মর্নিংসান২৪ডটকম Date:১২-১১-২০১৪ Time:৫:০১ অপরাহ্ণ


Logo-1415682608ঢাকা অফিস: জাহাজ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আনন্দ শিপইয়ার্ডের ১৩শ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ৯ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুদকের কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। তা বিকেল পর্যন্ত চলবে।
দুদকের উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি দল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বুধবার যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তারা হলেন- ব্যাংকের সিাবেক এসভিপি (বর্তমানে বরখাস্তকৃত) মো. নুরুল ইসলাম, কারওয়ান বাজার শাখার ভিপি কাজী মঈনুদ্দীন খাদেম, মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, এভিপি মো. মুসলেহ উদ্দিন, ভিপি (গুলশান সার্কেল-১) মো. আলিমুর রহমান, এভিপি মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. মনির হোসেন, অফিসার এ কে এম বোরহান উদ্দিন ও ব্যাংকের ঢাকা সেন্ট্রাল জোনের ডিজিএম ইঞ্জিনিয়ার মো. আবুল বাশার। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তলব করে একটি নোটিশ দেয়া হয়। নোটিশে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানসহ ২৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে। আজ জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ৯ জনকে। পর্যায়ক্রমে ১৩ এবং ১৬ নভেম্বর বাকিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, জাহাজ রপ্তানির নামে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আনন্দ শিপইয়ার্ড দেশের ১২টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১৩শ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। জাহাজ নির্মাণের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও পর্যাপ্ত জামানত ছাড়া এসব ঋণ দেয়া হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটিকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে। আনন্দ শিপইয়ার্ড ৭টি ব্যাংকের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখা থেকে ৪৫৬ কোটি ৩৪ লাখ, এবি ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখা থেকে ১৮৬ কোটি ৯০ লাখ, ওয়ান ব্যাংকের মতিঝিল শাখা থেকে ১১৪ কোটি ২১ লাখ, জনতা ব্যাংকের স্থানীয় শাখা থেকে ২৩৮ কোটি ৮ লাখ, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন শাখা থেকে ২২১ কোটি ২০ লাখ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) প্রধান শাখা থেকে ২৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং এনসিসি ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফিনিক্স ফাইনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে ২৩ কোটি ১৮ লাখ, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসিএল) থেকে ১ কোটি ৯৪ লাখ, আইডিএলসি ফাইন্যান্স অ্যান্ড লিজিং কোম্পানি থেকে ৩ কোটি ৭২ লাখ, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড (পিএলএফএল) থেকে ৩ কোটি এবং ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (এনএইচএফআইএল) থেকে ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকার ঋণ নেয়া হয়েছে। এছাড়া ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (এফএফআইএল) ও হজ ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (এইচএফসিএল) থেকেও ঋণ নেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের টাকা পরিশোধ করছে না আনন্দ শিপইয়ার্ড। সুদের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঋণের পরিমাণও বাড়ছে। জানা গেছে, সময়মতো জাহাজ রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি- এ অজুহাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে না। এ কারণে ওইসব ঋণকে শ্রেণীবিন্যাসিত ঋণ হিসেবে মন্দ ও ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস বিভাগের তদন্তে জাহাজ রপ্তানির নামে প্রতারণা এবং জালিয়াতি করে ১৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১৬শ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত এপ্রিলে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দুদকে পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিবেদনে ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও আনা হয়। দুদকের উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি টিম ঋণ জালিয়াতির বিষয়ে অনুসন্ধান করছে।
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর আনন্দ শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান ড. আবদুল্লাহেল বারী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা বারীকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

 




আফগানিস্তানে তালেবান হামলায় ১৫ পুলিশ নিহত
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ফ্যাশন সচেতনতা বাড়ছে : সাংবাদিক শুকলাল দাশ
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৪০টি স্বর্ণের বারসহ দুই কর্মচারী আটক
চিটাগাং মেট্টোপলিটন শপ্ ওনার্স এসোশিয়েশনের মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
ইসলামী ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ
বিনিয়োগে প্রথম পছন্দ চট্টগ্রাম শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক
ইসলামী ব্যাংকের ৯ কর্মকর্তাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ
বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ব্যাংক এশিয়া চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন
শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ৮২টি সোনার বার উদ্ধার