মর্নিংসান২৪ডটকম Date:১১-১০-২০১৮ Time:৬:৪৫ অপরাহ্ণ


বাংলাদেশে ব্যবহৃত ৯২ শতাংশ পানিই দূষিত: বিশ্বব্যাংক

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ব্যবহার করা প্রায় ৯২ শতাংশ পানিই দূষিত। পানির উৎস ও ব্যবহার সংক্রান্ত এক গবেষণাপত্রে এ তথ্য জানিয়েছে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানী ঢাকায় সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়।

গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশে ব্যবহার করা প্রায় ৯২ শতাংশ পানিই দূষিত। এর মধ্যে পান করার ৪১ শতাংশ পানিতেই রয়েছে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া। আর ১৩ শতাংশ পানি আর্সেনিকযুক্ত। এছাড়া শহরগুলোতে ৫২ শতাংশ পানি পাইপলাইনে সরবরাহ করা হলেও তা সঠিক মাত্রায় শোধন করা হয় না।

সংস্থাটি বলছে, বিশুদ্ধ পানির আরেক নাম যেমন জীবন তেমনি মানুষের মৃত্যুও সবচেয়ে বেশি হয় দূষিত পানির কারণে। এছাড়া বিশুদ্ধ পানির অভাব অতি দ্রুত দারিদ্র্য বাড়ানোরও একটি কারণ।

বিশ্বব্যাংকের গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে। তাই দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি জরুরি নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট চলছে। নলকূপ বা উপরিভাগ পানির সব কয়টি উৎসই এখন ঝুঁকিতে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জর্জ জোসেফ বলেন, এখনই বিশুদ্ধ পানির উৎসের প্রতি সচেতন না হলে ভষ্যিতে ভয়াবহ পরিণতির শিকার হতে হবে।

বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আরও গতিশীল হবে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পানিতে ই. কোলাই ব্যাক্টেরিয়া থাকায় এবং স্যানিটেশন সমস্যার কারণে এক-পঞ্চমাংশ দরিদ্র মানুষ পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দরিদ্র্, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত অর্থাৎ শহর ও গ্রামের প্রায় সবাই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে শহরে বস্তিতে বাস করা লোকজনের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে এখন ৯৮ শতাংশ মানুষের কাছে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু এর চেয়ে প্রধান সমস্যা হল সবার কাছে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। কিন্তু সেটি সম্ভব হচ্ছে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের পাঁচ কোটি মানুষ টয়লেট শেয়ার করেন। অর্থাৎ একাধিক পরিবারের লোকজন একটি টয়লেট ব্যবহার করেন। এ সংখ্যা গ্রামে যেমন রয়েছে, তেমনি শহরেও রয়েছে। তবে শহরে বস্তি এলাকায় টয়লেট শেয়ারের সংখ্যা গ্রাম এলাকার লোকজনের তুলনায় তিনগুণ বেশি। ফলে এসব লোকজন নানা প্রকার রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশে ভুগর্ভস্থ পানির ১৩ শতাংশে আর্সেনিক রয়েছে। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে এই হার বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে পানিতে আর্সেনিকের পরিমান বাড়ছে।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর শিরিন ঝুমা বলেন, ‘স্যানিটেশন ও পানিজনিত সমস্যার কারণে বাংলাদেশের অনেক শিশু যথাযথভাবে বিকশিত হচ্ছে না। পাঁচ বছর বয়সের নিচের শিশুরা সবচেয়ে বেশি পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশকে পানি ও স্যানিটেশন সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এ জন্য বিশ্বব্যাংক সব ধরনের সহায়তা করবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর শিরিন ঝুমা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রুখসানা কাদের।