মর্নিংসান২৪ডটকম Date:১৫-০৯-২০১৮ Time:৫:২১ অপরাহ্ণ


সম্পদের সুষ্ঠু এবং টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে সকল মানুষের জন্য খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানসহ মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হলে আমাদের সম্পদের সুষ্ঠু এবং টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কি পেলাম, কি পেলাম না, তার চিন্তা না করে আগামী প্রজন্ম যেন সুন্দর জীবন পায় সেই লক্ষ্য নিয়ে আমাদের দেশকে আগে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে সকলকে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করার জন্য আমি আহবান জানাচ্ছি।’

শনিবার সকালে গণভবনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) ২২তম জাতীয় কনভেশনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আহ্বান জানাবো, অনেক বছর আমাদের নষ্ট হয়ে গেছে। পঁচাত্তর থেকে ’৯৬ সাল- ২১ বছর হারিয়ে গেছে। এই ২১ বছর প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। উন্নতি হয়েছে ক্ষমতাসীন যারা ছিলো তাদের, মুষ্টিমেয় কিছু গোষ্ঠীর। বৃহৎ জনগোষ্ঠী বঞ্চিত ছিলো।

ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। কারণ মাঠ পর্যায়ে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন এবং গুণগত মান বজায় রাখার দায়িত্ব তাদের উপরই বর্তায়। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘর-বাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা, মিল-কারখানা নির্মাণ ও স্থাপনের দায়িত্ব প্রকৌশলীদের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০০টির কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া ৪টি সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ও ২৩টি বিশ্বমানের নতুন পলিটেকনিক স্থাপনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই দেশকে স্বাধীন করেছি তাই একে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবেই আমরা গড়ে তুলবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমডিজি বাস্তবায়নে সফল হয়েছি। ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে আমরা এসডিজির বিভিন্ন অভীষ্ট অর্জনে কাজ করে যাচ্ছি। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনেও আমরা সফল হবো, ইনশাআল্লাহ।

‘আমরা শত বছরের ডেল্টা প্ল্যান বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে এক টেকসই উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।’

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ কার্যক্রম গতিশীল করার কথাও উল্লেখ করেন।

আইডিইবি সভাপতি প্রকৌশলী একেএমএ হামিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমান সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থল থেকে কাকরাইল আইডিইপি ভবনের উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ কাজ এবং ভবনটির সম্মুখে রক্ষিত স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে একজন মরনোত্তরসহ তিনজনকে এ বছরের আইডিইবি স্বর্ণপদক প্রদান করেন। এরা হচ্ছেন- আব্দুল কাদের সরকার, সৈয়দ উদ্দীন আহমেদ ওরফে ছটকু আহমেদ এবং মরহুম মো. সফর আলী মিয়া (মরনোত্তর)।

স্বর্ণপদক প্রাপ্তরা প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পদক, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন। এদের মধ্যে মরহুম সফর আলী মিয়ার পক্ষে তার বড় ছেলে এটিএম মোজাহারুল হোসেন পদক গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসসদস্য, সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষাবিদ, বিদেশি কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, আমন্ত্রিত অতিথি এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সারাদেশের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের সংগঠন আইডিইবি’র তিনদিন ব্যাপী ২২তম জাতীয় কনভেনশন উদ্বোধন করেন।