মর্নিংসান২৪ডটকম Date:০৫-১১-২০১৮ Time:১২:৪৪ অপরাহ্ণ


নিউজ ডেস্ক   ::       লালদীঘি ময়দানে সমাবেশে যাওয়ার পথে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা ঘটনার ৩০ বছর পার হচ্ছে। কিন্তু আজও শেষ করা যায়নি এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বিচার কাজ। বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এ বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুলের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি লালদীঘি ময়দানে সমাবেশে যাবার পথে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে নিহত হন ২৪ জন।

আহত হন প্রায় দু’শতাধিক মানুষ। নিহতরা হলেন-অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, পঙ্কজ বৈদ্য, মহিউদ্দিন শামীম, আব্দুল কুদ্দুস, হাশেম মিয়া, স্বপন কুমার বিশ্বাস, বদরুল আলম, ডিকে চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, পলাশ দত্ত, স্বপন চৌধুরী, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বিকে দাশ, হাসান মুরাদ, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, এথলেবারট গোমেজ কিশোর, মো. শাহাদাত, সমর দত্ত, মো. কাশেম, গোবিন্দ দাশ।

২৪ জানুয়ারি নিহতদের স্বরণে সিডিএ’র উদ্যোগে নির্মিত স্মৃতিসৌধ। ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে মামলাটির বিচার কাজ শুরু হয়। মামলার ১৬৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে প্রয়াত আইনজীবী শহীদুল হুদা বাদি হয়ে চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছিলেন।

মামলায় হত্যাকাণ্ডের সময় সিএমপি কমিশনারের দায়িত্বে থাকা মীর্জা রকিবুল হুদাকে প্রধান আসামি করা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে সিআইডি ১৯৯৭ সালের ১২ জানুয়ারি মীর্জা রকিবুল হুদাকে অভিযুক্ত করে।

১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় তদন্তের পর মীর্জা রকিবুল হুদাসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। অন্য অভিযুক্তরা হলেন- কোতোয়ালী জোনের তৎকালীন পেট্রল ইন্সপেক্টর (পিআই) জে সি মন্ডল, কনস্টেবল আব্দুস সালাম, মুশফিকুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, বশির উদ্দিন, মো.আব্দুল্লাহ ও মমতাজ উদ্দিন।

আদালতে দুই দফায় মামলার চার্জ গঠন করা হয়। এরপর ১৯৯৭ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০০০ সালের ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০১ সালের ১৭ মে থেকে ২০০৬ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। ২০০৯ সালের ২৫ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজ উদ্দিন দেওয়ানের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।

২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আদালতে উল্লেখযোগ্য কোন সাক্ষীকে হাজির করা যায়নি। ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি মামলাটি বিচারের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে আসে। ওই বছরের ২৬ মে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. অনুপম সেন ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সাক্ষ্য দেন।

এ মামলার সাক্ষী হিসেবে আরও আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী ও তোফায়েল আহমেদ। কিন্তু নানান জটিলতায় সবার সাক্ষ্যগ্রহণ করা যায়নি। আদালতে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় সরকারি মুসলিম হাইস্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমরা লালদীঘি ময়দানে সমাবেশ আহ্বান করেছিলাম। পতেঙ্গা বিমানবন্দর থেকে একটি খোলা ট্রাকে নেতাদের নিয়ে গাড়ি কোতোয়ালি মোড় পার হতেই পুলিশ নির্বিচারে গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করে। শেখ হাসিনাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে সেদিন গুলি চালানো হয়েছিল।

ভাগ্যক্রমে গায়ে লাগেনি। বিনা উসকানিতে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিহতদের স্মরণে আদালত প্রাঙ্গণের প্রবেশ মুখে সিডিএ’র উদ্যোগে পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কাজ শুরু হয় গত ২ ফেব্রুয়ারি। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে এই স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ পর্যন্ত ৪৬ জন সাক্ষী দিয়েছেন।

প্রধান আসামি মীর্জা রকিবুল হুদার আইনজীবী তার মৃত্যু সনদ দাখিল করায় আদালত পুলিশ প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে দেয়া পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, টাঙ্গাইলের মীর্জা রকিবুল হুদা আমেরিকা চলে যাওয়ায় তিনি জীবিত না মৃত তা জানা যায়নি। পরে বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে আসামির কাছে চিঠি পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

এখনও এ ব্যাপারে কোনো প্রতিবেদন আসেনি বলেও জানান অ্যাডভোকেট মেজবাহ। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মামলাটির শেষ দেখতে চেয়েছেন। প্রকাশ্যে এ রকম নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চট্টগ্রামবাসীও দেখতে চায়। তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনজীবীর সঙ্গে আমরা বসবো। তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ মামলাটির বিচারিক কাজ দ্রুত কীভাবে শেষ করা যায় তার কৌশল নির্ধারণ করা হবে।
মর্নিংসান/এস এ