রেল ওয়ের ৯৪০৯ দশমিক ৬২ একর জায়াগা অবৈধ দখলে

rall wayনজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম অফিস। চট্টগ্রাম বিভাগেরর বিভিন্ন জায়গায় ও চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকার সেগুনবাগান মোড়ে রেলওয়ের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে অর্ধশতাধিক ঘর নির্মান করা হয়েছে। সরকারি দলের কথিত সমর্থকেরা এই অবৈধ কাজে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, সরকারি দলের কর্মী-সমর্থকেরা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সেগুনবাগান এলাকায় অবৈধ বসতি গড়ে তোলেন। একেকটি ঘরের ভিটার জন্য ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। রাতারাতি সেখানে অন্তত ২৬টি পরিবারের বসতি গড়ে উঠেছে। অবৈধ বসবাসকারীরা জানান, আওয়ামী লীগ-সমর্থক সৈয়দ মোস্তফা কামাল সেগুনবাগান এলাকায় ঘরবাড়ি বানিয়ে দিতে সহযোগিতা করেন। বিনিময়ে তিনি টাকা নেন বলে নাম প্রকাশ না করে একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম রেল ওয়ে ভূ-সম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা যায় ঢাকা চট্টগ্রাম এলাকায় বাংলাদেশ রেল ওয়ের জমি রয়েছে ২৪৪৪০ দশমিক ৯৩ একর, এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৬ হাজার চারশ ৩৯ দশমিক ৯৩ একর । চট্টগ্রাম বিভাগে ৭হাজার ৭শ এক একর জমি রয়েছে। বর্তমান রেল ওয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ১৫ হাজার ৩১ দশমিক ৩১ একর জায়গা। বাকী জায়গা ৯হাজার ৪শ ৯ দশমিক ৬২ একর জায়গা অবৈধভাবে দখলে রয়েছে। চট্টগ্রাম রেল ওয়ের ভূ সম্পত্তি বিভাগের সহাকারী কর্মকর্তা আমেনা বেগম জানান আমরা অবৈধ জায়গা উদ্ধার করার জন্য বিভিন্ন সময় অভিযান করছি তবুও আমার উচ্ছেদ করার পর একটি চক্র আবার দখল করে নেয়। অভিযোগ প্রসঙ্গে সৈয়দ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘টাকা নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা কথা। আমি বাস্তুহারা অবাঙালি এক মহিলাকে সহযোগিতা করেছি। কোথাও থাকার জায়গা নেই বলে তাঁর বসতঘর বানিয়ে দিয়েছি। এ ছাড়া আরও অনেক বসতঘর গড়ে উঠেছে, যেখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লোকজন বসবাস করে আসছে। সেগুলোর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’নগরীর পশ্চিম মাদও বাড়ী এলাকার আহমদ নুর নামের এক ব্যাক্তি বলেন, আমি বৈধভাবে একটি জায়গা লীজ নিয়েছি অনেক আগে সিআরবির কিছু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীর সহযোগিতায় আমার জায়গা রাতের আধাঁরে স্থানীয় এয়াকুব আলী নামের এক ব্যাক্তি সাইন বোর্ড লাগিয়ে দেয়। বিষয়টি রেল কতৃপক্ষেকে জানানো হলেও তারা কোন কাজ করেনি। সিআরবির জিএম মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা ইতিমধ্যে অনেক অবৈধ জায়গা উদ্ধার করেছি। কিন্তু জায়গাগুলো উদ্ধার করার কয়েক দিনের মধ্যে একটি চক্র আবার দখল করে নয়ে। সৈয়দ মোস্তফা কামাল নিজেকে পাহাড়তলী ইউনিট আওয়ামী লীগের নেতা দাবি করে বলেন, ‘অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কাজ। এক জনকে সহযোগিতা করে খারাপ কাজ তো কিছু করিনি।’ রেলওয়ের কর্মচারী কামালউদ্দিন বলেন, সেগুনবাগান এলাকার সৌন্দর্য নষ্ট করে দিচ্ছে অবৈধ বসবাসকারীরা। প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এক বছরের মধ্যে এই এলাকায় অনেকগুলো ঘর বানানো হয়েছে। প্রভাবশালীরা সব সময় সরকারি দলের লোকজন হিসেবে পরিচয় দেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে বাঙালি ও অবাঙালি ৩০-৩৫টি পরিবার বসতি স্থাপন করেছে। তাঁদের মধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাচালক, ইট ব্যবসায়ী, দিনমজুর রয়েছেন। ভিটায় ঘর বানানোর জন্য এককালীন টাকা দিয়ে দেওয়ায় মাসিক ভাড়া দিতে হয় না বলে বসবাসকারীরা জানিয়েছে। তবে অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগের জন্য মাস শেষে নির্দিষ্ট হারে বিল পরিশোধ করতে হয়। ইট ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বিশ্বাস বলেন, ‘আমি ছয় সন্তান নিয়ে একটি ঘরে বসবাস করি। অনেক আগেই নিজে ঘরটি বানিয়েছিলাম। এখন টাকা ছাড়া তো ঘর বানানো যায় না।’ রেলের আরেক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করে বলেন, এ বছর সেগুনবাগান মোড়ে সবচেয়ে বেশি বসতঘর বানানো হয়েছে। প্রতিটি বসতঘরের ভিটার জন্য ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন সরকারি দলের লোকজন। তাঁরা আওয়ামী লীগের আমলে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির আমলে বিএনপি পরিচয় দেন।