খালেদা জিয়া কোর্টে যাবেনা , কোর্টে গেলে ধরা খাবে : প্রধানমন্ত্রী

সরকারি কর্মচারীদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

 

নিউজ ডেস্ক   ::     সোমবার সন্ধ্যায় সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের প্রারম্ভিক বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে  বলেন বাইরে নানান কথা শোনা গেলেও প্রকৃতপক্ষে কারাগারে তিনি ভালোই আছেন।  । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এফবিআই তো বসেই আছে সাক্ষী দেওয়ার জন্য।

সে (খালেদা জিয়া) কোর্টেই যাবে না। কারণ জানে, কোর্টে গেলে ধরা খাবে। ওই যে কোর্ট আসলেই অসুস্থ, কোর্টের ডেট শেষ হলে তো আবার ভালো থাকে। ভালোই তো খানাপিনা, কোনো দিকেই তো আমি কম দেখছি না। খোঁজ-খবর তো আমরা রাখি। বরং তাঁকে মেড সারভেন্ট দেওয়া হয়েছে। তাঁর জন্য স্পেশাল খাট, স্পেশাল গদি কোনো কিছুতেই কমতি নাই। এয়ার কনডিশন, সবই ব্যবস্থা তাঁর জেলখানায়। তো যা যা চাচ্ছে তাই পাচ্ছে।

এ রকম আয়েশ করে তো আর কেউ পায়েস খেতে পারে নাই। যেটা উনি খাচ্ছেন। আমার কথা হচ্ছে, এ রকম নটংকিপানা করা হচ্ছে সেটাও তো একটা বিষয়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির শাসনামলের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপির শাসনামলে আমরা দেখেছি যে, কিভাবে আমাদের নির্বাচনের সময় বাধা দেওয়া হতো, আমাদের দলের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার, জুলুম করা হতো। তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমরা এটাও দেখেছি যে, তারা (বিএনপি) ঠাণ্ডা মাথায় মানুষ খুন করতে পারে। আগুনে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা- সেটাও আমরা দেখেছি।’

এজন্যই সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটতে পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি তাঁর নির্দেশ ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের (বিএনপি) মিছিলে তিনটা ককটেল ফুটল, পরবর্তীতে দেখা গেল তাদের নিজেদেরই ভাষায় বেরিয়ে আসলো, এটা নিজেরাই করেছে। শুধু আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করার জন্য। সরকার প্রধান বলেন, তারাই ঘটনাটি ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দোষারোপ করে এবং সেটাকে ব্যাপকভাবে প্রচার করে আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি অভিযোগ করেন, বিএনপির এই অভ্যাসটা আছে- নিজেরাই বোমা মারবে, নিজেরাই গাড়ি ভাঙবে, তারপর অন্যের নাম দেবে।

এই মিথ্যাচারে বিএনপির সঙ্গে কেউ পারবে না। তারা একটা নাটক সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়- এটাই তাদের চরিত্র, যোগ করেন তিনি। শেখ হাসিনা ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপির সন্ত্রাস-নৈরাজ্য এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা, বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের ওপর দমন-পীড়ন, বোমা ও গ্রেনেড হামলাসহ সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এসএম কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টার এবং আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল ইমাম হত্যার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।

তাঁর সরকারের সময়ে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন করে লাভ নাই। আমরা ছাড়তে পারব না, যতক্ষণ না আদালত তাঁকে ছাড়ে। শেখ হাসিনা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ১০-১১ বছর আদালতে মামলা চলল, তাদের বাঘা বাঘা আইনজীবীরা সব ব্যর্থ হয়ে গেল এটা প্রমাণ করতে যে, খালেদা জিয়া অর্থ আত্মসাৎ করেন নাই।

এখন আমাদের দোষ দিয়ে লাভ কি? প্রধানমন্ত্রী এদিনের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় আরো বলেন, সাংগঠনিক সম্পাদকদের কাছ থেকে রিপোর্ট নিয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুত করতে হবে। আর ২০১৪ সালের যে নির্বাচনী ইশতেহারের কতটুকু আমরা বাস্তবায়ন করতে পারলাম সেটা পর্যালোচনা করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, তবে আমি এটুকু বলতে পারি, যে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছিলাম তার চাইতে বেশি কাজ আমরা করেছি। আর আগামীতে বাংলাদেশটাকে আমরা কিভাবে দেখতে চাই তার প্রতিফলন থাকবে আগামী ইশতেহারে।

প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়কে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে পালনের তাঁর সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেন। আর ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপিত হবে। এজন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
মর্নিংসান/এসএ