বর্ধমানকান্ডে জড়িত জঙ্গিদের তালিকা দিয়েছে এনআইএ

NSIaঢাকা অফিস: ভারতের বর্ধমানে বিস্ফোরণসহ দুএকটি ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজন জঙ্গির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে দিয়েছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। আজ সোমবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এনআইএর প্রতিনিধিদল। বৈঠক চলার সময় বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের হাতে নামগুলো দেওয়া হয়।
বর্ধমানের খাগড়াগড়ের ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশি জঙ্গি গোষ্ঠী জড়িত কিনা, তা জানতে আজ ঢাকায় এসেছেন এনআইয়ের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তাঁরা দুই দিনের সফরে এসেছেন।বৈঠকে উপস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম পরে সাংবাদিকদের বলেন, তারা কয়েকটি নাম দিয়েছেন। সেগুলো ভারতীয় না বাঙালি তা নিশ্চিত নয়। কারণ একেকজন জঙ্গির ১০০ নামও থাকে। তবে এগুলো এখন যাচাই করা হবে মনিরুল আরও বলেন, জেএমবিসহ অন্য জঙ্গিরা যাতে এপাশে (বাংলাদেশ ) বা ওপাশে (ভারত) মাথাচাড়া দিতে না পারে, আশ্রয় নিতে বা ঘাঁটি গাড়তে না পারে, সেজন্যও আলোচনা হয়েছে।
এর আগে দুপুরেও প্রতিনিধিদলটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রসচিবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রসচিব মোজাম্মেল হক খান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ভারতের এই ঘটনায় তাঁরা (এনআইএ) মনে করেন দুষ্কৃতকারীরা ভারতের লোকও হতে পারে, বাংলাদেশেরও হতে পারে। এ বিষয়ে তাঁরা সহযোগিতা চেয়েছেন। এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তাদের (এনআইএ) সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করবে।
গত ২ অক্টোবর ওই বোমা বিস্ফোরণে শাকিল আহমেদ ও সুবহান মণ্ডল নামের দুজন নিহত এবং আবদুল হাকিম নামের একজন আহত হন। তাঁরা জেএমবির সদস্য বলে প্রাথমিক তদন্তে এনআইএ জানতে পেরেছে। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সাজিদ নারায়ণগঞ্জের ফরাজীকান্দা এলাকার বাসিন্দা বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, এনআইএ এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও নদীয়া জেলায় ইসলামি রাষ্ট্র গড়ার ছক এঁকেছিল জেএমবি। বিস্ফোরণে জড়িত ১২ জনের চারজন বাংলাদেশের নাগরিক।