তী ফুটবলার পেলের পর দ্বিতীয় তরুণ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করলেন এই পিএসজি তারকা।

বিশ্বকাপ গোলরক্ষকদের জন্য অভিশাপ হয়েই রইল। ফর্মের তুঙ্গে থাকা গোলরক্ষকরা শিশুসুলভ ভুল করলেও বাকি ছিলেন ফ্রান্সের হুগো লরিস। ফাইনালের মঞ্চে তিনিও দৃষ্টিকটু ভুল করে বসেন। ৬৯ মিনিটে ফ্রান্সের ডিফেন্ডার লরিসকে ব্যাক পাস দেন। কিন্তু রক্ষণমুখে থাকা মানজুকিচকে কাটাতে গিয়ে তার পায়ে লেগে গোল খেয়ে বসে ফ্রান্স।

বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে এক ম্যাচে আত্মঘাতী গোল এবং দলের পক্ষে গোল করলেন মানজুকিচ। ম্যাচের শেষ দিকে গোল শোধের অনেক চেষ্টা করলেও আর তেমন কোন সুযোগই তৈরি করতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। ফলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় ফ্রান্স।